আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জনের পর বেলগ্রেডে নিকোলা ভুকচেভিচের চলচ্চিত্র ‘ওব্রাজ’-এর প্রিমিয়ার
সম্পাদনা করেছেন: An goldy
পরিচালক নিকোলা ভুকচেভিচের অত্যন্ত প্রতীক্ষিত চলচ্চিত্র ‘ওব্রাজ’ (OBRAZ) ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি, বুধবার বেলগ্রেডে তার জমকালো প্রিমিয়ারের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত। মন্টিনিগ্রো, ক্রোয়েশিয়া, জার্মানি এবং সার্বিয়ার যৌথ প্রচেষ্টায় নির্মিত এই ঐতিহাসিক ড্রামাটি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাক্কালের এক সংবেদনশীল প্রেক্ষাপটে চিত্রায়িত হয়েছে। ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর কটবাসে (Cottbus) এর বিশ্ব প্রিমিয়ার হওয়ার পর থেকে এটি ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং বিশ্বের ২৭টিরও বেশি মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসবে অংশগ্রহণ করেছে। মরক্কোর উৎসবে গ্র্যান্ড প্রিক্সসহ মোট ১৭টি আন্তর্জাতিক পুরস্কার বিজয়ী এই চলচ্চিত্রটি একজন নির্যাতিত অর্থোডক্স বালক এবং তাকে আশ্রয় দানকারী এক সাহসী আলবেনীয় মুসলিমের হৃদয়স্পর্শী কাহিনী বর্ণনা করে। এখানে দেখানো হয়েছে কীভাবে একজন মানুষ তার নিজের পরিবারের নিরাপত্তা তুচ্ছ করে সর্বজনীন মানবিক মূল্যবোধকে রক্ষা করতে সচেষ্ট হন।
বেলগ্রেডের জনপ্রিয় সিনেপ্লেক্স উশচে (Cineplexx Ušće) শপিং সেন্টারে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে এবং সিনেমাটি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে প্রবল আগ্রহ তৈরি হয়েছে তার প্রমাণ মেলে ইতিমধ্যেই শুরু হওয়া অগ্রিম টিকিট বিক্রির ধুম দেখে। পরিচালক নিকোলা ভুকচেভিচ, যিনি মন্টিনিগ্রো ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির চলচ্চিত্র ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান এবং চলচ্চিত্র পরিচালনার একজন স্বনামধন্য অধ্যাপক, তিনি এই চলচ্চিত্রটিকে কেবল একটি সিনেমা নয় বরং একটি ব্যক্তিগত ও শৈল্পিক মিশন হিসেবে অভিহিত করেছেন। বলকান অঞ্চলের বাস্তবতায় প্রাচীন ট্র্যাজেডির প্রতিফলন ঘটিয়েছেন তিনি এই কাজের মাধ্যমে। প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ জুভদিয়া হোদজিচের একটি সংকলন থেকে নেওয়া এই গল্পের মূল উপজীব্য হলো একটি পরিবারের প্রধানের নৈতিক দ্বিধা। তাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয় যে তিনি কি এক অসহায় শিশুকে তার শত্রুদের হাতে তুলে দেবেন, নাকি নিজের পরিবারের সদস্যদের জীবন বাজি রেখে এক অপরিচিত বালককে রক্ষা করে তার বংশের সম্মান বা ‘ওব্রাজ’ অক্ষুণ্ণ রাখবেন।
আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র সমালোচকরা এই সিনেমার গভীরতা ও নির্মাণের মুন্সিয়ানার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। বিশ্বখ্যাত বিনোদন সাময়িকী ‘ভ্যারাইটি’ (Variety) এই চলচ্চিত্রটিকে বর্তমান সময়ের এক শক্তিশালী এবং অস্বস্তিকর কিন্তু অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চিত্রায়ণ হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাদের মতে, এটি এমন এক ঐতিহাসিক ড্রামা যেখানে পাশবিক সহিংসতার চেয়ে মানবিক মূল্যবোধ অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে ধরা দিয়েছে। এই চলচ্চিত্রে একঝাঁক প্রতিভাবান আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অভিনয়শিল্পী কাজ করেছেন, যাদের মধ্যে অন্যতম হলেন পুরস্কার বিজয়ী অভিনেতা এডন রিজভনোল্লি (Edon Rizvanolli)। পাম স্প্রিংস আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো বড় আসরে এই সিনেমার অন্তর্ভুক্তি প্রমাণ করে যে, এর কাহিনী বিশ্বজুড়ে যেকোনো সংস্কৃতির মানুষের হৃদয়ে নাড়া দিতে সক্ষম।
বেলগ্রেডের এই বিশেষ প্রদর্শনীর পর, ২০২৬ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে এই অঞ্চলের বিভিন্ন প্রেক্ষাগৃহে ‘ওব্রাজ’ বাণিজ্যিকভাবে মুক্তি পেতে যাচ্ছে। এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রটি উৎসবের গণ্ডি পেরিয়ে সাধারণ দর্শকদের দোরগোড়ায় পৌঁছে যাবে। প্রায় ১০ লক্ষ ইউরো (১,০০০,০০০ ইউরো) বাজেটের এই বিশাল আয়োজনের চিত্রগ্রহণ করা হয়েছে স্টারি বার, চরমনিসা এবং মর্তভিকা ক্যানিয়নের মতো নয়নাভিরাম ও ঐতিহাসিক লোকেশনে। সিনেমাটির সিনেমাটোগ্রাফির দায়িত্বে ছিলেন দক্ষ চিত্রগ্রাহক জর্জে স্তোইলিকোভিচ। সারাগোসা চলচ্চিত্র উৎসবে সেরা চিত্রনাট্যের পুরস্কার গ্রহণের সময় পরিচালক ভুকচেভিচ এমন সব ‘সুপারহিরো’দের গল্প বলার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন, যারা সাধারণ ভেদাভেদের ঊর্ধ্বে উঠে মানবতার জয়গান গায়। নব্বইয়ের দশকের যুদ্ধবিধ্বস্ত বলকান অঞ্চলে কাটানো তার নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা এই চলচ্চিত্রে এক বিশেষ গভীরতা যোগ করেছে।
কটবাস চলচ্চিত্র উৎসবের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই জয়যাত্রা কায়রো আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মতো বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ মঞ্চেও সমাদৃত হয়েছে, যা এফআইএপিএফ (FIAPF) কর্তৃক স্বীকৃত ১৫টি ‘এ’ ক্যাটাগরির উৎসবের একটি। এছাড়া সারাগোসা, ইতালির ক্যালাব্রিয়ার আই-ফেস্ট (i-Fest) এবং রাশিয়ার কাজানে অনুষ্ঠিত ‘আলতিন মিনবার’ উৎসবে প্রাপ্ত সম্মাননাগুলো নিশ্চিত করে যে, চলচ্চিত্রটির মানবিক ও নৈতিক বার্তাটি বিশ্বব্যাপী দর্শকদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছেছে। মন্টিনিগ্রোর সাংস্কৃতিক অঙ্গন যখন প্রায়শই প্রাতিষ্ঠানিক পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধুঁকছে, তখন এই ধরনের আন্তর্জাতিক সাফল্য প্রমাণ করে যে শিল্পের প্রতি অদম্য নিষ্ঠা কীভাবে একটি স্থানীয় কাহিনীকে বিশ্বজনীন করে তুলতে পারে। এটি কেবল একটি চলচ্চিত্র নয়, বরং সংকটের সময়ে মানুষের নৈতিক দৃঢ়তার এক অনন্য দলিল।
3 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Telegraf.rs
Film „Obraz” - Glavni grad Podgorica
Film "Obraz" Nikole Vukčevića stiže u Beograd nakon 27 svetskih festivala i 17 osvojenih nagrada - Telegraf.rs
Beogradska bioskopska premijera i početak regionalne kino-distribucije filma „Obraz“ - Mreža kinoprikazivača Srbije
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
