Убегающие звёзды — яркое доказательство того, что Млечный Путь — это динамичная, постоянно меняющаяся арена, место, характеризующееся взрывной силой, гравитационным хаосом и непрерывным циклом.
আকাশগঙ্গার ২১৪টি 'উদ্ভ্রান্ত' নক্ষত্র নিয়ে গাইয়া মিশনের নতুন তথ্য: মহাকাশ বিজ্ঞানে চাঞ্চল্যকর আবিষ্কার
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
আমাদের ছায়াপথ বা মিল্কিওয়ে থেকে ছিটকে পড়া বিশাল ভরের নক্ষত্রগুলো নিয়ে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তারিত একটি গবেষণা সম্পন্ন হয়েছে। এই বিশেষ ধরনের নক্ষত্রগুলোকে জ্যোতির্বিজ্ঞানের ভাষায় 'উদ্ভ্রান্ত নক্ষত্র' বা 'রানঅ্যাওয়ে স্টার' বলা হয়। ২১৪টি ও-টাইপ (O-type) নক্ষত্রের ওপর নিবিড় বিশ্লেষণ চালিয়ে বিজ্ঞানীরা দেখার চেষ্টা করেছেন যে, ঠিক কী কারণে এগুলো তাদের জন্মস্থান থেকে অস্বাভাবিক গতিতে ছিটকে বেরিয়ে যায়। এই গবেষণার ফলাফল সম্প্রতি প্রখ্যাত জার্নাল 'অ্যাস্ট্রোনমি অ্যান্ড অ্যাস্ট্রোফিজিক্স'-এ প্রকাশিত হয়েছে। স্পেনের বার্সেলোনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অফ কসমিক সায়েন্সেস (ICCUB) এই পুরো গবেষণাটি সমন্বয় করেছে।
ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা (ESA)-এর গাইয়া (Gaia) মিশনের পাঠানো অত্যন্ত নিখুঁত গাণিতিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এই গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষক দল ২১৪টি ও-টাইপ নক্ষত্রের ঘূর্ণন গতি এবং তাদের দ্বৈত বা বাইনারি অবস্থা বিশ্লেষণ করেছেন, যা বর্তমানে এই ধরনের তথ্যের সবচেয়ে বড় সংগ্রহ। গবেষণায় ১২টি এমন দ্বৈত নক্ষত্র ব্যবস্থা পাওয়া গেছে যারা মহাকাশে দ্রুত গতিতে ছুটে চলছে। এর মধ্যে ছয়টি সিস্টেমে ছোট কৃষ্ণগহ্বর বা ব্ল্যাক হোলের মতো ঘন মহাজাগতিক বস্তুর অস্তিত্ব থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। মার কাররেতেরো-কাস্ত্রিলোর নেতৃত্বে এই প্রকল্পে আইসিসিইউবি (ICCUB) ছাড়াও ইনস্টিটিউট অফ স্পেস স্টাডিজ অফ কাতালোনিয়া (IEEC) এবং ইনস্টিটিউট অফ অ্যাস্ট্রোফিজিক্স অফ দ্য ক্যানারি আইল্যান্ডস (IAC) সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
সংগৃহীত তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা এই নক্ষত্রগুলোর ছিটকে পড়ার প্রধান কারণগুলো চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছেন। দেখা গেছে যে, অধিকাংশ উদ্ভ্রান্ত নক্ষত্রই ধীরগতিতে ঘোরে এবং এগুলো মূলত একক নক্ষত্র হিসেবে মহাকাশে বিচরণ করে। এই বৈশিষ্ট্যটি জোরালোভাবে ইঙ্গিত দেয় যে, এগুলো ঘন নক্ষত্রপুঞ্জ থেকে মহাকর্ষীয় বলের প্রভাবে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। মিল্কিওয়ের বাইরের অংশে অবস্থিত গোলাকার নক্ষত্রপুঞ্জ বা গ্লোবুলার ক্লাস্টারগুলো তাদের মধ্যকার তীব্র মহাকর্ষীয় টানের মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু নক্ষত্রকে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে কক্ষপথ থেকে বিচ্যুত করে দিতে পারে।
অন্যদিকে, যেসব উদ্ভ্রান্ত নক্ষত্র তুলনামূলক দ্রুত গতিতে ঘোরে, সেগুলোর ক্ষেত্রে বিজ্ঞানীরা ভিন্ন এক কারণ খুঁজে পেয়েছেন। গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, একটি দ্বৈত নক্ষত্র ব্যবস্থার কোনো একটি নক্ষত্র যখন সুপারনোভা হিসেবে বিস্ফোরিত হয়, তখন অন্য নক্ষত্রটি প্রচণ্ড ধাক্কায় মহাকাশে ছিটকে পড়ে। এই তত্ত্বটি ১৯৬১ সালে ডাচ জ্যোতির্বিজ্ঞানী আদ্রিয়ান ব্লাউ প্রথম প্রস্তাব করেছিলেন। বর্তমান গবেষণায় এই তত্ত্বের সপক্ষে জোরালো প্রমাণ পাওয়া গেছে। বিশেষ করে, এই দ্রুতগামী নক্ষত্রগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য কৃষ্ণগহ্বরের উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ায় ভবিষ্যতে এ নিয়ে আরও গভীর পর্যবেক্ষণের পথ প্রশস্ত হয়েছে।
মহাজাগতিক বিবর্তন এবং ছায়াপথের গতিশীলতা বোঝার ক্ষেত্রে এই গবেষণার গুরুত্ব অপরিসীম। এই উদ্ভ্রান্ত নক্ষত্রগুলো তাদের জন্মস্থান থেকে অনেক দূরে ভারী মৌল এবং বিপুল শক্তি বহন করে নিয়ে যায়, যা আন্তঃনাক্ষত্রিক পরিবেশের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। ২০১৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর ইএসএ (ESA) কর্তৃক উৎক্ষেপিত গাইয়া মিশন নক্ষত্রের অবস্থান ও গতি নির্ণয়ে অভূতপূর্ব নির্ভুলতা এনে দিয়েছে। এর আগে বিভিন্ন গবেষণায় ১০৬টি ও-টাইপ এবং ৬৯টি বি-টাইপ (Be-type) উদ্ভ্রান্ত নক্ষত্র শনাক্ত করা হয়েছিল, তবে বর্তমান গবেষণায় দেখা গেছে যে ও-টাইপ নক্ষত্রগুলোর গতি তুলনামূলকভাবে অনেক বেশি।
এই গবেষণার মাধ্যমে মহাকাশ বিজ্ঞানীরা আমাদের ছায়াপথের অজানা অনেক রহস্য উন্মোচনের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেলেন। নক্ষত্রগুলোর এই অস্বাভাবিক আচরণের কারণ উদঘাটন করা কেবল তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানের বিষয় নয়, বরং এটি মহাবিশ্বের গঠন প্রক্রিয়া বুঝতেও সাহায্য করে। গাইয়া মিশনের তথ্যভাণ্ডার ব্যবহার করে ভবিষ্যতে আরও অনেক নতুন নক্ষত্র এবং তাদের বিচরণ পথ সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উৎসসমূহ
ANSA.it
Scienmag
Space Daily
Science News
Astronomy Magazine
European Space Agency