ঐতিহ্যের সুরক্ষায় প্রকৃতির আলিঙ্গন: বানতারাগুং গ্রামের নবজাগরণ

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

পশ্চিম জাভার মাজালেনকা অঞ্চলে অবস্থিত বানতারাগুং গ্রাম পরিবেশ-বান্ধব পর্যটনের মাধ্যমে এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। এই গ্রামের প্রাকৃতিক শোভা সত্যিই মনোমুগ্ধকর। ধাপে ধাপে সাজানো ধানক্ষেতগুলি মাউন্ট জাজার সিনাপুল এবং মাউন্ট চিরেমাঈ-এর পটভূমিতে এক অসাধারণ দৃশ্যের সৃষ্টি করে, যা বালির বিখ্যাত সোপানগুলির কথা স্মরণ করিয়ে দিলেও এর নিজস্ব এক পবিত্রতা বিদ্যমান।

স্থানীয় সংস্কৃতি এই গ্রামের প্রাণকেন্দ্র, যা পর্যটকদের কাছে জীবন্ত হয়ে ওঠে। এখানকার ঐতিহ্যবাহী 'বুবুর শুরা' আচার এবং চিরেবোন রাজপ্রাসাদে অনুষ্ঠিত 'সেবা' অনুষ্ঠান দর্শনার্থীদের জন্য এক গভীর সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা নিয়ে আসে। এই ঐতিহ্যগুলির সংরক্ষণ কেবল অতীতকে ধরে রাখাই নয়, বরং বর্তমানের যাত্রাপথকে সমৃদ্ধ করার এক মাধ্যম। ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া পশ্চিম জাভার সহায়তায় গ্রামের মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই পর্যটন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে, যা স্থানীয় জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয়দের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা বৃদ্ধি করা, যাতে বাইরের সাহায্যের উপর নির্ভরতা ধীরে ধীরে কমে আসে। ব্যাংক ইন্দোনেশিয়া সিirebon ২০১৭ সাল থেকেই জৈব ধান চাষের মাধ্যমে এই গ্রামের উন্নয়নে সহায়তা করে আসছে, যা পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্কের গভীরতাকে তুলে ধরে। প্রতি মাসে অনুষ্ঠিত 'পাসার ভূমি পাকুওন' উৎসব স্থানীয় পণ্য ও শিল্পকলার এক বিশাল প্রদর্শনী, যা জাতীয় পর্যটকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

বানতারাগুং গ্রামটি তার সৃজনশীল ডিজিটাল গ্রাম উদ্যোগ এবং 'লুকানো স্বর্গ' হিসেবে স্বীকৃতির জন্য পুরস্কৃত হয়েছে। ২০২৩ সালের ইন্দোনেশিয়ান ট্যুরিজম ভিলেজ অ্যাওয়ার্ডে (ADWI) ডিজিটাল ও সৃজনশীল কন্টেন্ট বিভাগে এটি জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় সেরা গ্রাম হিসেবে স্থান লাভ করে। এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, ঐতিহ্য ও আধুনিকতার সমন্বয়ে এক নতুন পথের সন্ধান সম্ভব। পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে এবং স্থানীয় অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে ডিজিটাল বিপণন এবং QRIS ব্যবহারের মতো আধুনিক কৌশলগুলিও গ্রামে নিয়মিতভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে।

এই গ্রামের প্রাকৃতিক সম্পদের মধ্যে রয়েছে চিরেমাঈ পর্বতের পাদদেশে অবস্থিতি, উন্নত সড়ক সংযোগ এবং পাঁচটি ইতোমধ্যে বিকশিত পর্যটন আকর্ষণ। পর্যটকরা এখানে কেবল প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করেন না, বরং স্থানীয় কৃষকদের সাথে ধানের চারা রোপণ বা ফসল তোলার মতো ঐতিহ্যবাহী কৃষি কার্যক্রমেও অংশ নিতে পারেন। এই ধরনের সরাসরি অংশগ্রহণ স্থানীয় জীবনযাত্রার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বোঝাপড়ার জন্ম দেয়, যা এই স্থানটিকে কেবল একটি গন্তব্য না রেখে এক জীবন্ত শিক্ষণক্ষেত্রে পরিণত করে।

উৎসসমূহ

  • ANTARA News - The Indonesian News Agency

  • Kompas.com

  • Kompas.id

  • ANTARA News

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?

আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।