আখ ক্ষেতে চিতাবাঘের নতুন বসতি: সংঘাত মোকাবিলায় কৌশল পরিবর্তন
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
পশ্চিম মহারাষ্ট্রের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন পরিলক্ষিত হচ্ছে, যেখানে চিতাবাঘেরা তাদের চিরাচরিত বনভূমি ছেড়ে ঘন আখ ক্ষেতকেই বংশবৃদ্ধি ও জীবনধারণের প্রধান ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নিচ্ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তারা এই প্রবণতা নিশ্চিত করেছেন এবং লক্ষ্য করেছেন যে এই 'ক্ষেত্র চিতাবাঘ' বা 'ফিল্ড লেপার্ড' গুলি মানুষের বসতির অত্যন্ত কাছাকাছি থেকে জীবনধারণের জন্য বিশেষ কৌশল আয়ত্ত করেছে। জুন্নার বিভাগের বন আধিকারিকেরা স্বীকার করেছেন যে এই আখ ক্ষেতগুলিকেই তারা এখন চিতাবাঘের প্রাথমিক বাসস্থান হিসেবে গণ্য করছেন, যা গতানুগতিক বনাঞ্চলের ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানাচ্ছে। এই অভিযোজন মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মিথস্ক্রিয়ার গতিপথ বদলে দিচ্ছে।
মানুষ ও বন্যপ্রাণীর মধ্যে সংঘাত নিরসনের প্রচলিত পদ্ধতিগুলি এই নতুন পরিস্থিতিতে কার্যকর প্রমাণিত হচ্ছে না। উদাহরণস্বরূপ, চিতাবাঘগুলিকে দূরবর্তী সংরক্ষিত বনাঞ্চলে স্থানান্তরিত করার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ প্রাণীগুলি বারবার তাদের পরিচিত আখ ক্ষেতের সীমানায় ফিরে আসছে। এই পুনরাবৃত্তির হার ইঙ্গিত দেয় যে স্থান পরিবর্তন তাদের প্রাকৃতিক আচরণকে ব্যাহত করছে। উপরন্তু, আতশবাজি এবং সাইরেন ব্যবস্থার মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাগুলির কার্যকারিতা হ্রাস পাচ্ছে, কারণ চিতাবাঘগুলি ক্রমশ এই শব্দগুলির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, যা তাদের সংবেদনশীলতাকে ভোঁতা করে দিচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, মহারাষ্ট্রে চিতাবাঘের আক্রমণে মানুষের মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে; ২০২০ সালেই এই রাজ্যে ৩৫ জন প্রাণ হারিয়েছিলেন, যা এই সংঘাতের তীব্রতা তুলে ধরে। আখ চাষের নিবিড়তা এবং গ্রামগুলির কাছাকাছি সহজলভ্য শিকারের প্রাচুর্য এই অভিযোজনের প্রধান চালিকাশক্তি বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আখ ক্ষেতের উচ্চতা এবং ঘনত্ব চিতাবাঘদের জন্য চমৎকার আচ্ছাদন প্রদান করে, যা তাদের শিকার এবং বিশ্রামের জন্য আদর্শ পরিবেশ সৃষ্টি করে। আসন্ন আখ মাড়াইয়ের মরসুমের পরিপ্রেক্ষিতে, এই ঘনবসতিপূর্ণ আখ এলাকায় চিতাবাঘের উচ্চ ঘনত্ব সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
এই পরিস্থিতিতে, রাজ্য সরকার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের পথ খুঁজছে, যার মধ্যে নির্বীজকরণ বা স্টেরিলাইজেশন একটি সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বনভূমি থেকে প্রাণীগুলিকে জোর করে বিতাড়িত করার প্রচেষ্টা যে কার্যত অসাফল্যমণ্ডিত, তা স্পষ্ট হয়ে যাওয়ায়, সরকার এখন মানবিক ও পরিবেশগত দিকগুলি বিবেচনা করে নীতি নির্ধারণে মনোনিবেশ করছে। পরিবেশ সংস্থাগুলিও এই সমস্যাকে ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখছে; তারা মনে করে যে শুধুমাত্র বন্যপ্রাণীদের বাসস্থান রক্ষার দিকে মনোযোগ না দিয়ে, মানুষকেও চিতাবাঘের সঙ্গে নিরাপদে সহাবস্থান করার কৌশল শেখানো প্রয়োজন।
এই ধরনের অভিযোজিত আচরণ প্রায়শই মানুষের কার্যকলাপের সরাসরি ফলস্বরূপ ঘটে, যেমন বনভূমির সংকোচন এবং মানুষের বর্জ্য বা গবাদি পশুর সহজলভ্যতা। গবেষকরা দেখিয়েছেন যে উপজাতি সম্প্রদায়ের কিছু গ্রামে আজও চিতাবাঘ সহজে আক্রমণ করে না, কারণ সেখানকার মানুষ বাঘকে নিয়ন্ত্রণ করার পদ্ধতি জানেন। এই প্রেক্ষাপটে, আখ ক্ষেতের মতো মানব-কৃষি পরিবেশে চিতাবাঘের এই নতুন বসতি স্থাপন একটি বৃহত্তর পরিবেশগত ভারসাম্যের প্রশ্ন উত্থাপন করে, যেখানে কৃষিকাজ এবং বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মধ্যে একটি কার্যকরী সমন্বয় সাধন করা অপরিহার্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজ্য প্রশাসন এখন এমন একটি কাঠামো তৈরির দিকে ঝুঁকছে যা কেবল প্রতিরোধ নয়, বরং এই পরিবর্তিত বাস্তুতন্ত্রের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করবে।
উৎসসমূহ
The Times of India
The Times of India
ThePrint
LatestLY
The Times of India
Wildlife SOS
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
