Айнур Доган “Rabe”
“Rabe” এর পথে: ২০২৬ সালের যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড সফর এবং কুর্দি সুরের জাগরণ
সম্পাদনা করেছেন: Inna Horoshkina One
কুর্দি সংগীতের বিশ্বনন্দিত প্রতিনিধি আইনুর দোগান (Aynur Doğan) ২০২৬ সালের বসন্তে যুক্তরাজ্যে তার প্রথম বড় মাপের সফরের ঘোষণা দিয়েছেন। এই সফরটি মূলত তার সাম্প্রতিক অ্যালবাম 'Rabe'-এর আন্তর্জাতিক সাফল্যের একটি স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা। এই অ্যালবামটি তাকে বিশ্ব সংগীত বা 'ওয়ার্ল্ড মিউজিক' অঙ্গনে অন্যতম গভীর ও অনন্য কণ্ঠস্বর হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
Aynur Doğan - Yar Meleke | লাইভ পারফরম্যান্স
১৯৭৫ সালে তুরস্কের চেমিশগজেকে (Çemişgezek) জন্মগ্রহণকারী আইনুর দোগান গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ঐতিহ্যবাহী কুর্দি লোকসংগীতকে নতুন রূপ দিচ্ছেন। তিনি তার সংগীতে আধুনিক পশ্চিমা প্রভাবের এক চমৎকার মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন। তার গানগুলোতে প্রেম, আধ্যাত্মিকতা এবং স্বাধীনতার মতো বিষয়গুলো কেবল নিছক শব্দ হয়ে নয়, বরং এক জীবন্ত অভিজ্ঞতা হিসেবে ফুটে ওঠে, যা মধ্যপ্রাচ্যের সীমানা ছাড়িয়ে বিশ্বজুড়ে শ্রোতাদের হৃদয়ে নাড়া দেয়।
২০২৪ সালের মার্চ মাসে মুক্তি পাওয়া 'Rabe' (কুর্দি ভাষায় যার অর্থ 'জেগে ওঠো' বা 'দাঁড়াও') অ্যালবামটি তার সংগীত সফরের এক মাইলফলক। নয়টি গানের এই সংকলনে 'Hekîmo' এবং 'Bîranîn'-এর মতো জনপ্রিয় ট্র্যাক রয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাসে এটি ট্রান্সগ্লোবাল ওয়ার্ল্ড মিউজিক চার্টে (Transglobal World Music Chart) প্রথম স্থান অধিকার করে। এটি শিল্পীর অষ্টম অ্যালবাম, যা তার সংগীতের পরিপক্কতার এক বলিষ্ঠ ইশতেহার। জার্মানি এবং স্পেনের প্রায় ২০ জন সংগীতশিল্পীর সহযোগিতায় এই অ্যালবামটি তৈরি হয়েছে, যেখানে মাইকেল লিগ (Michael League) এবং পিপা বাদক উ মান (Wu Man)-এর মতো গুণী শিল্পীরা অংশ নিয়েছেন।
এই সফরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হলো লন্ডন। দীর্ঘ বিরতির পর ২০২৬ সালের ২ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার বারবিকান সেন্টারের (Barbican Centre) মঞ্চে আইনুর দোগান পারফর্ম করবেন। ব্রিটিশ দর্শকদের কাছে এটি কেবল একটি কনসার্ট নয়, বরং এমন এক কণ্ঠস্বরের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ, যা সুরের মাঝে নীরবতাকেও অর্থবহ করে তুলতে জানে।
RABE UK TOUR 2026 সফরটি বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক কেন্দ্রকে স্পর্শ করবে:
- ব্রিস্টল — ২৭ মার্চ (সেন্ট জর্জ ব্রিস্টল)
- বার্মিংহাম — ২৮ মার্চ (টাউন হল)
- এডিনবরা — ৩০ মার্চ (কুইন্স হল)
- ডাবলিন — ৩১ মার্চ (ন্যাশনাল কনসার্ট হল)
আইনুর দোগানের শিল্পকর্ম কুর্দি জনগোষ্ঠীর ঐতিহাসিক সংগ্রাম, গভীর বেদনা এবং অদম্য সহনশীলতার এক জীবন্ত প্রতিফলন। তার গানের কথাগুলো প্রায় ৩০০ বছরেরও বেশি পুরনো মৌখিক ঐতিহ্যের ওপর ভিত্তি করে রচিত, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে বয়ে চলেছে। এই প্রাচীন শিকড় থাকা সত্ত্বেও, তার সংগীতের সুর ও বিন্যাস সমসাময়িক বিশ্বের কাছে অত্যন্ত আধুনিক এবং প্রাসঙ্গিক মনে হয়। শীতের শেষের দিকে আমস্টারডাম এবং এসেনে তার নির্ধারিত কনসার্টগুলো ইউরোপীয় সংগীতের মূলধারায় তার ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে আরও জোরালোভাবে প্রমাণ করে।
২০২১ সালে ওমেক্স আর্টিস্ট অ্যাওয়ার্ড (WOMEX Artist Award) সহ অসংখ্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি তার প্রতিভার সাক্ষ্য দেয়। তার সংগীত কেবল সুর নয়, বরং বিভিন্ন সংস্কৃতি, প্রজন্ম এবং মানুষের অভ্যন্তরীণ জগতের মধ্যে এক শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরি করে। শ্রোতারা দীর্ঘকাল ধরে যা অনুভব করে আসছেন, এই পুরস্কারগুলো কেবল তারই আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি হিসেবে গণ্য করা হয়।
পরিশেষে বলা যায়, সংগীত কখনো কখনো কেবল গল্প বলে না, বরং এটি সেই সব কণ্ঠস্বরকে মর্যাদা ফিরিয়ে দেওয়ার মাধ্যম যাদের ইতিহাস দীর্ঘকাল ধরে অবদমিত ছিল। পিথাগোরাসের দর্শনে বলা হয়েছে যে, মহাবিশ্বের ভারসাম্য সুসামঞ্জস্যপূর্ণ সুরের ওপর নির্ভরশীল। আইনুর দোগানের কণ্ঠস্বর যখন সেই সঠিক সুরের মাত্রা খুঁজে পায়, তখন তা কেবল একটি গান থাকে না, বরং তা চারপাশের পরিবেশ ও মানুষের চিন্তাধারাকে বদলে দেয়। এটি এমন এক সুরের জাগরণ যা ব্যক্তিগত সীমানা অতিক্রম করে এক বিশ্বজনীন সেতু তৈরি করে। যেখানে কোনো ভাষার অনুবাদ বা ভৌগোলিক সীমান্তের প্রয়োজন পড়ে না, সেখানে বেদনা রূপান্তরিত হয় সৌন্দর্যে এবং সেই সৌন্দর্যই শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে।
উৎসসমূহ
Hürriyet
Vertex AI Search
Hürriyet
Ents24
YouTube
