In first, three shipwrecks from biblical times uncovered off the coast of Israel timesofisrael.com/in-first-three…
ইসরায়েলের উপকূলে জলের নিচে লৌহ যুগের তিন জাহাজের মালবাহী দ্রব্যের আবিষ্কার
সম্পাদনা করেছেন: Iryna Balihorodska
ইসরায়েলের কারমেল উপদ্বীপের উপকূলে প্রত্নতাত্ত্বিকরা লৌহ যুগের তিনটি জাহাজের ধ্বংসাবশেষের সন্ধান পেয়েছেন। এই জাহাজগুলির মালবাহী দ্রব্য ডোর উপহ্রদ, যা তানতুরা নামেও পরিচিত, তার বালির নিচে চাপা পড়েছিল। বৈজ্ঞানিক জার্নাল 'অ্যান্টিকুইটি'তে প্রকাশিত এই আবিষ্কারটি ইসরায়েলি জলসীমায় লৌহ যুগের জাহাজের মালবাহী দ্রব্যের প্রথম নথিভুক্ত ঘটনা। এটি এই অঞ্চলের সামুদ্রিক বাণিজ্যের এক বিরল ও সরাসরি প্রমাণ সরবরাহ করে, যা পূর্বে মূলত স্থলভাগের অনুসন্ধানের মাধ্যমেই জানা যেত। আবিষ্কৃত এই মালবাহী দ্রব্যগুলি লৌহ যুগের বিভিন্ন সময়কালের প্রতিনিধিত্ব করে, যা শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে দক্ষিণ লেভান্টের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক গতিশীলতা অনুধাবন করতে সাহায্য করে।
Iron Age ship cargoes from the harbour of Dor (Israel) cambridge.org/core/journals/…
Dor L1, Antiqui (2025) এর কার্গোর মধ্যে সংরক্ষণ জার পাওয়া গেছে
ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়, সান দিয়েগোর অধ্যাপক টমাস লেভি এবং হাইফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসাফ ইয়াসুর-ল্যান্ডাউ-এর নেতৃত্বে একটি আন্তর্জাতিক দল এই গবেষণাটি পরিচালনা করে। জাহাজগুলির ধ্বংসাবশেষ পরীক্ষা করার জন্য প্রত্নতাত্ত্বিকরা আধুনিক প্রযুক্তি এবং ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতির সমন্বয় ঘটিয়েছেন। এর মধ্যে রয়েছে ত্রিমাত্রিক ফটোগ্রামেট্রি, মাল্টিস্পেকট্রাল ইমেজিং এবং ডিজিটাল ম্যাপিং। এখন পর্যন্ত উপহ্রদের বালুকাময় তলদেশের মাত্র প্রায় এক-চতুর্থাংশ খনন করা হয়েছে। তবে এই প্রাথমিক অনুসন্ধানগুলি থেকেই মালবাহী দ্রব্যের কাঠামো চিহ্নিত করা এবং সেগুলির কালানুক্রম প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছে।
তিনটি মালবাহী দ্রব্যের প্রতিটিই লৌহ যুগের ভিন্ন ভিন্ন সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। এদের মধ্যে সবচেয়ে প্রাচীন হলো ডোর-এম (খ্রিস্টপূর্ব একাদশ শতক)। এই মালবাহী দ্রব্যের মধ্যে ছিল মাটির তৈরি মজুত রাখার পাত্র এবং সাইপ্রো-মিনোয়ান লিপিতে খোদাই করা একটি নোঙর। এই প্রমাণগুলি সাইপ্রাস ও মিশরের সঙ্গে যোগাযোগের ইঙ্গিত দেয়, আর পাত্রগুলির ধরন ফিনিশীয় উপকূলের সঙ্গে সম্পর্কের দিকে নির্দেশ করে।
দ্বিতীয় মালবাহী দ্রব্য, ডোর-এল১ (খ্রিস্টপূর্ব নবম থেকে অষ্টম শতক), ফিনিশীয় পাত্র এবং পাতলা দেয়ালের বাটি দিয়ে গঠিত ছিল। এটি আমদানি হ্রাসের একটি সময়ের সঙ্গে মিলে যায়, তবে একই সাথে বন্দরের সামুদ্রিক কার্যকলাপের ধারাবাহিকতা প্রদর্শন করে। সবচেয়ে ভালোভাবে সংরক্ষিত মালবাহী দ্রব্যটি হলো ডোর-এল২ (খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকের শেষভাগ – ষষ্ঠ শতকের শুরু)। এতে সাইপ্রিয়ট-শৈলীর ঝুড়ি-হাতলযুক্ত অ্যাম্ফোরা, আঙ্গুরের বীজের অবশেষ, ধাতুবিদ্যায় ব্যবহৃত লোহার পিণ্ড এবং ধাতুমল (slag) ছিল। এছাড়া কাঠ ও সিসার উপাদানযুক্ত একটি নোঙরও পাওয়া যায়। এই বিশেষ মালবাহী দ্রব্যটি প্রাথমিক শিল্পভিত্তিক ধাতু বাণিজ্যের বিকাশের সাক্ষ্য বহন করে।
ঐতিহাসিকভাবে, ডোর উপহ্রদ একটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য কেন্দ্র হিসেবে কাজ করত, যা মিশর, ফিনিশিয়া এবং পরবর্তীকালে অ্যাসিরিয়া ও ব্যাবিলোনিয়ার সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করেছিল। এই মালবাহী দ্রব্যগুলি খ্রিস্টপূর্ব একাদশ শতক থেকে ষষ্ঠ শতক পর্যন্ত এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনগুলিকে তুলে ধরে। এই সময়ের মধ্যে ডোর কখনও উত্তর ইসরায়েল রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে ছিল, আবার কখনও অ্যাসিরীয় এবং ব্যাবিলনীয় সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। এমনকি রাজনৈতিক পতনের সময়েও সামুদ্রিক পথগুলি সক্রিয় ছিল এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডোর তার মূল ভূমিকা বজায় রেখেছিল।
এই আবিষ্কার পূর্ব ভূমধ্যসাগরের লৌহ যুগ সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রসারিত করেছে। লোহার পিণ্ড এবং বিভিন্ন ধরনের মৃৎপাত্র প্রমাণ করে যে সেই সময়ে সামুদ্রিক বাণিজ্য একটি সুসংগঠিত এবং জটিল ব্যবস্থা ছিল। এটি ধাতুবিদ্যা এবং বিস্তৃত পরিসরের রপ্তানি পণ্যের বিকাশের দিকে ইঙ্গিত করে। বিশ্লেষণাত্মক পদ্ধতিগুলি ব্যবহার করে প্রত্নতাত্ত্বিকরা মালবাহী দ্রব্যের সঠিক তারিখ নির্ধারণ করতে এবং জাহাজের ধ্বংসাবশেষের স্তরবিন্যাস পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন, যা সেই সময়ের সামুদ্রিক অর্থনীতি অধ্যয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। প্রত্নতাত্ত্বিক দলটি জাহাজের অতিরিক্ত অংশ এবং নাবিকদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সহ অন্যান্য নিদর্শন খুঁজে বের করার জন্য খনন কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে, যা নতুন বৈজ্ঞানিক প্রকাশনার ভিত্তি তৈরি করবে এবং লেভান্টে লৌহ যুগের সামুদ্রিক বাণিজ্য সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে আরও সমৃদ্ধ করবে।
উৎসসমূহ
Pravda
Focus.ua
UNIAN.net



