গুগল জেমিনিতে সিন্থআইডি এবং সি২পিএ যুক্ত করে এআই উৎসের যাচাইকরণকে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করল

সম্পাদনা করেছেন: Veronika Radoslavskaya

গুগল এখন তাদের নিজস্ব প্রযুক্তি সিন্থআইডি (SynthID)-এর জলছাপ শনাক্তকরণের ক্ষমতা সরাসরি জেমিনি অ্যাপ্লিকেশন এবং এর ওয়েব ইন্টারফেসে যুক্ত করেছে। এই বিশাল পরিবর্তন, যা ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষের দিক থেকে কার্যকর হতে শুরু করেছে, দৃশ্যমান মাধ্যমের উৎস যাচাইকরণকে সাধারণ ব্যবহারকারীদের হাতের মুঠোয় এনে দিয়েছে। এখন থেকে সাধারণ মানুষ অনলাইনে দেখা যেকোনো ছবির উৎস সম্পর্কে সক্রিয়ভাবে প্রশ্ন করতে পারবেন। ব্যবহারকারীরা এখন জেমিনিতে একটি ছবি আপলোড করে সরাসরি জিজ্ঞাসা করতে পারবেন যে ছবিটি গুগলের এআই দ্বারা তৈরি কিনা, যার মাধ্যমে ছবির মধ্যে থাকা অদৃশ্য, এআই-এমবেডেড সংকেত বিশ্লেষণ করা সম্ভব হবে।

মূলত ইমেজেন মডেলগুলির জন্য চালু করা সিন্থআইডি প্রযুক্তিটি এআই-সৃষ্ট কনটেন্টের পিক্সেল কাঠামোর মধ্যে এমন চিহ্ন গেঁথে দেয় যা ক্রপিং বা কম্প্রেশনের মতো সাধারণ পরিবর্তন সত্ত্বেও অত্যন্ত দৃঢ় থাকে। এই প্রযুক্তি ব্যবহার করে আজ পর্যন্ত ২০ বিলিয়নেরও বেশি কনটেন্টে জলছাপ দেওয়া হয়েছে। পূর্বে, সিন্থআইডি ডিটেক্টর পোর্টালটি মূলত সাংবাদিক এবং মিডিয়া পেশাদারদের জন্য একটি বিশেষ সরঞ্জাম হিসেবে কাজ করত। এই কারণে, জেমিনি ইকোসিস্টেমের বৃহত্তর পরিসরে এর একীকরণকে সকলের জন্য কনটেন্ট যাচাইকরণের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পথে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এই অদৃশ্য চিহ্নের পাশাপাশি, গুগল একই সাথে সি২পিএ (Coalition for Content Provenance and Authenticity) কনটেন্ট ক্রেডেনশিয়াল মেটাডেটাও জেমিনি, ভার্টেক্স এআই এবং গুগল অ্যাডসের মাধ্যমে তৈরি ন্যানো ব্যানানা প্রো মডেলের ছবিগুলিতে যুক্ত করা শুরু করেছে। গুগল, যারা সি২পিএ-এর স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য, তারা এই ব্যবস্থাটিকে আরও উন্নত করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। নিকট ভবিষ্যতে ভিডিও এবং অডিও কনটেন্টের ক্ষেত্রেও সিন্থআইডি যাচাইকরণ প্রসারিত করার পরিকল্পনা রয়েছে। ন্যানো ব্যানানা প্রো মডেল, যা জেমিনি ৩ প্রো ইমেজ সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে কাজ করে এবং এই বছরেই চালু হয়েছিল, তা নেটিভ ৪কে রেজোলিউশনের ভিজ্যুয়াল তৈরি করতে সক্ষম এবং ব্র্যান্ডিং সামঞ্জস্যের জন্য ১৪টি রেফারেন্স ছবি পর্যন্ত সমর্থন করে।

সিন্থআইডি-এর মাধ্যমে অদৃশ্য জলছাপ এবং সি২পিএ-এর মাধ্যমে ওপেন-স্ট্যান্ডার্ড মেটাডেটা—এই দ্বৈত কাঠামো গুগল ইকোসিস্টেম থেকে উৎপন্ন কনটেন্টের জন্য একটি স্তরযুক্ত স্বচ্ছতা ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এই সিস্টেমে এআই-সৃষ্ট ছবি এবং মানুষের তৈরি ছবিকে আলাদা করার জন্য দৃশ্যমান (যেমন কিছু ইন্টারফেসে দেখা যাওয়া স্পার্কল আইকন) এবং অদৃশ্য উভয় পদ্ধতিই অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হলো ডিজিটাল তথ্য জগতে বিশ্বাসযোগ্যতা জোরদার করা এবং সকল ব্যবহারকারীকে প্রয়োজনীয় প্রেক্ষাপট সরবরাহ করা।

এই উদ্যোগ প্রমাণ করে যে গুগল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দ্বারা সৃষ্ট তথ্যের উৎস সম্পর্কে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর। ব্যবহারকারীরা এখন নিজেরাই যাচাই করতে পারবেন যে তারা যে ডিজিটাল কনটেন্ট দেখছেন, তার জন্ম কোথায়। এটি ডিজিটাল জগতে ভুল তথ্য ছড়ানো রোধে একটি শক্তিশালী হাতিয়ার হতে পারে, যা তথ্যের সত্যতা যাচাই করার প্রক্রিয়াকে আরও মজবুত করবে। এই ধরনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি ডিজিটাল মাধ্যমের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উৎসসমূহ

  • IT News zu den Themen Künstliche Intelligenz, Roboter und Maschinelles Lernen - IT BOLTWISE® x Artificial Intelligence

  • Forbes

  • The Times of India

  • TechRadar

  • OIPA

  • Google Blog

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।