নেটফ্লিক্সের নতুন ছবিতে রুথ উইলসনের সঙ্গে লুথার চরিত্রে ফিরছেন ইদ্রিস এলবা
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
ইদ্রিস এলবা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন যে তিনি ডিটেকটিভ-ইন্সপেক্টর জন লুথারের আইকনিক ভূমিকায় ফিরছেন। এই পূর্ণদৈর্ঘ্য সিক্যুয়েলটি ২০২৩ সালের সফল ছবি ‘লুথার: দ্য ফলেন সান’-এর গল্পের ধারাবাহিকতা বহন করবে। বহু প্রতীক্ষিত এই চলচ্চিত্রে আবারও দেখা যাবে রুথ উইলসনকে অ্যালিস মর্গানের রহস্যময় চরিত্রে এবং ডার্মট ক্রাউলিকে সুপার-ইন্টেন্ডেন্ট মার্টিন শেঙ্কের ভূমিকায়। বিবিসির মূল সিরিজটি ২০১০ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত চলেছিল এবং বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির মূল স্রষ্টা নীল ক্রস আবারও এই ছবির চিত্রনাট্য লেখার দায়িত্বে থাকছেন, এবং আগের চলচ্চিত্র ও মূল শো-এর কিছু এপিসোড পরিচালনা করা জেমি পেইন এবারও পরিচালকের আসনে বসবেন। এই শক্তিশালী সৃজনশীল দলটির পুনর্মিলন ভক্তদের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
নতুন ছবির মূল প্লটটি আবর্তিত হবে জন লুথারের গোপনভাবে সেবায় ফিরে আসার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। লন্ডনে একের পর এক নৃশংস এবং আপাতদৃষ্টিতে উদ্দেশ্যহীন হত্যাকাণ্ড শহরবাসীকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। এই ভয়াবহ অপরাধের নতুন ঢেউ মোকাবিলা করার জন্যই লুথারকে আড়ালে থেকে কাজ করতে হবে। ফ্র্যাঞ্চাইজিটির স্রষ্টা নীল ক্রস চরিত্রগুলোর প্রতি তার গভীর ব্যক্তিগত আবেগের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন যে লুথার, অ্যালিস এবং শেঙ্ক—এরা তার কাছে কেবল চরিত্র নয়, বরং পরিবারের সদস্য। তিনি প্রতিনিয়ত তাদের ভাগ্যে কী ঘটছে, তা নিয়ে চিন্তা করেন, যা এই চরিত্রগুলোর প্রতি তার গভীর সংযোগ প্রমাণ করে।
রুথ উইলসনের অ্যালিস মর্গান চরিত্রে ফিরে আসা এই সিক্যুয়েলের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দিক। কারণ, টেলিভিশন সিরিজের পঞ্চম সিজনের সমাপ্তিতে তাকে আপাতদৃষ্টিতে মৃত দেখানো হয়েছিল। লুথারের সঙ্গে অ্যালিসের জটিল, বিপজ্জনক এবং বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পর্কই ছিল মূল প্রকল্পের সাফল্যের অন্যতম প্রধান কারণ। এই তীব্র রসায়ন দর্শকদের বরাবর আকর্ষণ করেছে এবং এর অনুপস্থিতি আগের ছবিতে অনুভূত হয়েছিল। ডার্মট ক্রাউলি সুপার-ইন্টেন্ডেন্ট মার্টিন শেঙ্কের চরিত্রে ফিরছেন, যিনি ‘দ্য ফলেন সান’ ছবিতে উপস্থিত ছিলেন। তবে উইলসন সেই ছবিতে অংশ নেননি। তাই এই ত্রয়ীর পুনর্মিলন দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ সৃষ্টি করবে এবং কাহিনীর মোড়কে আরও জটিল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই চলচ্চিত্রের মূল চিত্রগ্রহণের কাজ লন্ডন শহরে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে। যদিও ছবিটির আনুষ্ঠানিক মুক্তির তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে এটি নেটফ্লিক্স প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। প্রজেক্টটির প্রযোজনা করবে চেরনিন এন্টারটেইনমেন্ট, বিবিসি ফিল্মের সঙ্গে যৌথভাবে। এছাড়াও নীল ক্রস এবং ইদ্রিস এলবাও প্রযোজকের ভূমিকায় থাকবেন। এর আগের ছবি, ২০২৩ সালের ‘লুথার: দ্য ফলেন সান’, সমালোচকদের কাছ থেকে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পেলেও, ভক্তদের কাছে এটি উষ্ণ অভ্যর্থনা পেয়েছিল এবং স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেছিল।
সৃজনশীল দলটি এর আগেও স্পষ্ট জানিয়েছিল যে এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ভবিষ্যৎ আর টেলিভিশন সিরিজের ষষ্ঠ সিজনের মাধ্যমে নয়, বরং কেবল পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের মাধ্যমেই এগিয়ে যাবে। এই সিদ্ধান্ত লুথারের গল্প বলার পরিসরকে আরও বড় করেছে। পরিচালক জেমি পেইন এই পুনর্মিলন নিয়ে তার উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। তিনি এলবা এবং ক্রাউলির সঙ্গে আবারও কাজ করতে পেরে আনন্দিত। বিশেষ করে তিনি অ্যালিস মর্গানের চরিত্রটিকে ‘উজ্জ্বল এবং বিপজ্জনক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তার প্রত্যাবর্তনের জন্য গভীর আগ্রহ দেখিয়েছেন। এই নতুন ছবিটি লুথার ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আন্তর্জাতিক স্তরে আরও বিস্তৃত পরিসরে নিয়ে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎসসমূহ
see.news
Netflix Tudum
What's on Netflix
NME
Geektown
Cinema Express
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
