জ্বালানি অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলার মুখে জেলেনস্কির দাভোস সফর বাতিল
সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush
২০২৬ সালের ১৯ থেকে ২৩ জানুয়ারি পর্যন্ত সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। "সংলাপের চেতনা" বা "Spirit of Dialogue" স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই সম্মেলনটি চরম ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে শুরু হয়েছিল। বিশেষ করে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ এবং ফ্রান্সসহ ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকির ফলে কূটনৈতিক পরিবেশ বেশ জটিল হয়ে ওঠে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ২০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি তার পূর্বনির্ধারিত দাভোস সফর বাতিলের ঘোষণা দেন। রাশিয়ার পক্ষ থেকে রাতভর চালানো ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর দেশের বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের কাজ ব্যক্তিগতভাবে তদারকি করার প্রয়োজনীয়তা থেকেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। জেলেনস্কি তার অবস্থানে অনড় থেকে বলেন, "নিঃসন্দেহে আমি এই মুহূর্তে অর্থনৈতিক ফোরামের চেয়ে ইউক্রেনকেই বেছে নিচ্ছি।" তবে পরিস্থিতির সাপেক্ষে তিনি ভবিষ্যতে পরিকল্পনায় পরিবর্তনের ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন।
ইউক্রেনের জাতীয় বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান 'উক্রেনারগো' (Ukrenergo)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটির বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। প্রেসিডেন্ট নিজে উপস্থিত না থাকলেও ইউক্রেনের একটি প্রতিনিধি দল দাভোসে অবস্থান করছে। তারা মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তায় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং জ্বালানি খাতের যন্ত্রপাতি সংগ্রহের বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০ জানুয়ারি রাশিয়ার চালানো সেই হামলায় ইউক্রেনীয় সূত্রের দাবি অনুযায়ী মোট ৩৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৩৩৯টি ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানী কিয়েভ এবং খারকিভসহ বেশ কিছু অঞ্চলে বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, তারা সফলভাবে ৩৪২টি লক্ষ্যবস্তু প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী ডেনিস শমিহাল আগেই সতর্ক করেছিলেন যে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রও অক্ষত নেই।
বর্তমান সংকটে কিয়েভ যখন জরুরি ভিত্তিতে বস্তুগত সহায়তার জন্য বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আবেদন জানাচ্ছে, তখন পর্দার আড়ালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার প্রতিনিধিদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদী রূপরেখা নিয়ে আলোচনা চলছে বলে গুঞ্জন উঠেছে। এই ধরনের গোপন আলোচনা ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। যুদ্ধের এই সংকটময় মুহূর্তে আন্তর্জাতিক রাজনীতির গতিপ্রকৃতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
19 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Il Foglio
Reuters
Kyiv Post
The Guardian
Bloomberg News
The Diplomat
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
