৯ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫ তারিখে সিয়াচেন হিমবাহের বেস ক্যাম্পে একটি ভয়াবহ তুষারধসের ঘটনায় তিনজন ভারতীয় সেনাকর্মী নিহত হয়েছেন। প্রায় ২০,০০০ ফুট উচ্চতায় অবস্থিত এই দুর্গম অঞ্চলে প্রতিকূল আবহাওয়া এবং চরম ঠান্ডা সৈন্যদের জন্য একটি নিত্যদিনের বিপদ। ঘটনাটি ঘটে কারাকোরাম রেঞ্জের নিয়ন্ত্রণ রেখার উত্তরাংশে অবস্থিত বেস ক্যাম্পে।
তুষারধসের ফলে তিনজন সেনা সদস্য, যাদের মধ্যে দুজন অগ্নিবীর ছিলেন, বরফের নিচে চাপা পড়ে যান। দ্রুত উদ্ধারকার্য শুরু করা হলেও, দুর্ভাগ্যবশত তাদের জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়নি। উদ্ধারকারী দলগুলি তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করে। এই অভিযানে সেনাবাহিনীর হেলিকপ্টারগুলিও সহায়তা করে। চরম ঠান্ডা এবং উচ্চতার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে উদ্ধারকারী দলগুলি কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
সিয়াচেন হিমবাহ, যা “পৃথিবীর সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র” নামে পরিচিত, অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির জন্য কুখ্যাত। এখানকার তাপমাত্রা হিমাঙ্কের ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত নেমে যেতে পারে এবং শীতকালে প্রায়শই তুষারধস ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। ১৯৮৪ সাল থেকে ভারতীয় সেনাবাহিনী এই অঞ্চলে কৌশলগত উচ্চতাগুলি সুরক্ষিত রাখতে একটি উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি বজায় রেখেছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সিয়াচেন অঞ্চলে ঘটে যাওয়া একাধিক তুষারধসের ঘটনার মধ্যে সর্বশেষ। পূর্বেও এমন ঘটনা ঘটেছে, যেমন ২০২১ সালে সাব-সেক্টর হানিফে একটি তুষারধসে দুজন সেনার মৃত্যু হয়েছিল। ২০১৯ সালে ১৮,০০০ ফুট উচ্চতায় টহল দেওয়ার সময় একটি তুষারধসে চারজন সেনা এবং দুজন পোর্টার প্রাণ হারিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে একটি বিধ্বংসী তুষারধসে ১৯,৬০০ ফুট উচ্চতায় দশজন সেনা আটকা পড়েছিলেন, যার মধ্যে ল্যান্স নায়েক হনুমন্তপ্পা কোপাড় বেঁচে গেলেও পরে একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে মারা যান।
এই ঘটনাগুলি সিয়াচেন হিমবাহে কর্মরত ভারতীয় সৈন্যদের নিরন্তর বিপদ এবং আত্মত্যাগের কথা মনে করিয়ে দেয়। প্রতিকূল আবহাওয়া এবং দুর্গম ভূখণ্ডই এখানে মৃত্যুর প্রধান কারণ, যা প্রায়শই শত্রুদের গুলির চেয়েও বেশি প্রাণঘাতী প্রমাণিত হয়। ভারত সরকার এবং সেনাবাহিনী এই অঞ্চলে মোতায়েন সৈন্যদের নিরাপত্তা এবং উদ্ধার প্রক্রিয়া উন্নত করার জন্য ক্রমাগত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রযুক্তি এবং উন্নত সরঞ্জামের ব্যবহার এই কঠিন পরিস্থিতিতে সৈন্যদের জীবন রক্ষায় সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



