Space Owl- এর গ্যাল্যাক্সিগুলো থেকে পালিয়ে যাওয়া একটি সুপারম্যাসিভ ব্ল্যাক হোল নক্ষত্রগুলোর ট্রেইল রেখে পালায় (Li et al./ Robert Lea দ্বারা প্রদত্ত চিত্র Canva সহ তৈরি)।
জেমস ওয়েব টেলিস্কোপের মাধ্যমে মহাকাশ থেকে ছিটকে যাওয়া অতিবিশাল কৃষ্ণগহ্বরটির অস্তিত্ব নিশ্চিতকরণ
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ (JWST) থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম অতিবিশাল কৃষ্ণগহ্বরটির অস্তিত্ব নিশ্চিত করেছেন, যা তার নিজস্ব ছায়াপথ ছেড়ে মহাকাশে বিতাড়িত হয়েছে। এই পর্যবেক্ষণটি ২০২৩ সালে হাবল টেলিস্কোপ দ্বারা প্রাপ্ত প্রাথমিক তথ্যকে দৃঢ়ভাবে সমর্থন করে, যখন একটি দীর্ঘ, রৈখিক কাঠামো শনাক্ত করা হয়েছিল যা একটি বিশাল বস্তুর গতি নির্দেশ করছিল।
এই বহিষ্কৃত মহাজাগতিক বস্তুটি বর্তমানে 'কসমিক আউল' নামে পরিচিত দুটি মিথস্ক্রিয় বলয়াকার ছায়াপথের কেন্দ্রে অবস্থান করছে। পৃথিবী থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৯ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। এই কৃষ্ণগহ্বরটির ভর সূর্যের ভরের প্রায় ১০ মিলিয়ন গুণ। এটি প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১০০০ কিলোমিটার (বা প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২.২ মিলিয়ন মাইল) গতিতে ধাবমান। এই গতি এতটাই বেশি যে এটি তার মূল ছায়াপথের মহাকর্ষীয় আকর্ষণ কাটিয়ে আন্তঃছায়াপথীয় শূন্যতায় প্রবেশ করতে সক্ষম।
বস্তুটির দ্রুত গতির সুস্পষ্ট প্রমাণ হিসেবে এর সামনে একটি বিশাল ধনুকের মতো শক ওয়েভ (bow-shock) এবং এর পেছনে প্রায় ২০০,০০০ আলোকবর্ষ (৬২ কিলোপারসেক) দীর্ঘ একটি উজ্জ্বল গ্যাসের রৈখিক পথ দেখা যাচ্ছে। এই গতিবেগ নিশ্চিত করা হয়েছে এই পথের একেবারে শেষ প্রান্তে থাকা গ্যাসের গতির নতি (velocity gradient) নিখুঁতভাবে পরিমাপ করার মাধ্যমে। এই পরিমাপ অনুযায়ী, এর গতি পৃথিবীর শব্দের গতির চেয়ে প্রায় ৩০০০ গুণ বেশি। তুর্কি গবেষণাপত্রে এই বস্তুটিকে RBH-1 হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে এর গতি প্রায় ৯৫৪ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ড বলে অনুমান করা হয়েছিল।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের পিটার ভ্যান ডককুমের নেতৃত্বে গবেষক দলটি JWST-এর NIRSpec যন্ত্র ব্যবহার করে এই তথ্য যাচাই করে। যন্ত্রটি শক ফ্রন্টের ঠিক আগে এবং পরে গ্যাসের গতিতে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার প্রতি সেকেন্ডের একটি আকস্মিক পার্থক্য শনাক্ত করে। এই আবিষ্কারটি অতিবিশাল কৃষ্ণগহ্বরগুলির সংঘর্ষের ফলে সৃষ্ট পরিণতির তাত্ত্বিক পূর্বাভাসের সরাসরি প্রমাণ সরবরাহ করে, যা বৈজ্ঞানিক সাহিত্যে প্রায় পাঁচ দশক ধরে আলোচিত হয়ে আসছে। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, দুটি অতিবিশাল কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষের সময় অপ্রতিসম ধাক্কার কারণে সৃষ্ট মহাকর্ষীয় তরঙ্গজনিত পশ্চাদপসরণ (gravitational wave recoil kick) এই বস্তুটিকে ছিটকে বের করে দিয়েছে।
কৃষ্ণগহ্বরটি বর্তমানে তার আদি অবস্থান থেকে প্রায় ২৩০,০০০ আলোকবর্ষ দূরে সরে গেছে এবং ধারণা করা হচ্ছে এটি বিলিয়ন বিলিয়ন বছর ধরে আন্তঃছায়াপথীয় স্থানে ভ্রমণ করতে থাকবে। বস্তুটির ফেলে যাওয়া এই পথটি শক ওয়েভ তৈরি করছে, যা আন্তঃছায়াপথীয় গ্যাসকে উত্তপ্ত ও সংকুচিত করছে। এর ফলে, গতিশীল বস্তুটির পেছনে নতুন তারা সৃষ্টির প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। মিল্কি ওয়ের ব্যাসের দ্বিগুণ হতে পারে এমন এই পথটি পর্যবেক্ষণ করা জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের জন্য একটি নতুন সুযোগ এনে দিয়েছে, যা ভবিষ্যতের অভিযানে অনুরূপভাবে বহিষ্কৃত কৃষ্ণগহ্বর অনুসন্ধানের জন্য একটি নতুন পর্যবেক্ষণযোগ্য বৈশিষ্ট্য হিসেবে কাজ করবে।
উৎসসমূহ
MoneyControl
Hürriyet
Wonders in Space
PRIMETIMER
Space.com
Wonders in Space
The Astrophysical Journal Letters
Space.com
Space.com
PRIMETIMER
Space.com
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
