মিশেল ওসেলো ফ্রান্সের প্ল্যানেটোরিয়ামগুলোর জন্য একটি নিমজ্জিত ৩৬০-ডিগ্রি চলচ্চিত্র উপস্থাপন করছেন
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
অ্যানিমেশনের প্রখ্যাত জাদুকর মিশেল ওসেলো, যিনি তার কালজয়ী 'কিরিকু' সিরিজের জন্য বিশ্বজুড়ে সমাদৃত, সম্প্রতি তার নতুন সৃষ্টি 'Les Lapins Trois-Oreilles' (তিন কানওয়ালা খরগোশ) নামক একটি স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র উন্মোচন করেছেন। এই বিশেষ প্রকল্পটি ফ্রান্সের বিভিন্ন প্রান্তে অবস্থিত প্ল্যানেটোরিয়ামগুলোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে, যেখানে ৩৬০-ডিগ্রি ভিউসহ অত্যাধুনিক নিমজ্জিত বা ইমারসিভ প্রজেকশন সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। নতুন প্রযুক্তির সাথে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিতে সর্বদা প্রস্তুত ওসেলো এই পারিবারিক বিনোদনের মাধ্যমে ফ্রান্সের ৭৫টি প্ল্যানেটোরিয়ামের কন্টেন্ট বা বিষয়বস্তুকে আধুনিকায়নের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন।
পঁচিশ মিনিটের এই মিউজিক্যাল বা সংগীতনির্ভর চলচ্চিত্রটি দর্শকদের সরাসরি মধ্যযুগীয় এক আবহে নিয়ে যায়। এখানে উন্নত অডিও-ভিজ্যুয়াল কৌশলের সমন্বয় ঘটানো হয়েছে যাতে দর্শকরা সম্পূর্ণ উপস্থিতির অনুভূতি বা 'ফুল ইমারসন' লাভ করতে পারেন। গল্পের মূল কেন্দ্রে রয়েছে এক সাহসী যুবক, যে একজন রাজকুমারীকে এক নিষ্ঠুর রিজেন্টের হাত থেকে উদ্ধার করার অভিযানে নামে। এই চলচ্চিত্রে মৌলিক সংগীতের পাশাপাশি স্থানিক বা স্প্যাশিয়াল সাউন্ড এবং প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল দৃষ্টিভঙ্গি ব্যবহার করা হয়েছে, যা দর্শকদের চারপাশ থেকে ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত করে রাখে।
১৯৪৩ সালের ২৭ অক্টোবর জন্মগ্রহণকারী এই কিংবদন্তি পরিচালক তার দীর্ঘ কর্মজীবনে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন। ২০২২ সালে অ্যানসি আন্তর্জাতিক অ্যানিমেটেড ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে তাকে 'ক্রিস্টাল ডি'অনার' (Cristal d'honneur) প্রদান করা হয়। এর আগে ১৯৮০ সালে তার 'দ্য থ্রি ইনভেন্টরস' (The Three Inventors) কাজের জন্য তিনি মর্যাদাপূর্ণ বাফটা (BAFTA) পুরস্কার লাভ করেছিলেন। 'Les Lapins Trois-Oreilles' চলচ্চিত্রটির প্রিমিয়ার ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বিশেষ সময়ে পরিচালক নিজেই বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে উপস্থিত থেকে দর্শকদের সাথে সরাসরি মতবিনিব্যয় করবেন বলে জানা গেছে।
এই প্রিমিয়ারটি বর্তমান সময়ের একটি বৃহত্তর প্রবণতাকে তুলে ধরে, যেখানে প্ল্যানেটোরিয়ামগুলো কেবল জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রদর্শনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে 'ফুলডোম' কন্টেন্টের মাধ্যমে নতুন অডিও-ভিজ্যুয়াল জগত তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। চলচ্চিত্র সমালোচক অলিভিয়ার ডেমায় ২০১৭ সালে ওসেলোকে নিয়ে একটি বই লিখেছিলেন, যেখানে তার সৃজনশীল যাত্রার বর্ণনা রয়েছে। কাগজের কাট-আউট দিয়ে শুরু করা ওসেলোর এই ইমারসিভ বা নিমজ্জিত প্রযুক্তিতে পদার্পণ তার শৈল্পিক বিবর্তনের একটি যৌক্তিক ধারাবাহিকতা। এই প্রদর্শনী সিরিজটি মূলত গম্বুজ আকৃতির বা ডোম সিনেমার বর্ণনামূলক শিল্পের সম্ভাবনাকে তুলে ধরবে, যা দর্শকদের প্রথাগত সমতল পর্দার সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেবে।
ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে এই উদ্যোগটি একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। ওসেলোর এই উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা কেবল শিশুদের জন্যই নয়, বরং সব বয়সের দর্শকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা প্রদান করবে। প্রযুক্তির সাথে শিল্পের এই মেলবন্ধন প্ল্যানেটোরিয়ামগুলোকে আধুনিক বিনোদন কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে দর্শকরা কেবল চলচ্চিত্র দেখবেন না, বরং গল্পের ভেতরে নিজেদের আবিষ্কার করবেন।
সামগ্রিকভাবে, 'Les Lapins Trois-Oreilles' প্রকল্পটি ওসেলোর সৃজনশীলতার এক নতুন পরীক্ষা। ২০২৬ সালের সেই মাহেন্দ্রক্ষণের জন্য এখন চলচ্চিত্র প্রেমীরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন। এই প্রকল্পের সাফল্য ভবিষ্যতে আরও অনেক নির্মাতাকে ৩৬০-ডিগ্রি ফরম্যাটে গল্প বলার ক্ষেত্রে অনুপ্রাণিত করবে এবং বিশ্বজুড়ে প্ল্যানেটোরিয়ামগুলোর ব্যবহারের সংজ্ঞাই বদলে দিতে পারে।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
La Croix
La Croix
mesinfos
Planétarium d'Épinal
Grenoble Alpes Métropole
Le Monde
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
