৭৬তম বার্লিনালে উৎসবে বেলা র্যামসি অভিনীত ‘সানি ড্যান্সার’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে জেনারেশন ১৪প্লাস বিভাগের শুভ সূচনা
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
৭৬তম বার্লিন আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব বা বার্লিনালের জেনারেশন ১৪প্লাস (Generation 14plus) প্রতিযোগিতা বিভাগের পর্দা উন্মোচিত হয়েছে জর্জ জ্যাকসের পরিচালিত প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সানি ড্যান্সার’ (Sunny Dancer)-এর মাধ্যমে। ২০২৬ সালের ১২ থেকে ২২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলা এই মর্যাদাপূর্ণ উৎসবের শৈল্পিক নির্দেশনার দায়িত্বে ছিলেন ট্রিশা টটল। উৎসবের অংশ হিসেবে ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে চলচ্চিত্রটির ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার বা বিশ্ব প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ এই প্রজেক্টটির চিত্রনাট্য ও পরিচালনা উভয়ই করেছেন জর্জ জ্যাকস। এই চলচ্চিত্রে বেলা র্যামসির পাশাপাশি নীল প্যাট্রিক হ্যারিস এবং জেসিকা গানিংয়ের মতো দক্ষ অভিনয়শিল্পীরা গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন।
চলচ্চিত্রটির কাহিনী আবর্তিত হয়েছে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী আইভিকে কেন্দ্র করে, যার চরিত্রে অভিনয় করেছেন বেলা র্যামসি। আইভি একজন ক্যান্সারজয়ী কিশোরী, যাকে তার বাবা-মা একই ধরনের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন কিশোর-কিশোরীদের জন্য আয়োজিত একটি সামার ক্যাম্পে পাঠান। পরিচালক জর্জ জ্যাকস নিজে ‘টিনেজ ক্যান্সার ট্রাস্ট’-এর একজন দূত হিসেবে কাজ করছেন। তিনি এই চলচ্চিত্রে চরিত্রগুলোকে কেবল রোগী হিসেবে নয়, বরং সাধারণ কিশোর-কিশোরী হিসেবে উপস্থাপন করতে চেয়েছেন, যেখানে ক্যান্সার তাদের জীবনের একটি গৌণ অংশ মাত্র। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পুরো সিনেমায় হাসপাতালের কোনো দৃশ্য রাখা হয়নি, যা চরিত্রগুলোর চিকিৎসা বহির্ভূত স্বাভাবিক জীবনের ওপর আলোকপাত করে। এটি মূলত একটি কমেডি-রোমান্টিক ঘরানার ‘কামিং-অফ-এজ’ কাহিনী, যা বন্ধুত্ব, প্রেম এবং আত্ম-উপলব্ধির গল্প বলে।
‘সানি ড্যান্সার’ চলচ্চিত্রের আবহ সংগীত ও সুর সৃষ্টি করেছেন হাইম (Haim) ব্যান্ডের এস্তে হাইম এবং জাচারি ডাউস। অভিনয়শিল্পীদের তালিকায় আরও রয়েছেন জেমস নর্টন, যিনি আইভির বাবা ববের চরিত্রে অভিনয় করেছেন এবং রুবি স্টোকস, যিনি আইভির বান্ধবী এলার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছেন। চলচ্চিত্রটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে ২৭ টেন প্রোডাকশনস, অ্যাথেনিয়াম প্রোডাকশনস এবং নাইট ট্রেন মিডিয়া। ওলিভার লনক্রেইন এই সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফার হিসেবে কাজ করেছেন। বিশ্বজুড়ে এই চলচ্চিত্রের বিক্রয় ও বিপণনের দায়িত্বে রয়েছে এমব্যাঙ্কমেন্ট ফিল্মস।
ডেজিরে নোসবুশ পরিচালিত বার্লিনালের জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রখ্যাত অভিনেত্রী মিশেল ইয়ো-কে সম্মানসূচক ‘গোল্ডেন বিয়ার’ প্রদান করা হয়। জেনারেশন ১৪প্লাস বিভাগে ‘সানি ড্যান্সার’ ছাড়াও ইউ জে-ইন পরিচালিত ‘রোড টু অবলিভিয়ন’ চলচ্চিত্রটিও প্রদর্শিত হয়েছে। দর্শকদের জন্য সুখবর হলো, ২০২৬ সালের গ্রীষ্মকালে যুক্তরাজ্যে ‘সানি ড্যান্সার’ মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে, তবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এর মুক্তির তারিখ এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এই চলচ্চিত্রটি কেবল একটি অসুস্থতার গল্প নয়, বরং প্রতিকূলতাকে জয় করে জীবনের জয়গান গাওয়ার একটি শৈল্পিক প্রচেষ্টা। জর্জ জ্যাকসের এই অভিষেক কাজটির মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের আবেগ ও অনুভূতির এক নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে। বার্লিনালের মতো বড় মঞ্চে এই ধরনের গল্পের উপস্থিতি বিশ্ব চলচ্চিত্রের বৈচিত্র্যকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এটি এমন এক সিনেমা যা দর্শকদের হাসাবে এবং জীবনের প্রতি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করতে সাহায্য করবে।
5 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Deadline
The Hollywood Reporter
24.mk
Berlinale
Sunny Dancer - Wikipedia
Screen Daily
Berlinale
British Council UK Films Database
The Hollywood Reporter
Berlinale
Screen Daily
Next Best Picture
MUBI
Wikipedia
Berlinale
Screen Daily
ALLIANCE OF WOMEN FILM JOURNALISTS
The Nation Newspaper
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
