আগামী নভেম্বর ২০২৫-এ মুক্তি পেতে চলেছে এডগার রাইট পরিচালিত এবং গ্লেন পাওয়েল অভিনীত 'দ্য রানিং ম্যান'-এর বহুল প্রতীক্ষিত রিমেকে। এই চলচ্চিত্রটি স্টিফেন কিং-এর ১৯৮২ সালের উপন্যাস অবলম্বনে নির্মিত, যেখানে পাওয়েল অভিনয় করেছেন বেন রিচার্ডস চরিত্রে। বেন একজন পিতা, যে তার মেয়ের চিকিৎসার খরচ মেটানোর জন্য এক মারণ খেলায় অংশ নেয়। এই ছবিতে জশ ব্রোলিনকে দেখা যাবে গেমের প্রযোজকের ভূমিকায়, কোম্যান ডমিঙ্গো হোস্টের চরিত্রে, লি পেস একজন হান্টার হিসেবে এবং জেইমি লসন বেন রিচার্ডসের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করবেন।
মূল ১৯৮৭ সালের আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার অভিনীত ছবিটি বর্তমানে নেটফ্লিক্সে উপলব্ধ, যা নতুন সংস্করণ আসার আগে ক্লাসিকটি পুনরায় দেখার সুযোগ করে দিচ্ছে। চলচ্চিত্রটির প্রথম ট্রেলার, যেখানে 'আন্ডারডগ' গানের একটি রিমিক্স ব্যবহার করা হয়েছে, তা ১লা জুলাই, ২০২৫-এ প্রকাশিত হয়েছিল। রাইটের পরিচালনা এবং কিং-এর ডিস্টোপিয়ান দৃষ্টিভঙ্গির মিশ্রণ এই রিমেকে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে।
স্টিভেন ই. ডি’সুজা এবং রিচার্ড বাখম্যান (স্টিভেন কিং-এর ছদ্মনাম) দ্বারা লিখিত চিত্রনাট্য, কিং-এর মূল উপন্যাসের বিষয়বস্তুকে পর্দায় ফুটিয়ে তোলার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। 'দ্য রানিং ম্যান' এমন এক সময়ে মুক্তি পেয়েছিল যখন ডিস্টোপিয়ান কাহিনি এবং রিয়েলিটি টেলিভিশনের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ছিল। এই চলচ্চিত্রটি একটি সতর্কতামূলক বার্তা বহন করে, যা সমাজের উপর ক্ষমতা এবং গণমাধ্যমের প্রভাবের বিপদগুলি তুলে ধরে।
উপন্যাসের পটভূমি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের এক ডিস্টোপিয়ান আমেরিকায় এই কাহিনি স্থাপিত, যেখানে অর্থনৈতিক সংকট এবং ক্রমবর্ধমান হিংসা বিদ্যমান। বেন রিচার্ডস, একজন দরিদ্র যুবক, তার অসুস্থ মেয়ের চিকিৎসার জন্য মরিয়া হয়ে একটি টেলিভিশন গেম শো-তে অংশ নেয়। এই শো-তে প্রতিযোগীদের পেশাদার শিকারীদের হাত থেকে বাঁচতে হয়, এবং তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ সরাসরি সম্প্রচারিত হয়। এই কাহিনি কেবল একটি অ্যাকশন-থ্রিলার নয়, বরং এটি সমাজের প্রতিচ্ছবি, যেখানে বিনোদন এবং নিয়ন্ত্রণের মধ্যেকার সূক্ষ্ম রেখাটি ক্রমশ অস্পষ্ট হয়ে আসছে।
১৯৮৭ সালের মূল চলচ্চিত্রটি, যা আর্নল্ড শোয়ার্জেনেগার অভিনীত, বক্স অফিসে ৩৮.১ মিলিয়ন ডলার আয় করেছিল এবং রোটেন টমেটোজে ৬৭% রেটিং পেয়েছিল। তবে, এডগার রাইটের এই নতুন সংস্করণটি কিং-এর উপন্যাসের মূল সুরের প্রতি আরও বিশ্বস্ত থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা এটিকে আরও গভীর এবং অর্থপূর্ণ করে তুলবে। চলচ্চিত্রটি কেবল বিনোদনই দেবে না, বরং এটি আমাদের বর্তমান সমাজের প্রতিচ্ছবি হিসেবেও কাজ করবে, যেখানে গণমাধ্যম এবং ক্ষমতার অপব্যবহার একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।



