উত্তর গোলার্ধের জন্য ২০২১ সালের শীতকালীন অয়নান্ত বা 'উইন্টার সলস্টিস' ২১ ডিসেম্বর, রবিবার সংঘটিত হয়েছিল, যা বছরের ক্ষুদ্রতম দিন এবং দীর্ঘতম রাতের প্রতীক। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি ঘটেছিল ১৫:০৩ জিএমটি/ইউটিসি সময়ে, যখন সূর্য মকরক্রান্তি রেখার উপর দিয়ে কিরণ দেয় এবং এর পরপরই দিনের আলোর দৈর্ঘ্য ক্রমান্বয়ে বাড়তে শুরু করে। এই মুহূর্তটি জ্যোতির্বিজ্ঞানের শীতকালের আনুষ্ঠানিক সূচনা নির্দেশ করে, যা ২০২৬ সালের মার্চ মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত স্থায়ী হবে।
এই মহাজাগতিক অবস্থানের মূল কারণ হলো পৃথিবীর অক্ষ তার কক্ষপথের সাপেক্ষে প্রায় ২৩.৫ ডিগ্রি কোণে হেলে থাকা, যার ফলে উত্তর গোলার্ধ সূর্য থেকে সর্বাধিক দূরত্বে অবস্থান করে। রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনিচ যেমনটি উল্লেখ করেছে, এই অক্ষীয় নতিই ঋতু পরিবর্তনের চালিকাশক্তি, যেখানে এই কোণটিই গ্রীষ্মকালে সূর্যকে সরাসরি উত্তর গোলার্ধে এবং শীতকালে দক্ষিণ গোলার্ধের দিকে নির্দেশ করে। জ্যোতির্বিজ্ঞানের এই সংজ্ঞাটি আবহাওয়াবিদদের সংজ্ঞার থেকে ভিন্ন, যারা সাধারণত ডিসেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে আবহাওয়া চক্রের ভিত্তিতে শীতকাল গণনা শুরু করেন।
এই বিশেষ দিনে, ভৌগোলিক অবস্থানের ভিত্তিতে দিনের আলোর দৈর্ঘ্যে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পরিলক্ষিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, লন্ডনে দিনের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৯ মিনিট এবং ৪২ সেকেন্ড, যেখানে সূর্যোদয় ঘটেছিল প্রায় ০৮:০৫ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হয়েছিল প্রায় ১৫:৫৪ মিনিটে। এই সময়কালে দিনের দৈর্ঘ্য গ্রীষ্মকালীন অয়নান্তের তুলনায় প্রায় নয় ঘণ্টা কম ছিল। আরও উত্তরে জন ও'গ্রোটসে দিনের দৈর্ঘ্য ছিল মাত্র ৬ ঘণ্টা ১৬ মিনিট এবং ৫৪ সেকেন্ড, অন্যদিকে দক্ষিণতম স্থান ট্রুরোতে তা ছিল ৮ ঘণ্টা ১ মিনিট এবং ৫৫ সেকেন্ড। যুক্তরাজ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত সূর্যাস্তের ঘটনাটি অয়নান্তের কয়েক দিন আগে, অর্থাৎ ডিসেম্বরের ১২ তারিখে ঘটেছিল, যা ঘড়ির সময়ের সাথে পৃথিবীর কক্ষপথের সামান্য অসঙ্গতির কারণে ঘটে।
এই ঘটনাটির বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন কিংস কলেজ লন্ডনের জ্যোতির্পদার্থবিদ্যা বিশেষজ্ঞ ডঃ শ্যাম বালাজি, যিনি বর্তমানে অ্যাস্ট্রোপার্টিকল ফিজিক্স এবং কসমোলজির উপর গবেষণা করছেন। ডঃ বালাজি ব্যাখ্যা করেছেন যে অয়নান্ত হলো সেই মুহূর্ত যখন সূর্যের আপাত গতি 'স্থির' হয়ে যায় এবং দিক পরিবর্তন করে পুনরায় উত্তর দিকে যাত্রা শুরু করে। ডঃ বালাজি পূর্বে ডার্ক ম্যাটার ক্যান্ডিডেট এবং মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রে ব্যাখ্যাতীত রাসায়নিক বিক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করেছেন, যা মহাবিশ্বের মৌলিক প্রশ্নগুলির সমাধানে আলোকপাত করে। তাঁর সাম্প্রতিক গবেষণায়, যা ফিজিক্যাল রিভিউ লেটার্সে প্রকাশিত হয়েছে, তিনি ডার্ক ম্যাটারের একটি ভিন্ন প্রকারের উপর আলোকপাত করেছেন যা WIMPs-এর চেয়ে অনেক কম ভরের হতে পারে এবং যা মিল্কি ওয়ের কেন্দ্রে হাইড্রোজেন গ্যাসের আয়নীকরণের জন্য দায়ী হতে পারে।
অয়নান্তের এই মুহূর্তটি, যা ল্যাটিন শব্দ 'সলস্টিটিয়াম' থেকে এসেছে যার অর্থ 'সূর্য স্থির', এটি একটি নির্দিষ্ট ক্ষণ মাত্র, যদিও এটিকে একটি পূর্ণ দিবস হিসেবে গণ্য করা হয়। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি পৃথিবীর কক্ষপথের উপবৃত্তাকার গতির কারণে প্রতি বছর একই তারিখে ঘটে না, যা জ্যোতির্বিজ্ঞানের ঋতুগুলোর দৈর্ঘ্যে সামান্য তারতম্য ঘটায়; উত্তর গোলার্ধে শীতকাল গড়ে ৮৯.০ দিন স্থায়ী হয়। ঐতিহাসিকভাবে, অনেক সংস্কৃতিতে এই সময়টিকে কেন্দ্র করে উৎসব পালিত হয়, যেমন স্ক্যান্ডিনেভিয়ান 'জুল' উৎসব, যা আধুনিক ক্রিসমাসের অনেক রীতিনীতির জন্ম দিয়েছে। এই দিনটি কেবল ক্ষুদ্রতম দিনের সূচনা নয়, বরং এটি আলোর ক্রমান্বয়ে প্রত্যাবর্তনেরও ইঙ্গিত দেয়, যা মানুষের দৈনন্দিন পরিকল্পনা এবং ঋতুগত সচেতনতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি মহাজাগতিক মাইলফলক।



