গ্রিক বনাম সাধারণ দই: পুষ্টিগত পার্থক্য ও ব্যবহারিক উপযোগিতা

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

দুগ্ধজাত এই দুটি জনপ্রিয় উপাদানের মধ্যে প্রধান পার্থক্য তাদের প্রস্তুতি প্রক্রিয়ায় নিহিত, বিশেষত হুই বা জলীয় অংশ অপসারণের মাত্রার ওপর। সাধারণ দইয়ের তুলনায় গ্রিক দইকে অতিরিক্ত ছাঁকা হয়, যার ফলে এটি ঘন আকার ধারণ করে এবং প্রোটিনের ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। পুষ্টিবিদদের মতে, এই বর্ধিত প্রোটিন উপাদান দীর্ঘ সময় ধরে পরিতৃপ্তির অনুভূতি বজায় রাখে এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, যা স্বাস্থ্য সচেতন ব্যক্তিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।

অন্যদিকে, সাধারণ দই তার তরল অংশ ধরে রাখে, যার কারণে এতে ল্যাকটোজের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে, যা কিছু সংবেদনশীল পাকস্থলীর জন্য হজম করা সহজ হতে পারে। তবে, এই তরল অংশ ধরে রাখার ফলে সাধারণ দইয়ে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ গ্রিক দইয়ের চেয়ে বেশি থাকতে পারে। উভয় প্রকার দই-ই অন্ত্রের স্বাস্থ্য এবং সামগ্রিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয় প্রোবায়োটিকস সরবরাহ করে। পুষ্টিবিদ পম্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় উল্লেখ করেছেন যে, অতিরিক্ত ল্যাকটোজ ও হুই না থাকায় গ্রিক ইয়োগার্টে সাধারণ দইয়ের তুলনায় প্রোবায়োটিকের মাত্রা বেশি থাকতে পারে।

মধ্যবিত্ত বাঙালির দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় গ্রিক দইয়ের উচ্চ মূল্য একটি বিবেচনাযোগ্য বিষয়, তাই অনেক পুষ্টিবিদ আর্থিক সাশ্রয়ের দিকটি বিবেচনা করে সাধারণ টক দই খাওয়ার পরামর্শ দেন, যা শরীরের অনেক সমস্যা সমাধানে সক্ষম। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের গবেষকদের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কম চর্বিযুক্ত দই সেবন রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্য উন্নত করে।

এই দুই ধরনের দইয়ের রন্ধনশৈলীর ব্যবহারিক প্রয়োগ ভিন্ন। সাধারণ দই তার পাতলা প্রকৃতির কারণে হালকা প্রাতরাশ বা স্মুদি তৈরির জন্য উপযুক্ত। গ্রিক দইয়ের ঘনত্ব এটিকে একটি বহুমুখী উপাদান হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে; এটি সহজেই সাওয়ার ক্রিম বা ঘন, সুস্বাদু সস তৈরির ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। পুষ্টিবিদ পম্পিতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও উল্লেখ করেছেন যে, নিয়মিত জিমে যাওয়া ব্যক্তিদের পেশিশক্তি বৃদ্ধি এবং পেশির গঠন ও মেরামতির জন্য গ্রিক দই বেশি উপকারী হতে পারে।

সাধারণ দইয়ে থাকা ল্যাকটিক অ্যাসিড ত্বককে এক্সফোলিয়েট করতে এবং মৃত কোষ দূর করতে সহায়ক, যা ত্বক পরিচর্যার ক্ষেত্রেও এর গুরুত্ব তুলে ধরে। ভোক্তাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা হলো, উভয় প্রকার দইয়ের ক্ষেত্রেই স্বাদযুক্ত সংস্করণগুলি এড়িয়ে চলা উচিত, কারণ ফ্লেভারযুক্ত দইগুলিতে প্রায়শই অতিরিক্ত চিনি যুক্ত করা হয়, যা তাদের স্বাস্থ্যগত সুবিধাগুলিকে হ্রাস করে। পুষ্টির দিক থেকে, ১০০ গ্রাম গ্রিক ইয়োগার্টে প্রায় ৯-১২ গ্রাম প্রোটিন এবং মাত্র ৬০ ক্যালোরি ও ০.৫ মিলিগ্রাম ফ্যাট থাকতে পারে, যা ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রচেষ্টাকারীদের জন্য উপযোগী। অন্যদিকে, সাধারণ দই প্রায় ৪৫০০ বছর ধরে প্রস্তুত ও সেবন করা হচ্ছে, যা খাদ্য সংস্কৃতিতে এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব প্রমাণ করে।

চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে, ভোক্তার ব্যক্তিগত হজম ক্ষমতা, পুষ্টির নির্দিষ্ট প্রয়োজনীয়তা এবং আর্থিক সামর্থ্য বিবেচনা করা আবশ্যক, যাতে খাদ্যাভ্যাস থেকে সর্বাধিক স্বাস্থ্যকর সুবিধা লাভ করা সম্ভব হয়।

11 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Oslobođenje d.o.o.

  • Gea organic

  • Healthline

  • Prevention

  • Bljesak.info

  • Oreate AI Blog

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।