今年のサンダンス映画祭(Sundance Film Festival)でワールドプレミア上映された、Gabriela Osio Vanden、Jack Weisman監督のドキュメンタリー映画"Nuisance Bear"の写真が公開されたようだ。(Variety)
২০২৬ সালের সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কারে ভূষিত হলো প্রামাণ্যচিত্র ‘ন্যুইসেন্স বিয়ার’
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
২০২৬ সালের মর্যাদাপূর্ণ সানড্যান্স চলচ্চিত্র উৎসবে মার্কিন প্রামাণ্যচিত্র বিভাগে গ্র্যান্ড জুরি পুরস্কার অর্জন করেছে ‘ন্যুইসেন্স বিয়ার’ (Nuisance Bear) নামক চলচ্চিত্রটি। পরিচালক জুটি জ্যাক ওয়াইজম্যান এবং গ্যাব্রিয়েলা ওসিও ভ্যানডেন এই ৯০ মিনিটের দীর্ঘ তথ্যচিত্রটি নির্মাণ করেছেন, যা পার্ক সিটির এই বিশ্বখ্যাত উৎসবে তাদের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের অভিষেক হিসেবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক তৈরি করেছে। দীর্ঘ দশ বছরের নিরলস পরিশ্রম এবং গভীর গবেষণার ফসল এই ছবিটি মূলত তাদের পূর্ববর্তী একটি অস্কার-মনোনীত স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রের একটি বিস্তৃত ও গভীর রূপান্তর। এই দীর্ঘ নির্মাণ প্রক্রিয়াটি পরিচালকদের সুযোগ করে দিয়েছে আর্কটিক অঞ্চলের পরিবেশগত ও সামাজিক পরিবর্তনের একটি সামগ্রিক চিত্র দর্শকদের সামনে অত্যন্ত নিপুণভাবে উপস্থাপন করার।
এই তথ্যচিত্রটি মূলত কানাডার ম্যানিটোবা প্রদেশের চার্চিল শহর এবং আরভিয়াট আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের সাথে মেরু ভাল্লুকের অত্যন্ত জটিল ও সংঘাতপূর্ণ সম্পর্কের ওপর আলোকপাত করেছে। পরিচালকদ্বয় নিজেরা চিত্রগ্রহণের দায়িত্ব পালন করে আর্কটিক অঞ্চলের সেই রুক্ষ ও তুষারাবৃত ভূখণ্ডকে ক্যামেরাবন্দি করেছেন, যেখানে মানুষ এবং বিশালকায় শিকারি প্রাণীদের সহাবস্থান এখন এক অনিবার্য ও কঠিন বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের ২৪ জানুয়ারি প্রতিযোগিতামূলক বিভাগে চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার অনুষ্ঠিত হয়। এই চলচ্চিত্রটি কেবল বন্যপ্রাণীর জীবন নয়, বরং জলবায়ু পরিবর্তন এবং আদিবাসীদের প্রাচীন ঐতিহ্যের ওপর আধুনিক সভ্যতার আগ্রাসনের ফলে সৃষ্ট সংকটগুলোকে অত্যন্ত সাহসিকতার সাথে ফুটিয়ে তুলেছে।
কাহিনী বর্ণনায় এক গভীর ও ব্যক্তিগত মাত্রা যোগ করেছে আরভিয়াটের আদি বাসিন্দা প্রয়াত মাইক টুনালাক গিবনসের কণ্ঠস্বর। তিনি অত্যন্ত আবেগঘন কণ্ঠে ভাল্লুকের আক্রমণে তার নিজের ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনাটি বর্ণনা করেছেন, যা দর্শকদের হৃদয়ে এক দীর্ঘস্থায়ী শোকের আবহ তৈরি করে। এই বিষাদময় পরিবেশকে আরও জোরালো করে তুলেছে সুরকার ক্রিস্টোবাল তাপিয়া দে ভীরের তৈরি করা অসাধারণ আবহ সংগীত। উল্লেখ্য যে, ক্রিস্টোবাল ইতিপূর্বে ‘হোয়াইট লোটাস’ সিরিজের সুর সৃষ্টির জন্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক খ্যাতি অর্জন করেছেন। চলচ্চিত্রটি চার্চিল শহরের মধ্য দিয়ে মেরু ভাল্লুকদের বার্ষিক অভিবাসনের প্রতিটি ধাপ বিস্তারিতভাবে নথিভুক্ত করেছে, যে শহরটিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘বিশ্বের মেরু ভাল্লুকের রাজধানী’ হিসেবে চেনা হয়।
পর্যটক, শিকারি এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মীদের ভিড়ে ঠাসা এই জনপদে সমুদ্রের বরফ দেরিতে জমা এবং খাদ্যাভাবের কারণে ভাল্লুকরা প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছে। পরিচালকদ্বয় এখানে প্রকৃতির কোনো কাল্পনিক বা রোমান্টিক রূপ নয়, বরং মানুষের হস্তক্ষেপের ফলে সৃষ্ট এক জটিল ও রূঢ় ভূখণ্ডকে তুলে ধরতে চেয়েছেন। এখানে প্রাণীরা উপনিবেশবাদ এবং পুঁজিবাদের প্রভাবে পরিবর্তিত পরিবেশের মুখে তাদের অসাধারণ বুদ্ধিমত্তা ও টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে। চার্চিল থেকে আকাশপথে আরভিয়াট সম্প্রদায়ে স্থানান্তরের পর একটি নির্দিষ্ট ভাল্লুকের জীবনধারা কীভাবে বদলে যায়, তাও এই ছবিতে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বর্তমানে এই প্রশংসিত চলচ্চিত্রটি থেসালোনিকি আন্তর্জাতিক প্রামাণ্যচিত্র উৎসবে দর্শকদের জন্য প্রদর্শিত হচ্ছে।
উৎসসমূহ
Variety
Wikipedia
Playback
Eye for Film
Keeping It Reel
MUBI



