বার্ধক্যপ্রাপ্ত সমাজে ছয় প্রজন্মের সহাবস্থান ও আন্তঃপ্রজন্মীয় সহযোগিতার গুরুত্ব

সম্পাদনা করেছেন: Olga Samsonova

মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধির ফলে বর্তমান বিশ্বে এমন এক সামাজিক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যেখানে একই সময়ে ছয়টি ভিন্ন প্রজন্ম পাশাপাশি অবস্থান করছে। এই যুগপৎ উপস্থিতি পরিবার এবং কর্মক্ষেত্র উভয় ক্ষেত্রেই নতুন গতিশীলতা ও চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে। এই শ্রেণিবিন্যাসটি দৃঢ়চেতা 'সাইলেন্ট জেনারেশন' (সাধারণত ১৯২৮ থেকে ১৯৪৫ সালের মধ্যে জন্মগ্রহণকারী) থেকে শুরু করে সম্পূর্ণ ডিজিটাল-নির্ভর 'জেনারেশন আলফা' (২০১৩ সালের পরে জন্ম) পর্যন্ত বিস্তৃত। এই ছয়টি প্রধান গোষ্ঠীর মধ্যে আরও রয়েছে কর্মঠ 'বেবি বুমারস' (১৯৪৬-১৯৬৪), মধ্যবর্তী অবস্থানে থাকা 'জেনারেশন এক্স' (১৯৬৫-১৯৮০), প্রযুক্তি-সচেতন 'মিলেনিয়ালস' বা জেনারেশন ওয়াই, এবং জন্মগতভাবে ডিজিটাল নাগরিক 'জেনারেশন জেড' (১৯৯৭-২০১২)।

এই বৈচিত্র্যময় বয়সের সমাবেশ একবিংশ শতাব্দীর জটিল সমস্যাবলি মোকাবিলায় আন্তঃপ্রজন্মীয় সহযোগিতার গুরুত্বকে সামনে এনেছে। উদাহরণস্বরূপ, জেনারেশন জেড প্রযুক্তিগতভাবে অত্যন্ত সাবলীল এবং সামাজিক ন্যায়বিচার ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে সচেতন। অন্যদিকে, বেবি বুমারস নাগরিক অধিকার ও পরিবেশবাদী আন্দোলনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছিলেন এবং তারা কর্মঠ ও আশাবাদী হিসেবে পরিচিত। এই বিভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে কার্যকর সংযোগ স্থাপন এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া বৃদ্ধি করা অপরিহার্য। আন্তঃপ্রজন্মীয় কর্মসূচিগুলো সকল বয়সের মানুষের মধ্যে মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে, সামাজিক উদ্বেগ কমাতে এবং সর্বব্যাপী বয়সবাদ বা এজিসমকে প্রতিহত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, স্বাস্থ্য কেবল রোগের অনুপস্থিতি নয়, বরং শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক কল্যাণের একটি সামগ্রিক অবস্থা, যা এই সহযোগিতার মাধ্যমে সুদৃঢ় হয়।

কর্মপরিবেশে, প্রাতিষ্ঠানিক 'রিভার্স মেন্টরিং' ব্যবস্থা একটি কার্যকর কৌশল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায়, তরুণ প্রজন্মের ডিজিটাল দক্ষতা বয়স্ক সদস্যদের প্রশিক্ষণে ব্যবহৃত হয়, বিনিময়ে বয়স্করা তাদের সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা এবং সংকট ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা নতুনদের প্রদান করেন। জেনারেশন এক্স, যারা এনালগ ও ডিজিটালের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করেছে, তাদের এই অভিজ্ঞতা অত্যন্ত মূল্যবান। এই ধরনের বয়স-ভিত্তিক চুক্তি বা 'এজ প্যাক্ট' বিশ্বব্যাপী বার্ধক্যপ্রাপ্ত সমাজের সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার জন্য একটি নির্ণায়ক কৌশল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

এই আন্তঃপ্রজন্মীয় সমন্বয় কেবল কর্মক্ষেত্রেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি বৃহত্তর সামাজিক কাঠামোতেও প্রভাব ফেলে। সংস্কৃতি মানুষের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করে এবং গোষ্ঠী জীবনে সহমর্মিতা ও নির্ভরশীলতা শেখায়, যা এই ভিন্ন ভিন্ন প্রজন্মের মধ্যে সুসংহত সম্পর্ক স্থাপনে সহায়ক হতে পারে। যখন বিভিন্ন প্রজন্ম তাদের স্বতন্ত্র অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান একত্রিত করে, তখন তারা সমাজের বিদ্যমান সমস্যা, যেমন—দারিদ্র্য, মানসিক স্বাস্থ্য সংকট এবং সামাজিক বিচ্ছিন্নতা, সমাধানে আরও কার্যকর ভূমিকা নিতে পারে। ফলস্বরূপ, এই সমন্বিত প্রচেষ্টা একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং স্থিতিশীল ভবিষ্যৎ সমাজ গঠনে অপরিহার্য, যেখানে প্রতিটি প্রজন্মের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং তাদের সম্মিলিত শক্তিকে কাজে লাগানো হয়। এই কাঠামোবদ্ধ সহযোগিতা আগামী দিনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় অপরিহার্য।

3 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Faro de Vigo

  • enteraT.com

  • El Imparcial de Oaxaca

  • National Today

  • Brookings Institution

  • OkDiario

  • Información

  • La Tercera

  • Diario en Positivo

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।