ইরানের হরমুজ দ্বীপে তীব্র বৃষ্টিপাতে সাগরের জল লাল বর্ণ ধারণ করল
সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.
২০২৫ সালের ১৭ই ডিসেম্বর, মঙ্গলবার, পারস্য উপসাগরের জলরাশি ইরানের হরমুজ দ্বীপকে ঘিরে এক অভূতপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা করে। দ্বীপের চারপাশের সমুদ্রের জল গাঢ় রক্তিম রঙ ধারণ করে, যা দ্রুত সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে নজরে আসে। এই অস্বাভাবিক ঘটনাটি একটি বিরল এবং তীব্র আবহাওয়ার ফলস্বরূপ ঘটেছিল।
সমুদ্রের জলের এই নাটকীয় রঙের পরিবর্তনের মূল কারণ ছিল দ্বীপটিতে আঘাত হানা অস্বাভাবিক ভারী বৃষ্টিপাত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাত্র এক রাতের মধ্যেই প্রায় ১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়। এই পরিমাণ বৃষ্টি এই অঞ্চলের স্বাভাবিক মাসিক গড় বৃষ্টিপাতের প্রায় পাঁচ গুণ বেশি। এই প্রবল জলধারা দ্বীপের খাড়া উপকূল থেকে প্রচুর পরিমাণে লোহা-সমৃদ্ধ মাটি ধুয়ে নিয়ে আসে, যা স্থানীয়ভাবে ‘গোলাক’ নামে পরিচিত। এই রঙিন জল দ্রুত পারস্য উপসাগরে মিশে গিয়ে উপকূলীয় জলকে ‘রক্তাক্ত’ রূপ দেয়।
বিজ্ঞানীরা দ্রুত এই প্রাকৃতিক ঘটনার ব্যাখ্যা দেন এবং অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেন। হরমুজ দ্বীপকে তার সমৃদ্ধ খনিজ উপাদানের কারণে প্রায়শই ‘রামধনু দ্বীপ’ বলা হয়। দ্বীপটিতে সারা বছর ধরেই ‘সাহেল সরখ’-এর মতো লাল সৈকত দেখা যায়, যার প্রধান কারণ হলো আয়রন অক্সাইডের উচ্চ ঘনত্ব। বিশেষজ্ঞরা নিশ্চিত করেছেন যে এই লাল আভার উৎস হলো আগ্নেয় শিলাতে থাকা হেমাটাইট, যা আয়রন অক্সাইডের একটি খনিজ। বিশেষজ্ঞরা আরও নিশ্চিত করেন যে এই ঘটনাটি সম্পূর্ণরূপে প্রাকৃতিক, মানব স্বাস্থ্য বা সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য কোনো বিপদ সৃষ্টি করে না এবং এটি সাময়িক।
এই ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন ইরান ২০২২ সালে গত পাঁচ দশকের মধ্যে অন্যতম ভয়াবহ খরার সম্মুখীন ছিল। তেহরানের জলাধার সহ দেশের জল সঞ্চয়স্থানগুলি সমালোচনামূলকভাবে নিম্ন স্তরে নেমে এসেছিল। যদিও এই বৃষ্টিপাতের জন্য কিছুটা স্বস্তি এসেছিল, তবুও সরকারি কর্মকর্তারা সিদ্ধান্তে আসেন যে এই বিক্ষিপ্ত বৃষ্টিপাত জলবায়ু পরিবর্তন এবং দীর্ঘমেয়াদী জল ব্যবস্থাপনার কারণে সৃষ্ট কাঠামোগত জল সংকট মোকাবিলায় যথেষ্ট নয়। হঠাৎ বৃষ্টির তীব্রতার কারণে সৃষ্ট স্থানীয় বন্যার কারণে হরমোজগান প্রদেশের কর্তৃপক্ষ রাস্তা বন্ধ করতে বাধ্য হয়।
বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার পাশাপাশি, সামাজিক মাধ্যমে অনেকে এই ঘটনাটিকে বাইবেলের কোনো অলৌকিক ঘটনার সঙ্গে তুলনা করতে শুরু করেন। অন্যদিকে, স্থানীয় বাসিন্দারা ঐতিহ্যগতভাবে ‘গোলাক’ মাটির সঙ্গে সাংস্কৃতিক সংযোগ বজায় রেখেছেন; তারা এটিকে রঞ্জক, প্রসাধনী এবং মশলা হিসাবে ব্যবহার করে আসছেন। হরমুজ দ্বীপ, যার আয়তন ৪২ বর্গ কিলোমিটার, হরমুজ প্রণালীতে অবস্থিত এবং এর বহু রঙের ভূদৃশ্য ভূ-পর্যটকদের কাছে এক বিশেষ আকর্ষণ। এই অনন্য খনিজ ভান্ডার দ্বীপটিকে ভূতাত্ত্বিক গবেষণার এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করেছে।
34 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Suara Merdeka
thetimes.gr
India Today
Gulf News
GreekReporter.com
Zamin.uz
The Hindu
GreekReporter.com
Munsif News 24x7
India Today
The Guardian
YouTube
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
