বিশ্বের প্রবীণতম কর্মরত চিকিৎসক, ডাঃ হাওয়ার্ড টাকার, যিনি ১০৩ বছর বয়সে প্রয়াত হয়েছেন, তাঁর জীবন সক্রিয় দীর্ঘায়ুর এক শক্তিশালী দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেছে। ওহাইওর ক্লিভল্যান্ড-ভিত্তিক এই স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ ১৯৪৭ সাল থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সক্রিয়ভাবে চিকিৎসা ক্ষেত্রে কাজ করেছেন এবং গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস দ্বারা বিশ্বের প্রাচীনতম কর্মরত চিকিৎসক হিসেবে স্বীকৃত ছিলেন। তাঁর কর্মজীবনের ব্যাপ্তি ছিল সাত দশকেরও বেশি, যার মধ্যে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নৌবাহিনীতে এবং কোরিয়ান যুদ্ধের সময় মার্কিন আটলান্টিক ফ্লিটের প্রধান স্নায়ুরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
ডাঃ টাকার নিরলস শেখার আগ্রহের প্রমাণ রেখেছিলেন যখন তিনি ৬৭ বছর বয়সে আইন বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেন এবং ওহাইও বার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তিনি তাঁর জীবনের শেষভাগেও বুদ্ধিবৃত্তিক ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন, এমনকি রোগী দেখা বন্ধ করার পরেও তিনি বক্তৃতা ও পরামর্শ প্রদান চালিয়ে যান। তাঁর দীর্ঘায়ুর মূল দর্শন ছিল অবসর গ্রহণ এড়িয়ে চলা, কারণ তিনি মনে করতেন অবসর হলো দীর্ঘায়ুর শত্রু। তাঁর মতে, সকালে ঘুম থেকে ওঠার জন্য একটি উদ্দেশ্য থাকা অপরিহার্য, যা মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে এবং জ্ঞানীয় অবনতিকে ধীর করে দেয়।
তিনি নিয়মিতভাবে স্টাডি করতেন, পড়াশোনা করতেন এবং স্নায়ুবিজ্ঞানের অগ্রগতি নিয়ে উত্তেজিত হতেন; এমনকি তিনি এমন রোগী দেখার ক্ষেত্রেও আনন্দ পেতেন যার রোগ নির্ণয়ের সমস্যা তিনি আগে কখনো দেখেননি বা বিগত দুই থেকে পাঁচ দশকে সম্মুখীন হননি। তাঁর দীর্ঘ ও কর্মময় জীবনের জন্য তিনি কিছু মূল উপদেশ প্রদান করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ধূমপান সম্পূর্ণ বর্জন করা এবং বিদ্বেষ পোষণ না করা। ডাঃ টাকার জোর দিয়েছিলেন যে ঘৃণা করা হলো আত্ম-শারীরিক নির্যাতন, যা হৃদস্পন্দন ও রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয় এবং উদ্বেগজনিত চাপের মতোই ক্ষতিকর।
মদ্যপান ও ক্যাফেইন পরিহারের বিষয়ে জর্জ বার্নার্ড শ-এর পরামর্শের বিপরীতে তিনি উইনস্টন চার্চিলের মদ্যপান ও ধূমপানের অভ্যাসের উদাহরণ দিয়েছিলেন, এবং উপসংহারে বলেছিলেন যে সবকিছুতেই পরিমিতিবোধ থাকা উচিত, তবে সিগারেট সম্পূর্ণরূপে বর্জনীয়। তাঁর এই জীবনধারা কেবল চিকিৎসা জগতেই সীমাবদ্ধ ছিল না; তাঁর নাতি অস্টিন টাকার এবং চলচ্চিত্র নির্মাতা টেইলর ট্যাগলিয়ানেট্টি তাঁর জীবন নিয়ে 'হোয়াটস নেক্সট?' নামক একটি তথ্যচিত্র নির্মাণ করেন, যা তাঁর উত্তরাধিকারকে তুলে ধরে। এই তথ্যচিত্রের সহযোগী টিকটক অ্যাকাউন্টটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে, যেখানে তিনি তাঁর জীবন দর্শন ভাগ করে নেন এবং নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণা হয়ে ওঠেন।
ডাঃ টাকার প্রমাণ করেছেন যে বয়স কেবল একটি সংখ্যা মাত্র, এবং শেখার আগ্রহ ও সামাজিক সংযোগ একটি দীর্ঘ ও প্রাণবন্ত জীবনের ভিত্তি। তাঁর এই উত্তরাধিকার সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং কৌতুহলকে দীর্ঘ ও স্বাস্থ্যকর জীবনের মূল ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।



