দীর্ঘস্থায়ী চাপ মোকাবিলা ও দীর্ঘায়ু বৃদ্ধিতে হাঁটার অপরিহার্য ভূমিকা
সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova
আধুনিক জীবনের চাপ প্রাচীন 'লড়াই অথবা পলায়ন' (fight or flight) প্রতিক্রিয়াকে সক্রিয় করে, যা অ্যালোস্ট্যাটিক লোড বৃদ্ধি করে এবং ফলস্বরূপ হৃদরোগ ও টাইপ ২ ডায়াবেটিসের মতো গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। এই পরিস্থিতিতে, শারীরিক কার্যকলাপকে একটি শক্তিশালী ও সহজলভ্য মানসিক চাপ উপশমকারী হিসেবে বিশেষজ্ঞরা জোরালোভাবে সমর্থন করেন। নিয়মিত শারীরিক কসরত, যেমন দ্রুত হাঁটা, শরীরের উপর এই নেতিবাচক চাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে পাঁচ দিন মাত্র ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা উদ্বেগ ও বিষণ্নতা হ্রাস করতে এবং একাধিক দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে সহায়ক। গবেষণায় দেখা গেছে যে বয়স্ক ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে হাঁটার গতি সরাসরি তাদের প্রত্যাশিত আয়ুষ্কালের পূর্বাভাস দিতে পারে, যা শারীরিক স্থিতিস্থাপকতার ক্ষেত্রে এর অপরিহার্য ভূমিকা তুলে ধরে। আণবিক স্তরে, সহনশীলতা-ভিত্তিক ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বিপাক প্রক্রিয়া এবং সামগ্রিক শারীরিক চাপ প্রতিক্রিয়ার উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাধারণত, প্রতি মিনিটে ১০০ পা হাঁটার সামর্থ্যকে ভালো শারীরিক সুস্থতার লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যেখানে ধীর গতি জ্ঞানীয় সমস্যা বা পেশী দুর্বলতার ইঙ্গিত দিতে পারে। দ্রুত হাঁটা হৃদপিণ্ডের স্বাস্থ্য উন্নত করে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়, যেমনটি আন্তর্জাতিক গবেষণায় প্রমাণিত।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী, সপ্তাহে কমপক্ষে ১৫০ মিনিট ব্যায়াম করা উচিত, যা দৈনিক প্রায় ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটার সমতুল্য এবং প্রায় ৪ থেকে ৫ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার সমান। দীর্ঘস্থায়ী চাপ মোকাবিলার জন্য, সপ্তাহে ন্যূনতম তিনবার হাঁটার সেশন করার সুপারিশ করা হয়, যদিও দৈনিক ৩০ থেকে ৬০ মিনিট হাঁটা উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য সুবিধা প্রদান করে। এই অভ্যাসের সঙ্গে প্রকৃতিতে হাঁটার সময় মননশীলতা বা মাইন্ডফুলনেস যুক্ত করলে তা মানসিক সুস্থতা এবং আত্ম-উপলব্ধি বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়। অতিরিক্ত চাপযুক্ত পরিস্থিতিতে, দ্রুত হাঁটা শরীরে কর্টিসলের মতো স্ট্রেস হরমোন কমাতে সাহায্য করে, যা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি হ্রাস করে।
নিয়মিত হাঁটা হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং রক্তনালীকে নমনীয় রাখে, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। কার্ডিওলজিস্টদের মতে, হৃদযন্ত্র যখন কম পরিশ্রমে বেশি রক্ত পাম্প করতে পারে, তখন রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। এছাড়াও, হাঁটা খারাপ কোলেস্টেরল এলডিএল কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল এইচডিএল বৃদ্ধি করে, যা হৃদরোগ এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক। এমনকি, দৈনিক ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ পদক্ষেপ হাঁটা শুরু করলেই রক্তচাপ কমানোর সুবিধা পাওয়া যায়, এবং ৭,০০০ পদক্ষেপে হৃদরোগের ঝুঁকি ২৫ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে।
হাঁটার মাধ্যমে কেবল শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যেরও উন্নতি ঘটে। যারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন, তাদের হাঁটার ভঙ্গিতে উদ্বেগ প্রকাশ পেতে পারে, যেমন ঝুঁকে হাঁটা বা মাথা নিচু করে হাঁটা। অন্যদিকে, সোজা ভঙ্গিতে আনন্দিত মনে হাঁটা মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতিফলন ঘটায়। উপরন্তু, গবেষণায় দেখা গেছে যে সক্রিয় নারীদের মধ্যে দ্রুত হাঁটার কারণে স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম থাকে। হাঁটা শরীরের নিম্নাংশের পেশীগুলিকে শক্তিশালী করে, যেমন কাফ, গ্লুটিয়াল, হ্যামস্ট্রিং এবং কোয়াড্রিসেপস পেশীগুলিকে সক্রিয় করে, যা সামগ্রিক শারীরিক শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। তবে, অতিরিক্ত হাঁটা সন্ধিতে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষত যদি ওজন বেশি থাকে, তাই নরম মাটিতে হাঁটা এবং আরামদায়ক জুতো ব্যবহার করা বাঞ্ছনীয়। জাতীয় হাঁটা দিবস প্রতি বছর ৯ জানুয়ারি পালিত হয়, যা এই সহজ ব্যায়ামের গুরুত্বকে তুলে ধরে। সামগ্রিকভাবে, হাঁটা হলো একটি সাশ্রয়ী এবং সর্বজনীন ব্যায়াম, যা দীর্ঘস্থায়ী রোগ প্রতিরোধের মৌলিক ভিত্তি হিসেবে কাজ করে এবং সুস্থ ও দীর্ঘ জীবন লাভে সহায়তা করে।
8 দৃশ্য
উৎসসমূহ
YourTango
WebMD
MindBodyGreen
Harvard Health
YourTango
এই বিষয়ে আরও নিবন্ধ পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।



