নেটফ্লিক্সের থ্রিলার 'অ্যাপেক্স' আসছে ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল, অভিনয় করছেন থেরন ও এজারটন
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স সম্প্রতি তাদের আসন্ন হাই-অকটেন থ্রিলার চলচ্চিত্র 'অ্যাপেক্স' (Apex)-এর বিশ্বব্যাপী মুক্তির তারিখ ঘোষণা করেছে। ছবিটি আগামী ২০২৬ সালের ২৪ এপ্রিল দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত হবে। এই উত্তেজনাপূর্ণ সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন আইসল্যান্ডের খ্যাতিমান পরিচালক বালথাজার করমাকুর, যিনি পূর্বে 'এভারেস্ট' এবং 'দ্য পারফেক্ট স্টর্ম'-এর মতো শ্বাসরুদ্ধকর চলচ্চিত্র নির্মাণ করে পরিচিতি লাভ করেছেন। ছবিটি প্রকৃতির পটভূমিতে এক তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার গল্প বলবে।
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য রচনা করেছেন জেরেমি রবিন্স। এর প্রযোজনা দায়িত্বে ছিল চেরনিন এন্টারটেইনমেন্ট, ইয়ান ব্রাইস প্রোডাকশনস, ডেনভার অ্যান্ড ডেলিলা প্রোডাকশনস এবং আরভিকে স্টুডিওস। এই প্রকল্পটি নিউ সাউথ ওয়েলস (NSW) রাজ্যের চলচ্চিত্র নির্মাণকে উৎসাহিত করার জন্য ২০২০ সালে প্রতিষ্ঠিত 'মেড ইন NSW ফান্ড' থেকে উল্লেখযোগ্য সমর্থন লাভ করেছে। প্রধান চিত্রগ্রহণ পর্ব শুরু হয়েছিল ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে, যার মূল স্থান ছিল সিডনি এবং এর পার্শ্ববর্তী অঞ্চলসমূহ।
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন শার্লিজ থেরন অভিনীত চরিত্র 'সাশা', যিনি এক গভীর ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের পর অস্ট্রেলিয়ার রুক্ষ প্রকৃতির মাঝে শান্তি খুঁজতে যান। তবে তার এই নির্জনতার সন্ধান এক মারাত্মক 'ধরা-ছোঁয়ার' খেলায় পরিণত হয়। এক নির্মম শিকারী, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ট্যারন এজারটন, সাশার পিছু নেয়। এই টানাপোড়েনের গল্পে এরিক বানা-ও একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন, যা নিঃসন্দেহে দর্শকদের আগ্রহ বাড়াবে।
পরিচালক বালথাজার করমাকুর, যিনি আরভিকে প্রোডাকশনসের মাধ্যমে প্রযোজক হিসেবেও যুক্ত, জোর দিয়ে বলেছেন যে নিউ সাউথ ওয়েলসের শুটিং লোকেশনটি চলচ্চিত্রের একটি অবিচ্ছেদ্য 'চরিত্র' হয়ে উঠেছে। অস্ট্রেলিয়ার এই প্রাকৃতিক দৃশ্যপট ছবির আবহ সৃষ্টির জন্য অপরিহার্য ছিল। অন্যদিকে, শার্লিজ থেরন, যিনি তার নিজস্ব সংস্থা সিক্রেট মেনুর মাধ্যমে প্রযোজনাও করেছেন, এই চরিত্রটিকে তার ক্যারিয়ারের অন্যতম কঠিন শারীরিক চ্যালেঞ্জ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, বেশিরভাগ ঝুঁকিপূর্ণ স্টান্ট, এমনকি জুতো ছাড়া পাথরে আরোহণও তিনি নিজে করেছেন।
নেটফ্লিক্সের অংশগ্রহণের ফলে এই প্রকল্পটি ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বৈশ্বিক মঞ্চে আসার সুযোগ পায়। স্ক্রিন এনএসডব্লিউ-এর তথ্য অনুযায়ী, নিউ সাউথ ওয়েলসে শুটিং চলার কারণে স্থানীয়ভাবে ৪০০-এর বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে এবং রাজ্যের অর্থনীতিতে আনুমানিক ৫৬ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলারের বেশি অর্থ আসার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, এই প্রকল্পের আওতায় 'স্ক্রিন ক্যারিয়ার্স'-এর মাধ্যমে নতুন পেশাদারদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে বিনিয়োগের ব্যবস্থা রাখা হয়েছিল।
এই সিনেমাটি কেবল একটি অ্যাকশন থ্রিলার নয়, বরং প্রকৃতির বিশালতার সামনে মানুষের টিকে থাকার এক কঠিন লড়াইয়ের প্রতিচ্ছবি। করমাকুরের পরিচালনায় এবং থেরন ও এজারটনের মতো শক্তিশালী অভিনেতাদের উপস্থিতিতে, 'অ্যাপেক্স' সম্ভবত নেটফ্লিক্সের অন্যতম আলোচিত প্রজেক্টে পরিণত হবে, যা দর্শকদের আসন ছেড়ে উঠতে দেবে না। ২০২৬ সালের এপ্রিলের জন্য এখন থেকেই অপেক্ষার পালা শুরু।
23 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Sportskeeda
People
Bleeding Cool News
Collider
GamesRadar+
Wikipedia
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
