আদি মহাবিশ্বের বিশাল গ্যালাক্সি GS-10578-এর ধীর বিলুপ্তি পর্যবেক্ষণ করলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

আশ্‌ত্রোনমারা GS-10578 খুঁজে পান, এটিকে 'পাবলো গ্যালাক্সি' বলা হয়েছে, এটি পরিচিত সবচেয়ে পুরোনো মৃত গ্যালাক্সিগুলোর একটি, বিগব্যাং-এর প্রায় তিন বিলিয়ন বছর পরে পর্যবেক্ষিত হয়েছে।

আদি মহাবিশ্বের একটি বিরল মহাজাগতিক ঘটনা শনাক্ত করেছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। 'পাবলোস গ্যালাক্সি' নামে পরিচিত বিশাল গ্যালাক্সি GS-10578-এ নক্ষত্র তৈরির প্রক্রিয়া ধীরে ধীরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মূলত শীতল গ্যাসের ভাণ্ডার ফুরিয়ে যাওয়ার কারণেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিগ ব্যাং বা মহাবিস্ফোরণের প্রায় তিন বিলিয়ন বছর পরের এই ঘটনাটি আদি মহাবিশ্বের গ্যালাক্সিগুলোর বিবর্তন সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করে। ২০২৬ সালে জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) এবং আলমা (ALMA) টেলিস্কোপের যৌথ তথ্য ব্যবহার করে পরিচালিত এই গবেষণায় দেখা গেছে যে, গ্যালাক্সিটির কেন্দ্রে থাকা একটি অতিবিশাল কৃষ্ণগহ্বর নতুন নক্ষত্র তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহে বাধা দিচ্ছে।

GS-10578 গ্যালাক্সিটি তার বয়সের তুলনায় অত্যন্ত বিশাল, যার নক্ষত্রপুঞ্জের ভর সূর্যের ভরের প্রায় ২০০ বিলিয়ন গুণের সমান। এই গ্যালাক্সিতে নক্ষত্র তৈরির প্রধান পর্যায়টি ছিল ১২.৫ থেকে ১১.৫ বিলিয়ন বছর আগে, যা এর প্রাথমিক বিকাশের একটি উত্তাল সময়কে নির্দেশ করে। নক্ষত্র গঠন বন্ধ হওয়ার এই প্রক্রিয়াটিকে 'ডেথ বাই আ থাউজেন্ড কাটস' বা হাজারো ক্ষতের মাধ্যমে মৃত্যু হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা কোনো আকস্মিক ধ্বংসের পরিবর্তে একটি ধীরগতির দমন প্রক্রিয়াকে বোঝায়। এই আবিষ্কারটি আদি মহাবিশ্বে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মাধ্যমে খুঁজে পাওয়া অসংখ্য বিশাল এবং অপ্রত্যাশিতভাবে পরিণত গ্যালাক্সিগুলোর রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করছে।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের নেতৃত্বে পরিচালিত এই গবেষণা দল নিশ্চিত করেছে যে, গ্যালাক্সিটির কৃষ্ণগহ্বর বারবার চারপাশের গ্যাসকে উত্তপ্ত করে বাইরে বের করে দিচ্ছে। এর ফলে নতুন নক্ষত্র তৈরির উপাদান আর সঞ্চিত হতে পারছে না, যাকে বিজ্ঞানীরা 'জিরো ফ্লুইড ফ্লো' বা শূন্য তরল প্রবাহের ঘটনা হিসেবে অভিহিত করেছেন। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের স্পেকট্রোস্কোপি পরীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্রতি সেকেন্ডে ৪০০ কিলোমিটার বেগে নিরপেক্ষ গ্যাস বাইরে বেরিয়ে যাচ্ছে। এর ফলে প্রতি বছর প্রায় ৬০টি সূর্যের সমান ভরের গ্যাস হারিয়ে যাচ্ছে। এই গতিতে গ্যাস নির্গত হতে থাকলে গ্যালাক্সিটির অবশিষ্ট জ্বালানি মাত্র ১৬ থেকে ২২০ মিলিয়ন বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে, যা মহাজাগতিক সময়ের তুলনায় অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।

আলমা (ALMA) টেলিস্কোপের পর্যবেক্ষণগুলো শীতল হাইড্রোজেনের নির্দেশক হিসেবে কার্বন মনোক্সাইড শনাক্ত করার চেষ্টা করেছিল, যা শেষ পর্যন্ত জ্বালানির তীব্র ঘাটতি নিশ্চিত করেছে। ক্যাভেন্ডিশ ল্যাবরেটরির গবেষক ড. জান শোলজ উল্লেখ করেছেন যে, শীতল গ্যাসের এই অনুপস্থিতি গ্যালাক্সিটির কোনো আকস্মিক বিপর্যয় নয় বরং একটি ধীরগতির শ্বাসরোধের প্রমাণ। মজার বিষয় হলো, পাবলোস গ্যালাক্সিটি এখনও একটি সুসংগঠিত নক্ষত্রপুঞ্জের চাকতি বা ডিস্ক বজায় রেখেছে। এটি প্রমাণ করে যে, নক্ষত্র গঠন দমনের এই প্রক্রিয়াটি গ্যালাক্সির মূল কাঠামোকে ধ্বংস করেনি। এই ঘটনাটি দেখায় যে কীভাবে অতিবিশাল কৃষ্ণগহ্বরগুলো ধীরগতির শ্বাসরোধ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদি মহাবিশ্বকে রূপদান করে।

'নেচার অ্যাস্ট্রোনমি' সাময়িকীতে প্রকাশিত এই গবেষণাটি প্রাচীন গ্যালাক্সিগুলোর বিবর্তন মানচিত্র তৈরিতে জেমস ওয়েব এবং আলমা টেলিস্কোপের সক্ষমতাকে পুনরায় নিশ্চিত করেছে। বর্তমান মহাবিশ্বের বিশাল গ্যালাক্সিগুলোর ক্ষেত্রে সাধারণত সক্রিয় গ্যালাকটিক নিউক্লিয়াস (AGN) থেকে আসা ফিডব্যাককে বিলুপ্তির প্রধান কারণ মনে করা হলেও, এই আদি প্রমাণটি নির্দেশ করে যে প্রাথমিক পর্যায়েও অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়াগুলোই প্রভাবশালী ছিল। নক্ষত্র দমনের এই জটিল মেকানিজমগুলো আরও স্পষ্টভাবে বোঝার জন্য ভবিষ্যতে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ ব্যবহার করে উত্তপ্ত হাইড্রোজেনের ওপর আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

মহাবিশ্বের এই প্রাচীন রহস্য উন্মোচন বিজ্ঞানীদের গ্যালাক্সি গঠনের প্রচলিত তত্ত্বগুলো পুনর্মূল্যায়ন করতে বাধ্য করছে। GS-10578-এর মতো গ্যালাক্সিগুলোর জীবনচক্র পর্যবেক্ষণ করে আমরা বুঝতে পারছি যে, কৃষ্ণগহ্বর কেবল ধ্বংসাত্মক নয়, বরং তারা গ্যালাক্সির বিবর্তন এবং স্থবিরতার প্রধান কারিগর হিসেবেও কাজ করে। জেমস ওয়েব এবং আলমার মতো উন্নত প্রযুক্তির সমন্বয় আমাদের মহাকাশ বিজ্ঞানের এক নতুন দিগন্তে নিয়ে যাচ্ছে, যেখানে সময়ের শুরুর দিকের ঘটনাগুলোও এখন আমাদের হাতের নাগালে।

9 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • R7 Notícias

  • Nature Astronomy

  • CPG Click Petróleo e Gás

  • The Guardian

  • The Debrief

  • UOL Notícias

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।