ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডের প্রাক্তন সিনিয়র ফিন্যান্সিয়াল সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট হেলেন ম্যাককউ প্রতিষ্ঠানের গভর্নরের কাছে একটি আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি হোয়াইট হাউস কর্তৃক 'নন-হিউম্যান ইন্টেলিজেন্স' (NHI) বা ভিনগ্রহের প্রাণের অস্তিত্ব নিশ্চিত করার সম্ভাব্য ঘোষণার প্রেক্ষিতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিশেষ প্রোটোকল বা কর্মপরিকল্পনা তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, এ ধরনের বৈপ্লবিক ঘোষণা বিশ্ব অর্থনীতিতে যে অভূতপূর্ব প্রভাব ফেলতে পারে, তা সামাল দিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আগাম প্রস্তুতি থাকা আবশ্যক।
The London Times no less @thetimes:
ম্যাককউ, যিনি ২০১২ সালে ব্যাংক অফ ইংল্যান্ডে তার দীর্ঘ কর্মজীবন শেষ করেছিলেন, তার এই জরুরি আবেদনের ভিত্তি হিসেবে ২০২৬ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে চলমান আনআইডেন্টিফাইড অ্যানোমালাস ফেনোমেনা (UAP) সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশের প্রচেষ্টাকে উল্লেখ করেছেন। তিনি ধারণা করছেন যে, এই ধরনের কোনো দ্ব্যর্থহীন নিশ্চিতকরণ বিশ্বজুড়ে একটি 'অন্টোলজিক্যাল শক' বা অস্তিত্বগত ধাক্কা তৈরি করবে। এর ফলে বাজারে চরম অস্থিরতা, ব্যাংকিং খাতের বিপর্যয় এবং পরবর্তীকালে ব্যাপক নাগরিক অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। মার্কিন সরকারের দীর্ঘমেয়াদী তথ্য অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়াকে তিনি একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন, যা শেষ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত ঘোষণার দিকে ধাবিত হচ্ছে।
২০২৬ সালের জানুয়ারির জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে এই উদ্বেগগুলো সামনে এসেছে, যখন গভর্নর অ্যান্ড্রু বেইলি ক্রমবর্ধমান ঋণের বোঝা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের প্রভাব এবং রাজনৈতিক পপুলিজমের মতো প্রথাগত চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবিলা করছিলেন। ম্যাককউ পরামর্শ দিয়েছেন যে, এমন একটি যুগান্তকারী ঘটনা ঘটলে জনসাধারণ তাৎক্ষণিকভাবে কথিত 'রিভার্স ইঞ্জিনিয়ারিং' বা ভিনগ্রহের উন্নত প্রযুক্তি পুনর্নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলবে, যা প্রাতিষ্ঠানিক আস্থাকে আরও মারাত্মকভাবে দুর্বল করবে। যদিও ব্যাংক অফ ইংল্যান্ড সাধারণত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন বা সরকারি বন্ড মার্কেটের অস্থিরতার মতো প্রতিষ্ঠিত সিস্টেমিক ঝুঁকিগুলো নিয়ে নিয়মিত কাজ করে, তবে ম্যাককউয়ের এই আহ্বানটি প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়ে চরম ঝুঁকি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তাকে নির্দেশ করে।
এর আগে ২০২৩ সালেও ম্যাককউ মার্কিন সামরিক বাহিনীর হুইসেলব্লোয়ারদের সাক্ষ্য এবং ইউএপি সংক্রান্ত কংগ্রেসনাল শুনানির বরাত দিয়ে একই ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। তার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বর্তমান যে কোনো সরকারের চেয়ে উন্নত কোনো বুদ্ধিমত্তার অস্তিত্ব নিশ্চিত হলে তা বিশ্বব্যাপী প্রাতিষ্ঠানিক বৈধতাকে ক্ষুণ্ণ করবে। তিনি সতর্ক করেছেন যে, বাজারের প্রতিক্রিয়া হিসেবে বিনিয়োগকারীরা দ্রুত সোনা বা বিটকয়েনের মতো সম্পদের দিকে ঝুঁকতে পারে। তবে তিনি এও উল্লেখ করেছেন যে, যদি মহাকাশ থেকে প্রাপ্ত নতুন প্রযুক্তি খনিজ সম্পদের সরবরাহ বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করে, তবে সোনার মতো মূল্যবান ধাতুও তার 'সেফ-হেভেন' বা নিরাপদ সম্পদের মর্যাদা হারাতে পারে। তার প্রক্ষেপিত সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ব্যাংক থেকে আমানত তুলে নেওয়ার হিড়িক এবং পেমেন্ট সিস্টেমের সম্পূর্ণ ভেঙে পড়া।
২০২৬ সালে মার্কিন সরকারের সক্রিয় স্বচ্ছতা অভিযানের প্রেক্ষাপটে এই মূল্যায়নটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রবর্তিত 'ইউএপি ট্রান্সপারেন্সি অ্যাক্ট' মার্কিন সংস্থাগুলোকে ইউএপি সংক্রান্ত সমস্ত রেকর্ড অবমুক্ত করার আইনি বাধ্যবাধকতা দিয়েছে। তদুপরি, ২০২২ সালে প্রতিষ্ঠিত পেন্টাগনের 'অল-ডোমেইন অ্যানোমালি রেজোলিউশন অফিস' (AARO) ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং কংগ্রেসকে নিয়মিত ব্রিফিং প্রদান করবে। কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক ম্যাককউ, যিনি এর আগে ইউএপি-র সাথে 'র্যাডিক্যাল আনসার্টেনিটি' বা চরম অনিশ্চয়তার যোগসূত্র নিয়ে গবেষণাপত্র লিখেছেন, মনে করেন যে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রযুক্তিগত স্থানচ্যুতির মতো ঝুঁকিগুলো গুরুত্বের সাথে মূল্যায়ন করতে হবে। তার মতে, 'অকল্পনীয়' কোনো ঘটনা থেকে উদ্ভূত ধাক্কার মুখে বর্তমান বিশ্ব আর্থিক ব্যবস্থা এখনও অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে।



