ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবসে এম. এম. কীরাবাণীর নতুন সুর: ‘মন্ত্র অফ ফ্রিডম — বন্দে মাতরম’

সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One

Vande Mataram সারাদেশে গুঞ্জিত হচ্ছে।

অস্কারজয়ী প্রখ্যাত সুরকার এম. এম. কীরাবাণী ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি ভারতের প্রজাতন্ত্র দিবস উপলক্ষে একটি বিশেষ সংগীত রচনা করেছেন। নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক কর্তব্য পথে আয়োজিত এই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হবে তাঁর এই নতুন সৃষ্টি। ভারতের জাতীয় স্তোত্র "বন্দে মাতরম"-এর ১৫০ বছর পূর্তি উদযাপন করতেই এই বিশেষ সংগীতের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যা ভারতীয় জাতীয়তাবাদের অন্যতম প্রধান প্রতীক হিসেবে পরিচিত। এই সুরের মাধ্যমে তিনি ভারতের গৌরবময় ইতিহাসকে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।

গণতন্ত্র দিবস ২০২৬: Vande Mataram অ্যাঙ্করদের উদযাপনের ১৫০তম বর্ষপূর্তি

এই বিশাল সাংস্কৃতিক আয়োজনে ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় ২,৫০০ জন শিল্পী অংশ নেবেন। এই পরিবেশনার মাধ্যমে ভারতের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্যকে এক জীবন্ত ঐক্যের রূপ হিসেবে তুলে ধরা হবে। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজের মূল প্রতিপাদ্য বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে "মন্ত্র অফ ফ্রিডম — বন্দে মাতরম", যা ভারতের জাতীয় পরিচয় গঠনে এই গানের ঐতিহাসিক ও আধ্যাত্মিক গুরুত্বকে নতুন করে ফুটিয়ে তুলবে এবং দর্শকদের এক অনন্য অভিজ্ঞতার সাক্ষী করবে।

এই জয়ন্তী উদযাপনের উদ্যোগটি শুরু হয়েছে ২০২৫ সালের ৭ নভেম্বর থেকে, যা ঊনবিংশ শতাব্দীতে এই গানটির প্রথম প্রকাশের তারিখের সাথে মিল রেখে করা হয়েছে। ২০২৫ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বছরব্যাপী এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো বর্তমান প্রজন্মের তরুণ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে "বন্দে মাতরম"-এর ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি করা। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের ত্যাগ ও আদর্শের সাথে পরিচিত করার একটি মহৎ প্রয়াস নেওয়া হয়েছে।

ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রকের তত্ত্বাবধানে এই সাংস্কৃতিক পর্বের সংগীত পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন কীরাবাণী। এই বিশেষ পরিবেশনায় ঐতিহ্যবাহী শাস্ত্রীয় সুরের সাথে আধুনিক অর্কেস্ট্রার এক অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটানো হয়েছে, যা ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা ও আধুনিকতার সংমিশ্রণকে প্রতিফলিত করে। এই সংগীতের সাথে একটি বর্ণনামূলক স্তর যোগ করতে প্রখ্যাত অভিনেতা অনুপম খের ধারাভাষ্যকার হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বলে জানানো হয়েছে, যা পুরো অনুষ্ঠানটিকে একটি মহাকাব্যিক রূপ দান করবে।

বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রচিত "বন্দে মাতরম" গানটি ১৯৫০ সালের ২৪ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের জাতীয় স্তোত্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে। এটি ভারতের জাতীয় সংগীত "জনগণমন"-এর সমান মর্যাদায় ভূষিত। ২০২৬ সালের প্রজাতন্ত্র দিবসে এই গানটি কেবল একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে নয়, বরং একটি জীবন্ত সাংস্কৃতিক সত্তা হিসেবে উপস্থাপিত হবে যা প্রজন্মের পর প্রজন্মকে একসূত্রে গেঁথে রাখে। এটি ভারতীয়দের হৃদয়ে দেশপ্রেমের এক নতুন জোয়ার সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এটি এমন একটি মুহূর্ত যখন জাতীয় স্মৃতি বর্তমানের সম্মিলিত ধ্বনিতে রূপান্তরিত হয়। হাজার হাজার কণ্ঠের একই ছন্দে এগিয়ে চলা এই রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানকে একটি সংগীতময় ঐক্যের স্থানে পরিণত করে। এটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে একটি গান স্বাধীনতার রূপ হতে পারে এবং সুর হতে পারে ঐক্যের ভাষা। এই সুরের মূর্ছনা কেবল ভারতের সীমানায় নয়, বরং বিশ্বজুড়ে শান্তির ও সংহতির বার্তা ছড়িয়ে দেবে।

এই বছরব্যাপী উৎসবটি ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের বীরত্বগাথা এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর একটি অনন্য সুযোগ। এম. এম. কীরাবাণীর সুরের মূর্ছনায় কর্তব্য পথ এক নতুন প্রাণশক্তি পাবে, যা বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান সাংস্কৃতিক প্রভাবকে তুলে ধরবে। এই উদ্যোগটি কেবল একটি উদযাপন নয়, বরং ভারতের সমৃদ্ধ ইতিহাসের প্রতি এক গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং ভবিষ্যতের দিকে এক শক্তিশালী ও ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • TimesNow

  • Times Now

  • India News

  • Prime Minister of India

  • ANI

  • The Economic Times

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।