আন্টার্কটিকায় ব্রাজিলের অত্যাধুনিক গ্রিনহাউস: বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করে সবজি চাষের নতুন দিগন্ত

সম্পাদনা করেছেন: Uliana S.

ব্রাজিলিয়ান আন্টার্কটিক প্রোগ্রাম (Proantar)-এর অধীনে কিং জর্জ দ্বীপে একটি উচ্চ-প্রযুক্তিসম্পন্ন গ্রিনহাউস সফলভাবে কাজ করছে। আন্টার্কটিকার চরম প্রতিকূল পরিবেশে সরিষা এবং মূলার মতো তাজা শাকসবজি চাষের জন্য এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছে। রিও ডি জেনিরো স্টেট ইউনিভার্সিটি (UERJ) দ্বারা পরিচালিত এই উদ্যোগে ন্যাশনাল কাউন্সিল ফর সায়েন্টিফিক অ্যান্ড টেকনোলজিক্যাল ডেভেলপমেন্ট (CNPq) প্রায় ৬ লক্ষ ব্রাজিলিয়ান রিয়াল অর্থায়ন করেছে। এই প্রকল্পটি প্রত্যন্ত বৈজ্ঞানিক ঘাঁটিগুলোর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক এবং পরিবেশগত মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা প্রতিকূল পরিবেশে জীবনযাত্রাকে সহজতর করে তুলছে।

১৯৮২ সালের জানুয়ারিতে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রোআন্টার (Proantar) কর্মসূচি শুরু হয়, যা এই অঞ্চলে গবেষণা এবং কার্যপরিচালনায় নিরবচ্ছিন্ন সহায়তা প্রদান করে আসছে। এর আওতায় কিং জর্জ দ্বীপে অবস্থিত 'কমান্ড্যান্ট ফেরাজ' (EACF) স্টেশনে সারা বছর বৈজ্ঞানিক গবেষণা চলে। এই বিশেষ গ্রিনহাউসটি এমনভাবে প্রকৌশলগত উৎকর্ষ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে যা বাইরের মাইনাস ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং প্রচণ্ড বাতাসের বেগ অনায়াসেই সহ্য করতে পারে। তবে এর ভেতরে সর্বদা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা এবং ৬০ শতাংশ আর্দ্রতা বজায় থাকে। এই স্থিতিশীল কৃত্রিম পরিবেশের কারণে প্রতি ১০ থেকে ১২ দিন অন্তর ফসল সংগ্রহ করা সম্ভব হয়, যা বিচ্ছিন্ন পরিবেশে কর্মরত কর্মীদের জন্য পুষ্টিকর তাজা খাবারের জোগান নিশ্চিত করে।

এই প্রকল্পের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো মহাদেশীয় পরিবেশগত কঠোর নিয়ম মেনে বর্জ্য পদার্থের সদ্ব্যবহার করা। এখানে কফির অবশিষ্টাংশ এবং ডিমের ট্রে পুষ্টিসমৃদ্ধ সাবস্ট্রেট বা বৃদ্ধির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি চক্রাকার অর্থনীতির (circular economy) চমৎকার উদাহরণ। গ্রিনহাউসের কাঠামো তৈরিতে পুনর্ব্যবহারযোগ্য অ্যালুমিনিয়াম এবং ক্যাস্টর অয়েল থেকে তৈরি বায়োডিগ্রেডেবল ইনসুলেশন ব্যবহার করা হয়েছে। এই প্রকৌশলগত সমাধানগুলো কেবল উদ্ভাবনীই নয়, বরং টেকসই উন্নয়নের প্রতি প্রকল্পের গভীর প্রতিশ্রুতিকেও বিশ্ব দরবারে স্পষ্টভাবে ফুটিয়ে তোলে।

এই উদ্ভাবনী প্রকল্পটি কেবল পৃথিবীর শুষ্ক বা দুর্গম অঞ্চলেই নয়, বরং ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানেও খাদ্যের স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। আন্টার্কটিক চুক্তিতে পরামর্শমূলক মর্যাদা সম্পন্ন ২৯টি দেশের অন্যতম সদস্য হিসেবে ব্রাজিল মানসম্পন্ন বৈজ্ঞানিক তথ্য উৎপাদনের মাধ্যমে এই অঞ্চলে নিজের কৌশলগত অবস্থান শক্তিশালী করছে। বর্জ্য ব্যবহারকারী এই গ্রিনহাউসের সাফল্য প্রমাণ করে যে, উদ্ভাবনী প্রযুক্তির মাধ্যমে লজিস্টিক নির্ভরতা কমিয়ে বিচ্ছিন্ন পরিবেশে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধি করা সম্ভব।

সামগ্রিকভাবে, আন্টার্কটিকার মতো হিমশীতল মরুভূমিতে এই ধরনের কৃষি প্রযুক্তি প্রবর্তন পরিবেশ বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। এটি প্রমাণ করে যে সীমিত সম্পদ এবং প্রতিকূল পরিবেশেও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে প্রাণের স্পন্দন বজায় রাখা সম্ভব। ব্রাজিলের এই উদ্যোগ বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানীদের জন্য একটি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে, যা ভবিষ্যতে আরও জটিল পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং পৃথিবীর বাইরে মানব বসতি স্থাপনের গবেষণায় নতুন পথ দেখাবে।

19 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Conteúdo e Notícias do Agronegócio Brasileiro | CompreRura

  • CNN Brasil

  • Folha

  • UERJ - Universidade do Estado do Rio de Janeiro

  • Canal Rural

  • Compre Rural Notícias

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।