তিব্বত মালভূমিতে বিশ্বের সর্বোচ্চ পাম্পড-স্টোরেজ বিদ্যুৎ কেন্দ্র 'দাওফু' নির্মাণ শুরু করল চীন

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

চীন একটি যুগান্তকারী এবং বিশাল অবকাঠামো প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে, যা হলো দাওফু (Daofu) পাম্পড-স্টোরেজ পাওয়ার স্টেশন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এটি হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে উঁচুতে অবস্থিত হাইড্রো-অ্যাকুমুলেটিং বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এই বিশাল জ্বালানি কমপ্লেক্সটি সিচুয়ান প্রদেশের গার্জে তিব্বতি স্বায়ত্তশাসিত প্রিফেকচারের অন্তর্গত দাওফু কাউন্টিতে নির্মাণ করা হচ্ছে। তিব্বত মালভূমির এই দুর্গম অঞ্চলে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে চীন তার নবায়নযোগ্য জ্বালানি সক্ষমতাকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চাইছে।

সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪,৩০০ মিটার উচ্চতায় এই প্রকল্পের অবস্থান প্রকৌশলীদের জন্য এক বিশাল কারিগরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। এই অঞ্চলের চরম প্রতিকূল আবহাওয়া এবং মধ্য এশিয়ার বৈশিষ্ট্যপূর্ণ উচ্চ ভূমিকম্পপ্রবণতা বিবেচনায় নিয়েই এর নির্মাণ কাজ এগিয়ে চলছে। রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান ইয়ালং রিভার হাইড্রোপাওয়ার ডেভেলপমেন্ট কোম্পানি (Yalong River Hydropower Development Company) এই প্রকল্পের মূল উদ্যোক্তা। তারা ইয়ালংজিয়াং নদীর বিদ্যমান পরিচ্ছন্ন জ্বালানি নেটওয়ার্কের সাথে এই নতুন স্টেশনটিকে একীভূত করছে। দাওফু মূলত একটি বিশাল 'জল ব্যাটারি' বা ওয়াটার ব্যাটারি হিসেবে কাজ করবে, যা জাতীয় গ্রিডের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কার্যপ্রণালী অত্যন্ত আধুনিক। যখন সৌর বা বায়ু শক্তির মতো নবায়নযোগ্য উৎস থেকে অতিরিক্ত বিদ্যুৎ উৎপাদিত হবে, তখন সেই উদ্বৃত্ত শক্তি ব্যবহার করে পানিকে নিচের জলাধার থেকে উপরের জলাধারে পাম্প করে তোলা হবে। পরবর্তীতে যখন বিদ্যুতের চাহিদা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, তখন সেই সঞ্চিত পানি ছেড়ে দিয়ে টারবাইন ঘোরানোর মাধ্যমে স্থিতিশীল বা 'ফার্ম' এনার্জি উৎপাদন করা হবে। প্রকল্পের কারিগরি দিকগুলোও বেশ চমকপ্রদ: স্টেশনের মোট উৎপাদন ক্ষমতা হবে ২,১০০ মেগাওয়াট, যা ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ছয়টি রিভার্সিবল টারবাইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এর দৈনিক শক্তি সঞ্চয় ক্ষমতা দাঁড়াবে প্রায় ১২.৬ গিগাওয়াট-ঘণ্টা (GWh)।

এই প্রকল্পে মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ১৫.১ বিলিয়ন ইউয়ানেরও বেশি, যা বৃহৎ আকারের জ্বালানি সঞ্চয় প্রযুক্তির উন্নয়নে চীনের অগ্রাধিকারকে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে। দাওফু প্রকল্পটি চীনের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি কৌশলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ, যার লক্ষ্য হলো নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো এবং জাতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের নির্ভরযোগ্যতা বৃদ্ধি করা। উল্লেখযোগ্য যে, এই কেন্দ্রটি উচ্চতার দিক থেকে আগের রেকর্ডধারী ইয়ামঝো ইয়ুমকো (Yamzho Yumco) স্টেশনকে ৭০০ মিটারে ছাড়িয়ে যাবে। ২০২৬ সালের মধ্যে এই প্রকল্পটি চালু করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী বৃহৎ আকারের জ্বালানি সঞ্চয়কারী দেশ হিসেবে চীনের অবস্থানকে আরও সুসংহত করবে।

তিব্বত মালভূমির অত্যন্ত জটিল ভূখণ্ড এবং কঠোর জলবায়ুর মধ্যে এই ধরনের অবকাঠামো গড়ে তোলা আধুনিক প্রকৌশলবিদ্যার এক অনন্য নিদর্শন। দাওফু প্রকল্পটি কেবল জ্বালানি খাতের একটি অর্জন নয়, বরং এটি একটি বিশাল প্রকৌশলগত সাফল্য হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের প্রভাবে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে উন্নত পরিবহন ব্যবস্থা ও অন্যান্য অবকাঠামোগত সুযোগ-সুবিধা তৈরি হবে। ঐতিহাসিকভাবে দেখা গেছে যে, এ ধরনের বৃহৎ প্রকল্পগুলো তিব্বতের স্থানীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।

4 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Clarin

  • Clarín

  • Vozpópuli

  • Click Oil and Gas

  • El Ecosistema Startup

  • Startup Community

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।