গত সপ্তাহে লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত সিনেমাকন ২০২৬ যেন এক নতুন যুগের অপেক্ষাগারে পরিণত হয়েছিল। 'অ্যাভেঞ্জার্স: ডুমসডে'-র প্রথম ট্রেলারটি কেবল ধাতব মুখোশে রবার্ট ডাউনি জুনিয়রকেই দেখায়নি—এটি আনুষ্ঠানিকভাবে হলিউডের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে মার্ভেলের অবস্থানকে পাকাপোক্ত করেছে।
কেন এই ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রধান আইকনকে খলনায়ক হিসেবে ফিরিয়ে আনা নিয়ে এত সংশয় দেখা দিচ্ছে?
আমরা এখানে একটি অনন্য অর্থনৈতিক পরীক্ষার মুখোমুখি হচ্ছি। বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী এর নির্মাণ বাজেট ৪০০ মিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে, ফলে লোকসান এড়াতে সিনেমাটিকে অন্তত ১.৫ বিলিয়ন ডলারের ব্যবসা করতে হবে। যে বিশ্বে সুপারহিরো সিনেমার প্রতি দর্শকদের ক্লান্তি এখন এক বাস্তবতা, সেখানে এই 'নস্টালজিক কাস্টিং'-এর ওপর বাজি ধরাকে ২০১৯ সালের সুবর্ণ সময় ফিরিয়ে আনার এক মরিয়া চেষ্টা বলে মনে হচ্ছে।
তবে এই বিশাল অঙ্কের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক সূক্ষ্ম মনস্তাত্ত্বিক খেলা। রুসো ভ্রাতৃদ্বয় এবং চিত্রনাট্যকার স্টিফেন ম্যাকফিলি 'মাল্টিভার্স'-এর দোহাই দিয়ে ডুম-এর চেহারার ব্যাখ্যা দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা করেননি। বরং, আমাদের কাছে ডাউনির চেহারার ভিক্টর ফন ডুমকে সম্পূর্ণ নতুন এক চরিত্র হিসেবে গ্রহণ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এটি একটি সাহসী পদক্ষেপ: টনি স্টার্কের প্রতি এক দশকের ভালোবাসাকে উপেক্ষা করে তার নতুন অবতারকে ঘৃণা করতে দর্শকদের বাধ্য করা।
অভিনেতা কি পারবেন তার নিজের তৈরি করা আগের সেই ইমেজকে ছাড়িয়ে যেতে?
এটি দীর্ঘমেয়াদে তারকাদের সাথে কাজ করার সম্পূর্ণ মডেলটিকে পুনর্মূল্যায়নের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। এই পরীক্ষা সফল হলে স্টুডিওগুলো তাদের নামী অভিনেতাদের অভাবনীয় সব চরিত্রে ব্যবহার করার অবাধ সুযোগ পেয়ে যাবে। মার্ভেল এখানে কেবল আমাদের কাছে সিনেমার টিকিট বিক্রি করছে না; ব্র্যান্ডের প্রতি আমাদের বিশ্বাস সাধারণ জ্ঞান ও গল্পের যৌক্তিকতাকে কতটা ছাপিয়ে যেতে পারে, তারা আসলে সেটিই পরীক্ষা করে দেখছে।
সামগ্রিকভাবে এটি চলচ্চিত্র শিল্পকে আবারও সেই সব বিশাল ইভেন্ট-ভিত্তিক প্রজেক্টের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে যা প্রজন্মগুলোকে একত্রিত করে। কিন্তু এখানে ভুলের মাশুল কেবল একটি সিনেমার ফ্লপ হওয়া নয়, বরং 'সমন্বিত মহাবিশ্ব' বা শেয়ারড ইউনিভার্সের পুরো ধারণার সম্ভাব্য পতন।
যে ব্যক্তিটি একবার পৃথিবী রক্ষা করেছিলেন, তিনি যদি এখন তা ধ্বংস করার সিদ্ধান্ত নেন, তবে আপনি কি তার ওপর আবারও বিশ্বাস রাখতে প্রস্তুত? ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে বক্স অফিসের আয় এই প্রশ্নের উত্তর দেবে।



