২০২৬ সালের ৬ মার্চ বিশ্বখ্যাত ব্রিটিশ সংগীত তারকা Harry Styles তার বহুল প্রতীক্ষিত চতুর্থ স্টুডিও অ্যালবাম ‘Kiss All The Time. Disco, Occasionally.’ প্রকাশ করতে যাচ্ছেন। এই নতুন অ্যালবামের প্রাক্কালে Apple Music প্ল্যাটফর্মে একটি অত্যন্ত গভীর ও ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার দিয়েছেন এই শিল্পী। সেখানে তিনি তার জীবনের সাম্প্রতিক অভিজ্ঞতা এবং নতুন এই সৃষ্টির পেছনের আবেগঘন গল্পগুলো ভক্তদের সাথে শেয়ার করেছেন।
উপস্থাপক Zane Lowe-র সাথে আলাপকালে Styles তার ওয়ান ডিরেকশন (One Direction) ব্যান্ডের প্রাক্তন সহকর্মী Liam Payne-কে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন। উল্লেখ্য যে, Liam Payne ২০২৪ সালের ১৬ অক্টোবর আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসে মাত্র ৩১ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যুবরণ করেন। বন্ধুর এই অকাল প্রয়াণ হ্যারির জীবনে এবং তার সংগীত ভাবনায় এক আমূল পরিবর্তন নিয়ে এসেছে বলে তিনি জানান।
Styles-এর মতে, প্রিয় বন্ধুর এই বিয়োগান্তক ঘটনা তাকে জীবন ও সৃজনশীলতা নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। তিনি Payne-কে বর্ণনা করেছেন এমন একজন মানুষ হিসেবে যার ‘হৃদয় ছিল অত্যন্ত দয়ালু’ এবং যিনি সবসময় ‘সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন’। হ্যারি বিশ্বাস করেন যে, হারানো প্রিয়জনদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সর্বোত্তম উপায় হলো জীবনকে পরিপূর্ণভাবে উপভোগ করা এবং এমন কিছু সৃষ্টি করা যা সত্যিই অর্থবহ।
অ্যালবামের প্রধান গান বা লিড সিঙ্গেল “Aperture” ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি মুক্তি পায় এবং মুহূর্তেই তা বিশ্বব্যাপী সংগীতের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে নেয়। গানটি প্রকাশের পরপরই এটি নিচের চার্টগুলোতে প্রথম স্থান অর্জন করে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে:
- UK Singles Chart
- Billboard Hot 100
এই অভাবনীয় সাফল্যের মাধ্যমে Styles যুক্তরাজ্য এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে একই সাথে তৃতীয়বারের মতো একক শিল্পী হিসেবে এক নম্বর হিটের রেকর্ড গড়লেন। “Aperture” গানটি লিখেছেন এবং প্রযোজনা করেছেন প্রখ্যাত ব্রিটিশ প্রযোজক Kid Harpoon। উল্লেখ্য যে, এই গুণী প্রযোজক পুরো অ্যালবামের প্রোডাকশনের মূল দায়িত্ব পালন করেছেন এবং হ্যারির সৃজনশীলতাকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন।
নতুন এই অ্যালবামে মোট ১২টি গান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং এটি তার আসন্ন কনসার্ট প্রজেক্ট “Together, Together”-এর মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। প্রথাগত বিশ্ব সফরের পরিবর্তে Harry Styles এবার দীর্ঘমেয়াদী ‘কনসার্ট রেসিডেন্সি’ ফরম্যাট বেছে নিয়েছেন। এই বিশেষ পদ্ধতির মাধ্যমে তিনি একটি নির্দিষ্ট শহরে দীর্ঘ সময় অবস্থান করে তার ভক্তদের গান শোনানোর সুযোগ পাবেন।
এই বিশেষ ট্যুর বা রেসিডেন্সি প্রজেক্টের প্রধান আকর্ষণীয় ইভেন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে:
- ২০২৬ সালের মে মাসে আমস্টারডামের Johan Cruijff ArenA-তে এই সফরের জমকালো সূচনা।
- ২০২৬ সালের আগস্ট থেকে অক্টোবর পর্যন্ত নিউ ইয়র্কের বিখ্যাত Madison Square Garden-এ ৩০টি কনসার্টের একটি বিশাল এবং ঐতিহাসিক সিরিজ।
অ্যালবাম প্রকাশের বিশেষ দিনটিতে Co-op Live ভেন্যুতে একটি বিশেষ লাইভ পারফরম্যান্সের পরিকল্পনা করা হয়েছে। যারা সরাসরি সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না, তাদের জন্য এই অনুষ্ঠানের বিশেষ রেকর্ডিং ২০২৬ সালের ৮ মার্চ থেকে Netflix প্ল্যাটফর্মে বিশ্বজুড়ে সম্প্রচারের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। এটি ভক্তদের জন্য এক বিশেষ ডিজিটাল উপহার হিসেবে কাজ করবে।
Harry Styles-এর এই নতুন অ্যালবামটি কেবল কিছু সুরের সমাহার নয়, বরং এটি শোক কাটিয়ে ওঠার এবং নিজের জীবনের লক্ষ্যকে নতুন করে চেনার একটি শৈল্পিক মাধ্যম। সংগীতের মাধ্যমে কীভাবে ব্যক্তিগত শোককে একটি সর্বজনীন ভাষায় রূপান্তর করা যায়, এই অ্যালবামটি তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
পরিশেষে বলা যায়, এই অ্যালবামটি কেবল বিনোদন নয়, বরং এটি লক্ষ লক্ষ মানুষকে জীবনের কঠিন সময়েও সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাবে। হ্যারির এই নতুন সংগীত সফরটি তার ভক্তদের জন্য যেমন আবেগের, তেমনি বিশ্ব সংগীতের ইতিহাসে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলে সংগীত সমালোচকরা মনে করছেন।



