জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পশ্চিম আমেরিকার স্কি রিসোর্টগুলোতে তুষার সংরক্ষণের আধুনিক প্রযুক্তি

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তুষারপাতের ক্রমবর্ধমান অনিশ্চয়তা মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পশ্চিমাঞ্চলের স্কি রিসোর্টগুলো এখন অভিনভ 'স্নো ফার্মিং' বা তুষার সংরক্ষণ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছে। আইডাহোর বোগাস বেসিন এবং ইউটার সোলজার হলো নর্ডিক সেন্টারের মতো প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলো এই প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে তৈরি তুষারকে গ্রীষ্মকালেও ধরে রাখার চেষ্টা করছে। এই বিশেষ প্রক্রিয়ায় শীতকালে উৎপাদিত অতিরিক্ত তুষারকে বিশেষ ধরনের ইনসুলেশন ম্যাট দিয়ে ঢেকে রাখা হয়, যাতে পরবর্তী মৌসুমে তা ব্যবহার করা যায় এবং প্রতিকূল আবহাওয়াতেও স্কিইং কার্যক্রম সচল রাখা সম্ভব হয়।

বোগাস বেসিন এই পদ্ধতিতে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে এবং তারা জানিয়েছে যে, সংরক্ষিত তুষারের প্রায় ৮০ শতাংশই তারা টিকিয়ে রাখতে সক্ষম হয়েছে। গ্রীষ্মকালে তাপমাত্রা ১১৯ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত পৌঁছালেও, এই প্রযুক্তির কারণে তারা নভেম্বর মাসেই রিসোর্টটি উন্মুক্ত করতে পেরেছে। গত এপ্রিল মাসে সেখানে প্রায় ৩০ ফুট বা ৯ মিটার উঁচু তুষারের স্তূপ তৈরি করা হয়েছিল, যা বিশেষ প্যানেল দিয়ে ঢেকে রাখার ফলে হিমাঙ্কের কাছাকাছি তাপমাত্রায় স্থির ছিল। রিসোর্টটির উদ্ভাবন ও বিপণন পরিচালক অস্টিন স্মিথ এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অত্যন্ত আশাবাদী এবং নির্ধারিত সময়ে লিফট চালু রাখতে এই কর্মসূচি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা করছেন।

২০৩৪ সালের সল্টলেক সিটি শীতকালীন অলিম্পিকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে এই ধরনের প্রযুক্তিগত পদক্ষেপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ২০০২ সালের অলিম্পিক গেমসের ভেন্যু সোলজার হলো নর্ডিক সেন্টার ইতিমধ্যে 'স্নো সিকিউর' নামক তুষার সংরক্ষণ ব্যবস্থায় প্রায় ৩,০০,০০০ ডলার বিনিয়োগ করেছে। জেনারেল ম্যানেজার লুক বোডেনস্টেইনারের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তুষারের যে ঘাটতি দেখা গেছে তা তার অভিজ্ঞতায় সবচেয়ে ভয়াবহ, যা এই ধরনের অভিযোজনমূলক ব্যবস্থাকে অপরিহার্য করে তুলেছে। ২০৩৪ সালের ক্রস-কান্ট্রি স্কিইং এবং বায়থলন প্রতিযোগিতার জন্য স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিত করতে ২০৩৩ সালের গ্রীষ্মের মধ্যেই এই ব্যবস্থা আরও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ফিনল্যান্ডের উদ্ভাবিত 'স্নো সিকিউর' প্রযুক্তিটি বোগাস বেসিনে পরীক্ষামূলকভাবে সফল হওয়ার পর এখন ব্যাপক পরিচিতি পাচ্ছে। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে মৌসুমের শুরুতে কৃত্রিম তুষার তৈরিতে পানি এবং বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ গড়ে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। ফিনল্যান্ডের রুকা এবং লেভি অঞ্চলে দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি কাজের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন এই কোম্পানিটি তাদের নিজস্ব পেটেন্ট করা ইনসুলেশন সিস্টেম ব্যবহার করে। সামগ্রিকভাবে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে মার্কিন স্কি শিল্প ব্যাপক অর্থনৈতিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে; ওয়াটারলু বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, ২০০০ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে এই শিল্প প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার লোকসান গুনেছে।

তুষার ঘাটতি মোকাবিলায় কিছু রিসোর্ট বিকল্প পথও বেছে নিচ্ছে, যেমন কলোরাডোর উইন্টার পার্ক সিলভার আয়োডাইড ব্যবহার করে 'ক্লাউড সিডিং' বা কৃত্রিম মেঘ তৈরির প্রযুক্তি প্রয়োগ করছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র কয়েক দিনে প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত তুষারপাত ঘটানো সম্ভব। তুষার ব্যবস্থাপনার এই বহুমুখী প্রচেষ্টাগুলো মূলত পরিবর্তনশীল জলবায়ুর মধ্যে শীতকালীন ক্রীড়া এবং পর্যটন শিল্পকে টিকিয়ে রাখার এক নিরন্তর সংগ্রামের প্রতিফলন। এই উদ্ভাবনী কৌশলগুলো শুধুমাত্র একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য নয়, বরং বিশ্বজুড়ে জলবায়ু সংকটের মুখে থাকা পর্যটন কেন্দ্রগুলোর জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • NBC News

  • KPCW

  • TownLift, Park City News

  • SnowBrains

  • Utah Olympic Legacy Foundation

  • KSL.com

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।