কমলা বিড়ালের রহস্যময় জেনেটিক্স: কেন তারা অন্যদের থেকে আলাদা?

লেখক: Svetlana Velhush

কমলা বিড়ালের রহস্যময় জেনেটিক্স: কেন তারা অন্যদের থেকে আলাদা?-1

বিড়াল

বিড়ালপ্রেমীদের কাছে কমলা বা 'জিঞ্জার' বিড়াল সবসময়ই এক বিশেষ আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। সম্প্রতি আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি (Stanford University) এবং জাপানের কিউশু ইউনিভার্সিটির (Kyushu University) দুটি স্বতন্ত্র গবেষক দল এই বিড়ালদের গায়ের রঙের রহস্য উন্মোচন করেছেন। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, সমস্ত কমলা রঙের বিড়ালের এক্স-ক্রোমোজোমে (X-chromosome) প্রায় ৫০৭৬ জোড়া বেস পেয়ারের একটি অনন্য জেনেটিক পরিবর্তন বা 'ডিলিশন' রয়েছে।

কমলা বিড়ালের রহস্যময় জেনেটিক্স: কেন তারা অন্যদের থেকে আলাদা?-1

বিড়াল

এই জেনেটিক পরিবর্তনটি সরাসরি কোনো জিনের ভেতরে ঘটে না, বরং এটি এআরএইচজিএপি৩৬ (ARHGAP36) নামক একটি জিনের পাশের একটি নন-কোডিং অঞ্চলে অবস্থান করে। সাধারণত এই জিনটি বিড়ালের পিগমেন্ট কোষ বা মেলানোসাইটে নিষ্ক্রিয় থাকে। তবে এই বিশেষ পরিবর্তনের ফলে কমলা বিড়ালদের ক্ষেত্রে এই জিনটি সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যে এক আমূল পরিবর্তন আনে।

এই প্রক্রিয়ার ফলে বিড়ালের মেলানোসাইটগুলো সাধারণ কালো বা বাদামী পিগমেন্ট (ইউমেলানিন) তৈরির পরিবর্তে কমলা বা লালচে পিগমেন্ট (ফিওমেলানিন) তৈরি করতে শুরু করে। এই বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যাটি দীর্ঘ ১০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলে আসা একটি রহস্যের সমাধান করেছে। গবেষকরা লক্ষ্য করেছেন যে, এই মিউটেশনটি শুধুমাত্র গৃহপালিত বিড়ালদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং এটি তাদের বন্য পূর্বপুরুষ বা অন্য কোনো স্তন্যপায়ী প্রাণীর মধ্যে পাওয়া যায় না।

কমলা রঙের এই উত্তরাধিকার প্রক্রিয়াটি মূলত এক্স-লিঙ্কড (X-linked) ইনহেরিট্যান্সের মাধ্যমে ঘটে। যেহেতু পুরুষ বিড়ালদের একটি এক্স এবং একটি ওয়াই ক্রোমোজোম (XY) থাকে, তাই তারা যদি এই মিউটেশনটি পায়, তবে তারা প্রায় সবসময়ই সম্পূর্ণ কমলা রঙের হয়। অন্যদিকে, স্ত্রী বিড়ালদের দুটি এক্স ক্রোমোজোম (XX) থাকে। যদি তাদের একটি ক্রোমোজোমে এই মিউটেশন থাকে, তবে তারা সাধারণত কচ্ছপের খোসার মতো রঙের (tortoiseshell) বা তিন রঙের (calico) হয়ে থাকে।

ইন্টারনেটে এবং বিড়াল মালিকদের মধ্যে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে যে কমলা বিড়ালরা অত্যন্ত সাহসী, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং কিছুটা 'বিশৃঙ্খল' স্বভাবের হয়, যাকে প্রায়ই 'অরেঞ্জ ক্যাট বিহেভিয়ার' বলা হয়। এই আচরণের কিছু সম্ভাব্য কারণ নিচে দেওয়া হলো:

  • অধিকাংশ সম্পূর্ণ কমলা রঙের বিড়ালই পুরুষ প্রজাতির হয়ে থাকে।
  • গবেষণায় দেখা গেছে যে পুরুষ বিড়ালরা সাধারণত নারী বিড়ালের তুলনায় গড়ে বেশি সক্রিয় এবং খেলাধুলাপ্রিয় হয়।

যদিও এই গবেষণাটি বিড়ালের গায়ের রঙের বিবর্তনীয় পথ এবং এর পেছনের জটিল প্রক্রিয়াটি স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করেছে, তবুও বিজ্ঞানীদের মতে গায়ের রঙের সাথে মেজাজের সরাসরি কোনো সম্পর্ক এখনও প্রমাণিত হয়নি। সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই দাবি করা হয় যে এই জিনটিই তাদের অদ্ভুত স্বভাবের জন্য দায়ী, তবে এটি মূলত একটি সাংবাদিকতামূলক অতিরঞ্জন বা হাইপ মাত্র।

পরিশেষে বলা যায়, এই যুগান্তকারী আবিষ্কারটি প্রাণিবিদ্যার ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক। এটি কেবল গৃহপালিত বিড়ালের বিবর্তনীয় ইতিহাসকেই সমৃদ্ধ করেনি, বরং আমাদের প্রিয় এই চারপেয়ে বন্ধুদের অনন্য বৈশিষ্ট্যগুলো বুঝতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যদিও তাদের 'উদ্ভট' আচরণের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ এখনও অধরা, তবুও তাদের এই বিশেষ জেনেটিক গঠন তাদের বিড়াল জগতের এক অনন্য সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

22 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Stanford Medicine: Подробный разбор открытия мутации ARHGAP36

  • Current Biology / ScienceDaily: Научная публикация о генетических механизмах окраса

  • Psychology Today: Анализ связи окраса, размера и стратегии выживания рыжих котов

  • Psychology Today: Анализ связи окраса, размера и стратегии выживания рыжих котов

  • Psychology Today: Анализ связи окраса, размера и стратегии выживания рыжих котов.

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।