বার্লিনালে প্রিমিয়ারের পর জোকো আনোয়ারের ‘ঘোস্ট ইন দ্য সেল’ বিশ্বজুড়ে ব্যাপক প্রশংসিত
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
ইন্দোনেশীয় চলচ্চিত্র নির্মাতা জোকো আনোয়ারের নতুন সৃষ্টি, অলৌকিক হরর-কমেডি ‘ঘোস্ট ইন দ্য সেল’ (Ghost in the Cell), বিশ্বমঞ্চে আত্মপ্রকাশের পরপরই আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ২০২৬ সালের ১২ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৭৬তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের (বার্লিনালে) ‘ফোরাম’ বিভাগে সিনেমাটি প্রদর্শিত হয়। ইন্দোনেশিয়া এবং দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ প্রযোজনায় নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি বিশ্বজুড়ে চলচ্চিত্র প্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, যা ইন্দোনেশীয় সিনেমার ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক প্রভাবকে আরও সুসংহত করল।
উত্তর আমেরিকায় এই সিনেমার পরিবেশনার স্বত্ব কিনেছে টেক্সাসের অ্যালেন-ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘ওয়েল গো ইউএসএ এন্টারটেইনমেন্ট’ (Well Go USA Entertainment), যারা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এশীয় হরর ও অ্যাকশন ঘরানার সিনেমার জন্য পরিচিত। এছাড়া স্পেন, রাশিয়া, তাইওয়ান এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু বাজারে সিনেমাটি প্রদর্শনের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। জার্মান পরিবেশক ‘প্লায়ন পিকচার্স’ (Plaion Pictures) সিনেমাটির স্বত্ব গ্রহণ করায় এটি জার্মান-ভাষী দেশগুলোতে মুক্তি পাবে। অন্যদিকে, ইন্দোনেশিয়ার প্রেক্ষাগৃহে সিনেমাটি ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সিনেমার কাহিনী আবর্তিত হয়েছে একটি কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত কারাগারকে কেন্দ্র করে, যেখানে বন্দিরা এক অতিপ্রাকৃত হুমকির সম্মুখীন হয়। ‘সাতান’স স্লেভস’ (Satan’s Slaves) এবং ‘ইমপেটিগোর’ (Impetigore)-এর মতো সিনেমার জন্য খ্যাত পরিচালক জোকো আনোয়ার এই ঘরানার সিনেমার মাধ্যমে গভীর সামাজিক ও রাজনৈতিক সমালোচনা তুলে ধরেছেন। আনোয়ার ব্যাখ্যা করেছেন যে, সিনেমার এই ভূত আসলে ইন্দোনেশিয়ার বন উজাড়ের সংকটের প্রতীক, যা অতিপ্রাকৃত উপাদানের মাধ্যমে পরিবেশগত বার্তা প্রদান করে। এখানে কারাগারটি ইন্দোনেশীয় সমাজের রূপক হিসেবে কাজ করে, যেখানে বন্দিরা সাধারণ নাগরিক এবং কারারক্ষীরা সরকারের প্রতিনিধিত্ব করে।
‘ঘোস্ট ইন দ্য সেল’-এর নির্মাণ প্রক্রিয়া ছিল বেশ জটিল ও কারিগরি চ্যালেঞ্জে ভরপুর। মাত্র ২২ দিনে এর চিত্রগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং এতে ‘ওয়ান-শট’ বা এক টেকে দৃশ্য ধারণের কৌশলের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সিনেমাটির অভিনয়শিল্পী দলে রয়েছেন প্রখ্যাত ইন্দোনেশীয় তারকা আবিমানা আরিয়াসত্য, যিনি একজন বন্দির চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং ব্রন্ট পালারে, যিনি সিস্টেমের দুর্নীতির প্রতীক হিসেবে খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। প্রযোজক টিয়া হাসিবুয়ান উল্লেখ করেছেন যে, স্থানীয় প্রেক্ষাপটে নির্মিত হলেও সিনেমার মূল বিষয়বস্তুগুলো আন্তর্জাতিক দর্শকদের হৃদয়ে নাড়া দিতে সক্ষম।
২০১৮ সাল থেকে আনোয়ার এই সিনেমার কাজ শুরু করেছিলেন, যাকে একটি ‘মজাদার-অদ্ভুত এবং মনমুগ্ধকর হরর-কমেডি’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এতে নৃশংস দৃশ্য, হাস্যরসাত্মক উপাদান এবং নাচের মুদ্রার এক অনন্য সংমিশ্রণ দেখা যায়। ২০২৬ সালের ১৩ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অনুষ্ঠিত বার্লিনালে উৎসবে সিনেমাটির চারটি প্রদর্শনীই ছিল হাউসফুল, যা দর্শক এবং চলচ্চিত্র শিল্পের পেশাদারদের মধ্যে এর প্রতি প্রবল আগ্রহের প্রমাণ দেয়।
এই আন্তর্জাতিক সাফল্য কেবল জোকো আনোয়ারের ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সিনেমার বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতার একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বার্লিনালের মতো মর্যাদাপূর্ণ আসরে এই ধরনের ঘরানার সিনেমার জয়জয়কার প্রমাণ করে যে, সৃজনশীল গল্প বলার ভঙ্গি এবং সামাজিক বার্তার সঠিক সমন্বয় ঘটলে তা ভৌগোলিক সীমানা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই চলচ্চিত্রটি প্রমাণ করে যে, সমসাময়িক সংকটগুলোকে রূপকের মাধ্যমে তুলে ধরলে তা বিশ্বজনীন আবেদন তৈরি করতে পারে।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Variety
Screen Daily
Kabar DKI
Kompasiana.com
Kabar DKI
Kabar DKI
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



