পেঁয়াজ ও রসুনের সতেজতা বৃদ্ধি: সংরক্ষণ কৌশলে নতুন দিগন্ত

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য উপাদান পেঁয়াজ এবং রসুনের সতেজতা দীর্ঘকাল ধরে রাখার জন্য নতুন নতুন কৌশল উদ্ভাবিত হচ্ছে, যা মূলত আর্দ্রতা এবং আলোর কারণে সৃষ্ট দ্রুত পচন রোধে কার্যকর। এই উপাদানগুলির অপচয় হ্রাস করা কেবল কৃষকদের লোকসান কমানোতেই সহায়ক নয়, বরং ভোক্তা পর্যায়েও খাদ্যের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে। বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ হওয়া সত্ত্বেও, সংরক্ষণ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে প্রতি বছর উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পেঁয়াজ নষ্ট হয়, যা আমদানির প্রয়োজনীয়তা বাড়িয়ে তোলে।

বাণিজ্যিক বা পেশাদার স্তরে, বিশেষ সংরক্ষণ মাধ্যমের সাহায্যে এই অপরিহার্য সবজিগুলির সংরক্ষণকাল ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এই পদ্ধতিতে, পেঁয়াজ ও রসুনকে শীতল ও অন্ধকার স্থানে শুকনো, মিহি বালির অথবা লবণবিহীন চালের স্তরে সাবধানে রাখা হয়। এই পদ্ধতিটি ঐতিহাসিক শস্য সংরক্ষণ কৌশলের আধুনিক রূপায়ণ, যেখানে শুষ্ক পরিবেশ বজায় রাখা প্রধান লক্ষ্য। উদাহরণস্বরূপ, রাজবাড়ীর মতো অঞ্চলে যেখানে স্থানীয় পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হতো, সেখানে সঠিক ব্যবস্থার অভাবে এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই পচন শুরু হতো, ফলে কৃষকদের কম দামে বিক্রি করতে হতো। রাজবাড়ীতে ৩০০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য ২০টি আধুনিক ঘর তৈরির উদ্যোগ এই সমস্যা মোকাবিলার একটি প্রচেষ্টা।

গৃহস্থালী ব্যবহারের ক্ষেত্রে, বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য ছিদ্রযুক্ত কাগজের ব্যাগ ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়, যা উৎপাদিত পণ্যকে সুরক্ষা দেয় এবং একই সাথে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে সাহায্য করে। এই বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে, যেমন প্লাস্টিকের ব্যাগে রাখলে, বাতাস প্রবেশ করতে না পারায় দ্রুত পচন ধরে। এছাড়াও, একটি অপরিহার্য সংরক্ষণ বিধি হলো পেঁয়াজ ও রসুনকে আলু থেকে দূরে রাখা। আলুর গ্যাসীয় নিঃসরণ পেঁয়াজ ও রসুনের পচন প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে, যা উভয় পণ্যের ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর। গবেষণায় দেখা গেছে, আলুর গ্যাস অঙ্কুরোদগমকেও দ্রুত করে এবং আলুর অংকুর গ্লাইকোয়ালকালয়েডের কারণে বিষাক্ত হতে পারে।

সংরক্ষণের পূর্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো ফসল তোলার পর উষ্ণ বায়ু দ্বারা প্রাথমিক শুকানো। এই প্রাক-শুকানোর প্রক্রিয়াটি সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারলে বাল্বগুলির স্থায়িত্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব। বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) বিজ্ঞানীরা গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে পেঁয়াজ ও রসুনের সংরক্ষণকাল ৭ থেকে ৯ মাস পর্যন্ত বাড়ানোর সাফল্য দাবি করেছেন, যা ওজন হ্রাস, পচন এবং অঙ্কুরোদগম কমাতে সহায়ক। এই প্রযুক্তিগত অগ্রগতি কৃষিপণ্যের আমদানি নির্ভরতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

কৃষি বিশেষজ্ঞরা প্রায়শই সংরক্ষণের সীমাবদ্ধতার কারণে আমদানি করার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন, যদিও উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি থাকে। সঠিক সার ব্যবস্থাপনা, যেমন পটাশ সার প্রয়োগ করে কার্বোহাইড্রেট ভাঙ্গনকারী এনজাইমের কার্যকারিতা কমানো এবং ফসফরাস সার প্রয়োগে পেঁয়াজ দৃঢ় করা, সংরক্ষণ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অত্যাবশ্যকীয়। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন সার প্রয়োগ পেঁয়াজের আগাম অঙ্কুরোদগম ঘটায়, যা সংরক্ষণকালে সমস্যা সৃষ্টি করে। সঠিক সেচ ব্যবস্থাপনাও জরুরি; অতিরিক্ত সেচ বা সংগ্রহের ঠিক আগে সেচ বন্ধ না করলে পচন হার বাড়ে। এই সমন্বিত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিগুলি অবলম্বন করলে পেঁয়াজ ও রসুনের মতো মৌলিক উপাদানগুলির অপচয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করা সম্ভব হবে, যা কৃষকের লাভ এবং ভোক্তার স্বস্তি উভয়ই নিশ্চিত করবে।

13 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • To je nápad!

  • dobre jedlo

  • Plný hrniec

  • Opotravinách

  • Rady a tipy pre záhradu

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।