the UAE-এর গুপ্ত সমুদ্রজীবন: দুর্লভ তিমি ও ডলফিন ট্র্যাকিং
গভীরতা এখন দৃশ্যমান: ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে ওশানএক্স (OceanX) এর রোমাঞ্চকর অভিযান
লেখক: Inna Horoshkina One
২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস। ওশানএক্সপ্লোরার (OceanXplorer) নামক অত্যাধুনিক গবেষণা জাহাজ থেকে পরিচালিত হচ্ছে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গভীর সমুদ্র অভিযান। ইন্দোনেশিয়ার নীল জলরাশিতে বিজ্ঞানী এবং মিডিয়া কর্মীরা যৌথভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১,০০০ মিটার গভীরে অবতরণ করছেন। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য হলো মানুষের দৃষ্টির আড়ালে থাকা এক রহস্যময় জগতকে বিশ্বের সামনে উন্মোচন করা, যা সাধারণত মানুষের উপলব্ধির বাইরেই থেকে যায়।
ওশানএক্স (OceanX) এর এই বিশেষ অভিযানটি বর্তমানে অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত চলমান রয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জাতীয় বৈজ্ঞানিক সংস্থাগুলোর সাথে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে এই প্রকল্পটি পরিচালিত হচ্ছে। এই অভিযানের মূল কেন্দ্রবিন্দু হলো সমুদ্রের তলদেশে অবস্থিত পাহাড় বা 'সি-মাউন্টস' (seamounts), যা পৃথিবীর অন্যতম জীববৈচিত্র্যপূর্ণ কিন্তু স্বল্প পরিচিত বাস্তুসংস্থান হিসেবে বিবেচিত।
পরবর্তী প্রজন্মের মনুষ্যবাহী সাবমার্সিবল বা ডুবোজাহাজ ব্যবহার করে গবেষক দলটি গভীর সমুদ্রের এমন সব প্রাণবৈচিত্র্য অনুসন্ধান করছে, যেখানে আগে কখনো মানুষের পা পড়েনি। বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন, এখানে এমন অনেক প্রজাতির সন্ধান মিলবে যা ইতিপূর্বে বিজ্ঞানের কাছে অজানা ছিল। এই জীবগুলোর জৈব-রাসায়নিক বৈশিষ্ট্য চিকিৎসা বিজ্ঞান এবং বায়োটেকনোলজির ক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। চরম চাপ এবং ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে টিকে থাকা এই অঞ্চলগুলোকে 'বিবর্তনীয় সমাধানের আধার' হিসেবে গণ্য করা হয়।
এই মিশনের কারিগরি সক্ষমতা অত্যন্ত উচ্চমানের এবং এটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃত। ওশানএক্সপ্লোরার (OceanXplorer) জাহাজটি দুটি ট্রাইটন (Triton) মনুষ্যবাহী সাবমার্সিবল দ্বারা সজ্জিত, যা ১,০০০ মিটার গভীরতা পর্যন্ত কাজ করতে সক্ষম। পুরো অভিযানটি রিয়েল-টাইমে বা সরাসরি নথিভুক্ত করা হচ্ছে। উচ্চমানের ছবি, ভিডিও, সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন এবং শিক্ষামূলক উপকরণের মাধ্যমে এই রোমাঞ্চকর যাত্রা সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে।
এই নতুন পদ্ধতিটি সমুদ্র বিজ্ঞানের চিরাচরিত ধারণাকে আমূল বদলে দিচ্ছে। এর ফলে গবেষণার ক্ষেত্রে বেশ কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে:
- সরাসরি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক গবেষণার গতি বহুগুণ ত্বরান্বিত হচ্ছে;
- সাধারণ মানুষ এখন কেবল নিরস প্রতিবেদনের মাধ্যমে নয়, বরং জীবন্ত চিত্রের মাধ্যমে সমুদ্রকে দেখার সুযোগ পাচ্ছে;
- এই চাক্ষুষ প্রমাণ বৈজ্ঞানিক তথ্যের প্রতি মানুষের আস্থা বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং সমুদ্র সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করছে।
ইন্দোনেশিয়া অঞ্চলটি পৃথিবীর সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এখানকার সমুদ্রতলের পাহাড়গুলো 'জীবনের মরূদ্যান' হিসেবে কাজ করে, যা সামুদ্রিক প্রাণীদের পরিযান, খাদ্যশৃঙ্খল এবং সামগ্রিক সামুদ্রিক সিস্টেমের স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করে। অতি সম্প্রতি পর্যন্ত এই বিশাল এলাকার একটি বড় অংশ মানুষের কাছে কার্যত অদৃশ্য বা অজানা ছিল, যা এখন বিজ্ঞানের আলোয় উদ্ভাসিত হচ্ছে।
ওশানএক্স অভিযান কেবল সমুদ্রের গভীরতাই প্রদর্শন করছে না, বরং এটি বিশ্বকে একীভূতভাবে দেখার একটি নতুন পথ দেখাচ্ছে। যখন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি এবং গণমাধ্যম একত্রিত হয়, তখন সমুদ্র আর কোনো বিমূর্ত ধারণা থাকে না। এটি আমাদের সকলের দায়িত্ব এবং বিস্ময়ের এক অভিন্ন স্থানে পরিণত হয়। এই অভিযানের মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি যে, সমুদ্র রক্ষা করা আমাদের সকলের সম্মিলিত কর্তব্য এবং এটি আমাদের গ্রহের ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
