ওয়ার্মহোল, যা জনপ্রিয় কল্পনায় স্থান বা কালের মধ্য দিয়ে সংক্ষিপ্ত পথ হিসেবে পরিচিত, তার উৎপত্তি আলবার্ট আইনস্টাইন এবং নাথান রোজেনের ১৯৩৫ সালের কাজ থেকে উদ্ভূত আইনস্টাইন-রোজেন সেতু নামক একটি ধারণায়। এই ধারণাটি মূলত সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম পদার্থবিজ্ঞানের মধ্যে সামঞ্জস্য আনার লক্ষ্যে তৈরি একটি বিশুদ্ধ গাণিতিক কাঠামো ছিল, কোনো বাস্তব ভ্রমণের মাধ্যম হিসেবে নয়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি প্রস্তাব করছে যে এই সেতুটি স্থান-কালের একটি দর্পণকে প্রতিনিধিত্ব করে, যা সময়ের দুটি আণুবীক্ষণিক তীরকে সংযুক্ত করে, এবং এটি কোয়ান্টাম মেকানিক্স ও সাধারণ আপেক্ষিকতার একীকরণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে।
শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা অনুসারে, অতিক্রমযোগ্য ওয়ার্মহোলের ধারণা পরবর্তীকালে জনপ্রিয়তা লাভ করলেও, বিশ্লেষণ নিশ্চিত করে যে মূল ER সেতুগুলি এত দ্রুত বন্ধ হয়ে যায় যে কোনো কিছুর পক্ষে পার হওয়া সম্ভব নয়, যা সেগুলিকে অস্থির এবং অতিক্রম অযোগ্য করে তোলে। আধুনিক কোয়ান্টাম ব্যাখ্যায়, সেতুটিকে একটি কোয়ান্টাম অবস্থার দুটি পরিপূরক উপাদান হিসেবে দেখা হয়, যা ব্ল্যাক হোলগুলির মতো ঘটনার কাছাকাছি একটি সম্পূর্ণ, বিপরীতমুখী কোয়ান্টাম বিবরণের জন্য অপরিহার্য। এই কালিক কাঠামো স্বাভাবিকভাবেই স্টিফেন হকিংয়ের ১৯৭৪ সালের ব্ল্যাক হোল তথ্য প্যারাডক্সের সমাধান করে, কারণ তথ্য বিপরীতমুখী কালিক দিক বরাবর বিকশিত হওয়ার মাধ্যমে তার সম্পূর্ণতা বজায় রাখে।
এই কাঠামোর প্রমাণ মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ পটভূমিতে (CMB) নিহিত থাকতে পারে, যা একটি স্থায়ী অপ্রতিসাম্য প্রদর্শন করে যা প্রমিত মডেলগুলি ব্যাখ্যা করতে সংগ্রাম করে। CMB হলো মহাবিশ্বের সর্বত্র বিস্তৃত মাইক্রোওয়েভ বিকিরণ, যা বিগ ব্যাংয়ের অবশিষ্টাংশ। এই বিকিরণে কিছু ছোট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ তাপমাত্রার তারতম্য রয়েছে যা COBE, WMAP এবং প্ল্যাঙ্ক মহাকাশযান দ্বারা পরিমাপ করা হয়েছে। ২০২৬ সালের প্রথম দিকের একটি বিশ্লেষণে দেখা গেছে যে একটি সময়-বিপরীত প্রতিসাম্য মডেল CMB ডাইপোল অ্যানোমালিকে প্রমিত মডেলের তুলনায় ৬৫০ গুণ ভালোভাবে ব্যাখ্যা করে। এই ডাইপোল অ্যানোমালি হলো CMB-তে বৃহত্তম তাপমাত্রার পার্থক্য, যেখানে আকাশের এক দিক অন্য দিকের তুলনায় উষ্ণ এবং বিপরীত দিক শীতল থাকে, যা প্রায় এক হাজার ভাগের এক ভাগ।
এই ধারণাটি এই মহাজাগতিক সম্ভাবনার সাথে সংযুক্ত যে বিগ ব্যাং দুটি সময়-বিপরীত মহাজাগতিক দশার মধ্যে একটি কোয়ান্টাম 'বাউন্স' ছিল। এই 'ব্ল্যাক হোল ইউনিভার্স' কাঠামোতে, আমাদের মহাবিশ্ব একটি অভিভাবক মহাবিশ্বের ব্ল্যাক হোলের অভ্যন্তর হতে পারে, যা ডার্ক ম্যাটার অবশিষ্টাংশগুলিকে ব্যাখ্যা করতে পারে। ডার্ক ম্যাটার হলো এক ধরণের অদৃশ্য পদার্থ যা আলো বা অন্যান্য তড়িৎচুম্বকীয় বিকিরণের সাথে মিথস্ক্রিয়া করে না, এবং এটি মহাকর্ষীয় প্রভাব দ্বারা অনুমান করা হয় যা সাধারণ আপেক্ষিকতা দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায় না।
এই তাত্ত্বিক পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হলো সাধারণ আপেক্ষিকতা এবং কোয়ান্টাম বলবিদ্যাকে একত্রিত করার চলমান কেন্দ্রীয় সমস্যা। নতুন গবেষণার লেখকদের মধ্যে রয়েছেন কে. শ্রাবণ কুমার এবং জোয়াও মার্তো, এবং অধ্যাপক গাজতানাগা 'ব্ল্যাক হোল ইউনিভার্স' কাঠামোর সাথে যুক্ত। এই নতুন বোঝাপড়াটি ER সেতুগুলির একটি নতুন উপলব্ধিকে তুলে ধরে, যা ক্লাসিক্যাল ওয়ার্মহোলগুলির সাথে সম্পর্কিত নয়, বরং এটি মূল ER ধাঁধার সমাধান করে এবং কোয়ান্টাম ক্ষেত্র তত্ত্ব ইন কার্ভড স্পেসটাইম (QFTCS)-এর একটি একক বর্ণনা প্রদান করে। এই নতুন দৃষ্টিভঙ্গি স্থানিক ভ্রমণের পরিবর্তে একটি কালিক প্রবেশদ্বারকে কেন্দ্র করে, যা পরামর্শ দেয় যে সময় গভীরতম কোয়ান্টাম স্তরে উভয় দিকে প্রবাহিত হয়, যা বিদ্যমান পদার্থবিজ্ঞানের তত্ত্বগুলিকে পরিপূরক করে। লুপ কোয়ান্টাম কসমোলজি (LQC)-এর প্রেক্ষাপটে, এই ধরনের বাউন্স মহাকর্ষীয় পতনের ফলে সৃষ্ট সিঙ্গুলারিটিগুলিকে এড়িয়ে যেতে পারে, যা প্ল্যাঙ্ক তারার অবশিষ্টাংশ তৈরি করে যা ডার্ক ম্যাটার হিসাবে কাজ করতে পারে। যদিও এই মডেলটি CMB অ্যানোমালিগুলির জন্য শক্তিশালী পরিসংখ্যানগত সুবিধা প্রদান করে, তবে এটি এখনও মূলত তাত্ত্বিক, এবং ম্যাক্রোস্কোপিক ওয়ার্মহোলের জন্য কোনো পর্যবেক্ষণমূলক প্রমাণ নেই। এই গবেষণাটি পদার্থবিজ্ঞানের দুটি প্রধান স্তম্ভকে একত্রিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ তাত্ত্বিক অগ্রগতি উপস্থাপন করে।



