
যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট থেকে নিম্নলিখিত দেশগুলোর বিবৃতি: the United Kingdom, France, Germany, Italy, the Netherlands, Japan ও Canada.
শেয়ার করুন
লেখক: Aleksandr Lytviak

যুক্তরাজ্য সরকারের ওয়েবসাইট থেকে নিম্নলিখিত দেশগুলোর বিবৃতি: the United Kingdom, France, Germany, Italy, the Netherlands, Japan ও Canada.
২০ মার্চ ২০২৬ তারিখে লন্ডন থেকে প্রকাশিত এক বিশেষ সংবাদে জানা গেছে যে, বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা রক্ষায় একজোট হয়েছে বিশ্বের শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো। যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, জাপান এবং কানাডা একটি শক্তিশালী যৌথ বিবৃতি প্রদান করেছে। এই দেশগুলো কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে তাদের সক্রিয় অবদানের কথা ঘোষণা করেছে।
ব্রিটিশ সরকারের দাপ্তরিক ওয়েবসাইটে আপলোড করা এই বিবৃতিতে রাষ্ট্রপ্রধানরা ইরানের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন। তারা বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর বর্বরোচিত আক্রমণ এবং বেসামরিক অবকাঠামো, বিশেষ করে তেল ও গ্যাস ক্ষেত্রগুলোতে হামলার তীব্রতম নিন্দা জানিয়েছেন। ইরানি সামরিক বাহিনী কর্তৃক এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখাকে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য একটি বড় হুমকি এবং আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার পরিপন্থী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, "আমরা এই প্রণালী দিয়ে নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সকল প্রচেষ্টায় অবদান রাখতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত।" এই জোটভুক্ত দেশগুলো অন্যান্য রাষ্ট্রগুলোর গৃহীত বিভিন্ন প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপগুলোকে সাধুবাদ জানিয়েছে। একই সাথে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা বা আইইএ (IEA) কর্তৃক কৌশলগত তেলের মজুদ বাজারে ছাড়ার যে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তাকেও তারা পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং দামের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তারা প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর সাথে নিবিড়ভাবে কাজ করার পরিকল্পনা করছে।
এই কূটনৈতিক পদক্ষেপটি ইউরোপীয় দেশগুলোর পূর্ববর্তী অবস্থানের তুলনায় একটি বিশাল এবং তাৎপর্যপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। এর আগে অনেক ইউরোপীয় দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটে সরাসরি অংশ নিতে দ্বিধাবোধ করছিল এবং এই সংঘাতকে তাদের নিজস্ব সমস্যা হিসেবে দেখতে নারাজ ছিল। তারা মনে করত এটি তাদের যুদ্ধ নয়। কিন্তু ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষভাগে পরিস্থিতির নাটকীয় পরিবর্তন ঘটে। ইরানের ওপর সামরিক হামলার প্রতিক্রিয়ায় তেহরান যখন বিশ্বের মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের প্রধান রুটটি বন্ধ করে দেয়, তখন ইউরোপীয় দেশগুলো তাদের পূর্বের অবস্থান থেকে সরে এসে কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয়।
ভূ-রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা এই সিদ্ধান্তকে বিশ্ব বাণিজ্য এবং জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি অভূতপূর্ব কৌশলগত ঐক্য হিসেবে দেখছেন। বিবৃতিতে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় নৌচলাচলের স্বাধীনতা কোনো আপসযোগ্য বিষয় নয়, বরং এটি আন্তর্জাতিক আইনের একটি মৌলিক এবং অবিচ্ছেদ্য স্তম্ভ। এই অধিকার ক্ষুণ্ণ করা হলে তা কেবল সংশ্লিষ্ট অঞ্চল নয়, বরং সমগ্র বিশ্বের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করে। দেশগুলো মনে করে যে, এই সংকট নিরসনে সম্মিলিত প্রচেষ্টার কোনো বিকল্প নেই।
বর্তমান পরিস্থিতিতে এই সাতটি দেশের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার একটি সাহসী প্রয়াস। হরমুজ প্রণালী সচল রাখা কেবল বাণিজ্যিক স্বার্থেই নয়, বরং বৈশ্বিক সরবরাহ চেইন অক্ষুণ্ণ রাখার জন্যও অপরিহার্য। এই যৌথ উদ্যোগটি প্রমাণ করে যে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় বৈশ্বিক সংকটের মুখে নিজেদের ভেদাভেদ ভুলে একযোগে কাজ করতে সক্ষম। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং অর্থনৈতিক মন্দার ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
gov.uk/government