গতকাল রাতে, ৭ই সেপ্টেম্বর থেকে ৮ই সেপ্টেম্বর, ২০২৫-এর মধ্যবর্তী সময়ে, এশিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের কিছু অংশে এক অসাধারণ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ সংঘটিত হয়েছে, যা 'রক্তিম চাঁদ' নামে পরিচিত। এই মহাজাগতিক ঘটনায় চাঁদটি পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে আসা সূর্যের আলোর কারণে এক রক্তিম আভা ধারণ করে। গ্রহণটির পূর্ণ পর্যায় শুরু হয়েছিল ১৪:৩১ ইউটিসি-তে এবং সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল ১৫:১২ ইউটিসি-তে। যদিও এই গ্রহণটি ব্রাজিলে দৃশ্যমান ছিল না, তবে বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রগুলি থেকে লাইভ স্ট্রিমের মাধ্যমে অনেকেই এই অপূর্ব দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছেন। পাকিস্তান, চীন, জাপান, মিশর, পূর্ব আফ্রিকা, স্পেন, ফ্রান্স এবং ইতালির মতো অঞ্চলগুলি থেকে এই গ্রহণটি পরিষ্কারভাবে দেখা গেছে।
এই মহাজাগতিক দৃশ্য দেখার জন্য কোনো বিশেষ যন্ত্রপাতির প্রয়োজন হয়নি, তবে পরিষ্কার আকাশ এবং কম আলোক দূষণ থাকলে অভিজ্ঞতা আরও মনোরম হয়। এই রক্তিম চাঁদের কারণ হলো পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের মধ্য দিয়ে সূর্যের আলোর প্রতিসরণ। বায়ুমণ্ডলের কণাগুলো নীল ও বেগুনি রঙের আলোর মতো ছোট তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে বিক্ষিপ্ত করে দেয়, কিন্তু লাল ও কমলা রঙের মতো দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যকে যেতে দেয়। এই দীর্ঘ তরঙ্গদৈর্ঘ্যের আলোই চাঁদের পৃষ্ঠে পৌঁছে তাকে রক্তিম বর্ণ ধারণ করায়, যা সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয়ের সময় আকাশে দেখা রঙের মতোই। এই মহাজাগতিক ঘটনাটি কেবল প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের এক অপূর্ব নিদর্শন, যার মধ্যে কোনো অতিপ্রাকৃত বিষয় নেই।
এই চন্দ্রগ্রহণের পূর্ণ পর্যায় প্রায় ৮২ মিনিট ধরে চলেছিল, যা এটিকে ২০২৫ সালের দীর্ঘতম পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণগুলির মধ্যে একটি করে তুলেছে। এই দীর্ঘ সময় ধরে চাঁদকে রক্তিম আভায় দেখা গেছে, যা দর্শকদের জন্য এক অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা ছিল। গ্রহণের সময় চাঁদ পৃথিবীর ছায়াপথের (umbra) কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি থাকায় এই দীর্ঘ সময় ধরে এটি রক্তিম বর্ণ ধারণ করেছিল। চাঁদের এই রক্তিম আভা বায়ুমণ্ডলের ধূলিকণা, মেঘ এবং অন্যান্য উপাদানের উপর নির্ভর করে, যা প্রতিটি গ্রহণের সময় ভিন্ন হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই মহাজাগতিক দৃশ্য প্রত্যক্ষ করার সুযোগ পেয়েছেন। এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, আফ্রিকা এবং ইউরোপের বিশাল অংশ থেকে এই গ্রহণটি সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে দেখা গেছে। বিশেষ করে পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া, এশিয়া এবং আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে এই গ্রহণটি অত্যন্ত স্পষ্ট ছিল। যুক্তরাজ্য এবং পশ্চিম ইউরোপের কিছু অংশে চাঁদ যখন দিগন্তের উপরে উঠছিল, তখন গ্রহণটি শুরু হয়েছিল, যা একটি নাটকীয় কিন্তু চ্যালেঞ্জিং দৃশ্য তৈরি করেছিল।
এই চন্দ্রগ্রহণ উপভোগ করার জন্য কোনো বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন না হলেও, বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে চাঁদের পৃষ্ঠের খুঁটিনাটি বিষয়গুলি আরও ভালোভাবে দেখা যায়। পরিষ্কার এবং অন্ধকার আকাশ, যেখানে গাছপালা বা উঁচু ভবনের মতো কোনো বাধা নেই, এমন স্থান থেকে গ্রহণটি দেখা সবচেয়ে ভালো। অনেক জ্যোতির্বিদ্যা প্রেমী এই মহাজাগতিক ঘটনাটিকে ক্যামেরাবন্দী করার সুযোগও পেয়েছেন।



