মনের শান্তি লাভের পথে বাধা সৃষ্টিকারী পাঁচটি অভ্যন্তরীণ সংলাপের ধরন
সম্পাদনা করেছেন: Liliya Shabalina
অনেকেই ভুলবশত মনে করেন যে ভবিষ্যতের বাহ্যিক পরিস্থিতিতেই মনের শান্তি নিহিত। তবে জ্ঞানীয় মনোবিজ্ঞানের গবেষণাগুলি স্পষ্ট করে দেখায় যে, এই শান্তি অর্জনের পথে প্রধান বাধা হলো অবিরাম, স্বয়ংক্রিয় অভ্যন্তরীণ কথোপকথন। এই স্ব-কথন আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা এবং কর্মক্ষমতার উপর অতিরিক্ত জোর দেওয়া সাংস্কৃতিক প্রবণতা দ্বারা গঠিত হয়, যা প্রায়শই জ্ঞানীয় বিকৃতি হিসেবে প্রকাশ পায় এবং বর্তমান মুহূর্তের সন্তুষ্টিকে ব্যাহত করে।
এই অভ্যন্তরীণ আলোচনার একটি সাধারণ ধরন হলো ভবিষ্যতের জন্য অপেক্ষা করা। যেমন, সর্বদা ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করা—যেমন সপ্তাহান্তের জন্য—মনকে শেখায় যে বর্তমান সময়টি কেবল একটি প্রস্তুতি পর্ব মাত্র। এর ফলে তাৎক্ষণিক শান্তি বিঘ্নিত হয় এবং বর্তমানের আনন্দ উপভোগ করার ক্ষমতা হ্রাস পায়। এটি যেন জীবনকে একটি অপেক্ষার প্রহর হিসেবে দেখার অভ্যাস তৈরি করে।
দ্বিতীয়ত, 'শান্তির ভয়' একটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা। 'আমার বিশ্রাম নেওয়া উচিত নয়'—এই ধরনের বিশ্বাস কর্মমুখী সংস্কৃতি থেকে উদ্ভূত হয়। এই মানসিকতা মস্তিষ্কের শান্ত হওয়ার ক্ষমতাকে রুদ্ধ করে দেয় এবং ব্যক্তির অন্তর্নিহিত মূল্যবোধ থেকে প্রাপ্ত তৃপ্তি থেকে তাকে বঞ্চিত করে। এটি এক ধরনের মানসিক চাপ সৃষ্টি করে যে সর্বদা কিছু না কিছু করতেই হবে।
এরপর আসে 'নিখুঁত হওয়ার আকাঙ্ক্ষা' বা পারফেকশনিজম। 'এটি যথেষ্ট ভালো নয়'—এই চিন্তা অবিরাম অভ্যন্তরীণ উত্তেজনা সৃষ্টি করে। কারণ এটি অর্জনের সন্তুষ্টিকে অস্বীকার করে এবং ক্রমাগত আত্ম-প্রমাণীকরণের দাবি জানায়। এই মানসিকতা মানুষকে কোনো কাজ শেষ করার পরেও স্বস্তি পেতে দেয় না, সবসময়ই আরও ভালো করার তাগিদ অনুভব করায়।
আবেগ প্রতিরোধের প্রবণতাও শান্তির পথে অন্তরায়। 'আমার এমন অনুভব করা উচিত নয়'—এই ধরনের বিবৃতি ব্যবহার করে অনুভূতিকে দমন করার চেষ্টা করা হলে অভ্যন্তরীণ সংঘাত তৈরি হয়। যে আবেগগুলিকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না, সেগুলি সমাধান হওয়ার পরিবর্তে উদ্বেগ বা মানসিক চাপ হিসাবে প্রকাশ পায়। এটি যেন মনের ভেতরে জমে থাকা অব্যক্ত অনুভূতি, যা শান্তিতে বাধা দেয়।
এছাড়াও, ব্যক্তিগত চাহিদাগুলিকে তুচ্ছ জ্ঞান করা—প্রায়শই সংঘাত এড়ানোর জন্য 'এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়'—এই কথাটি বলার মাধ্যমে—ব্যক্তি নিজের প্রয়োজনকে অস্বীকার করে। এর ফলস্বরূপ দীর্ঘমেয়াদী অসন্তোষ এবং বিচ্ছিন্নতার অনুভূতি জন্ম নেয়। নিজের ভেতরের কণ্ঠস্বরকে উপেক্ষা করার এই প্রবণতা মনের শান্তিকে ক্ষুণ্ণ করে।
প্রকৃত অভ্যন্তরীণ শান্তি তখন শুরু হয় না যখন জীবন শান্ত হয়, বরং যখন মানুষ স্বয়ংক্রিয় নেতিবাচক চিন্তা এবং সেই চিন্তার প্রতি তাদের প্রতিক্রিয়ার মধ্যে একটি ব্যবধান তৈরি করতে শেখে। এই ব্যবধান তৈরি করাই হলো আসল কৌশল।
এই পাঁচটি সাধারণ বাক্যাংশকে পরম সত্য হিসেবে না দেখে চিন্তার ধরণ হিসেবে চিহ্নিত করতে পারলে, বর্তমান মুহূর্তকে গ্রহণ করার মানসিকতা গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এই সচেতনতাই মানসিক স্থিতি লাভের প্রথম ধাপ। এই অভ্যাসগুলি আয়ত্ত করতে পারলে জীবনের প্রতিটি পর্যায়ে শান্তি খুঁজে পাওয়া সহজ হয়।
42 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Svet24.si - Vsa resnica na enem mestu
Maestrovirtuale.com
BRST Psihologija
#to sem jaz
Nevro Inštitut Čustvena Inteligenca
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
