সত্তরোর্ধ্বদের জন্য স্বাস্থ্যকর বার্ধক্যের পথে পুষ্টির গুরুত্ব

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

সত্তর বছর বয়স অতিক্রম করার পর একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ এমন খাদ্যতালিকা অনুসরণ করতে ব্যর্থ হন যা সুস্থ বার্ধক্যের জন্য অপরিহার্য। এই পরিসংখ্যানটি একটি বৃহত্তর জনস্বাস্থ্য উদ্বেগের ইঙ্গিত দেয়, যেখানে জীবনের শেষ দশকে পুষ্টির ঘাটতি একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শরীরের বিপাক ক্রিয়া ধীর হয়ে আসে, ফলে সামগ্রিক ক্যালোরির চাহিদা হ্রাস পেলেও খাদ্যের পুষ্টির ঘনত্ব বজায় রাখা অত্যাবশ্যক হয়ে ওঠে। এই পরিস্থিতিতে পুষ্টিবিদরা খাদ্যের পরিমাণ কমানোর পাশাপাশি গুণগত মান বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছেন, যাতে শরীরের প্রয়োজনীয় উপাদানগুলি সঠিকভাবে সরবরাহ নিশ্চিত হয়।

বয়স্কদের মধ্যে পেশী ভর ও শক্তির বয়স-সম্পর্কিত হ্রাস, যা সারকোপেনিয়া নামে পরিচিত, একটি গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা। এই অবস্থা প্রতিরোধের জন্য বিশেষজ্ঞরা প্রতিটি খাবারে ২৫ থেকে ৩০ গ্রাম পর্যন্ত চর্বিহীন প্রোটিন গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন, যা পেশী ক্ষয় রোধে সহায়ক। মেদান্ত-দ্য মেডিসিটির ডায়েটেটিক্সের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রধান) ডঃ কাজল পান্ড্য ইয়েপথো প্রবীণ নাগরিকদের জন্য প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্যের প্রয়োজনীয়তার ওপর আলোকপাত করেছেন। প্রোটিন পেশী গঠনে সহায়তা করে এবং পেশীর বৃদ্ধি উন্নত করে, যা দৈনন্দিন কার্যকলাপ বজায় রাখার জন্য জরুরি।

হাড়ের স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য প্রবীণ প্রাপ্তবয়স্কদের খাদ্যতালিকায় ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-এর পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৭০ বছর বা তার বেশি বয়সী সকল ব্যক্তির জন্য, দৈনিক কমপক্ষে ১২০০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম গ্রহণের সুপারিশ করা হয়, পাশাপাশি প্রতিদিন অন্তত ৬০০ আইইউ (ইন্টারন্যাশনাল ইউনিট) ভিটামিন ডি গ্রহণ করা উচিত, যা ১০০০ আইইউ পর্যন্ত হতে পারে। ক্যালসিয়াম হাড়কে শক্তিশালী করে এবং পেশীর সঠিক কার্যকারিতায় সহায়তা করে, অন্যদিকে ভিটামিন ডি শরীরকে ক্যালসিয়াম শোষণ করতে সাহায্য করে এবং পতনের ঝুঁকি কমাতে প্রয়োজনীয় পেশীগুলিকে সমর্থন করে। ক্যালসিয়ামের উৎস হিসেবে খাদ্য উপাদানকে উৎসাহিত করা হয়, কারণ উচ্চ ক্যালসিয়ামযুক্ত খাবারে ফল, শাকসবজি, বাদাম ও মাছের মতো অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও বিদ্যমান থাকে।

বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন বি১২ শোষণ ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে, যা স্নায়ুতন্ত্র ও হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ। এই ঘাটতি পূরণের জন্য অনেক সময় ইনজেকশনের প্রয়োজন হতে পারে, যা জ্ঞানীয় এবং কার্ডিওভাসকুলার স্বাস্থ্য বজায় রাখতে সহায়ক। এছাড়াও, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ফাইবার বা আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণও গুরুত্বপূর্ণ, যা কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে এবং রক্তে কোলেস্টেরল ও শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ৫১ বছর বা তার বেশি বয়সী পুরুষদের জন্য প্রতিদিন ৩০ গ্রাম এবং নারীদের জন্য ২১ গ্রাম ফাইবারের সুপারিশ করা হয়।

সার্বিক পুষ্টির ক্ষেত্রে, সামগ্রিক ক্যালোরির চাহিদা কমলেও, খাদ্যতালিকায় পুষ্টি-ঘনত্বের ওপর মনোযোগ দেওয়া আবশ্যক। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের একটি সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, উদ্ভিজ্জ খাবার গ্রহণ দীর্ঘায়ু এবং বয়সজনিত জটিলতা হ্রাসের সম্ভাবনা বাড়ায়। এই স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসে ফলমূল, শাকসবজি, গোটা শস্য, লেগিউম, বাদাম এবং লো ফ্যাট দুগ্ধজাত খাবার অন্তর্ভুক্ত থাকে, যা সত্তর বছর বয়সেও সুস্থ থাকার সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করে। এই ধরনের খাদ্যতালিকাগত পরিবর্তনগুলি কেবল শারীরিক দুর্বলতা রোধ করে না, বরং জীবনযাত্রার মান উন্নত করতেও সহায়ক ভূমিকা পালন করে, যা বার্ধক্যের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি ইতিবাচক কৌশল।

5 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Newsweek

  • Senior Nutrition Tips for Healthy Aging in 2026

  • Healthy eating in midlife linked to overall healthy aging | ScienceDaily

  • Dr. Brynna Connor, MD, Family Physician | Austin, TX - WebMD

  • Changing nutritional needs for older adults | Penn Medicine

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।