২১ জানুয়ারি থেকে ৭৫টি দেশের অভিবাসন ভিসা স্থগিত করছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর

সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich

২০২৬ সালের ১৪ জানুয়ারি, বুধবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছে। এই ঘোষণা অনুযায়ী, ব্রাজিলসহ বিশ্বের ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়াকরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হচ্ছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে এই নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর হবে। মার্কিন প্রশাসন জানিয়েছে, যতক্ষণ পর্যন্ত সরকার নিশ্চিত হতে পারছে না যে নতুন অভিবাসীরা "আমেরিকান জনগণের সম্পদ আহরণ করবে না", ততক্ষণ এই স্থগিতাদেশ বহাল থাকবে।

এই সিদ্ধান্তটি মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন কৌশলের একটি অংশ। এর মূল লক্ষ্য হলো এমন বিদেশিদের প্রবেশ ঠেকানো যারা দেশের জন্য "জনসাধারণের বোঝা" (public charge) হয়ে উঠতে পারেন। এই স্থগিতাদেশ শুধুমাত্র অভিবাসন ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ দেয়, যেমন পারিবারিক বা কর্মসংস্থান ভিত্তিক ভিসা। তবে অ-অভিবাসী ক্যাটাগরির ভিসাগুলো, যেমন ব্যবসা ও পর্যটনের জন্য B1/B2, শিক্ষার্থীদের জন্য F/M, এবং বিনিময় কর্মসূচির জন্য J ভিসা, এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েনি। যদিও এই ভিসাগুলোর ক্ষেত্রে এখন আরও কঠোর যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এই পদক্ষেপটি মূলত ২০২৫ সালের নভেম্বরে জারি করা ব্যাপক নির্দেশনার ধারাবাহিকতা। সেই সময় কনস্যুলার নিয়মগুলো আরও কঠোর করা হয়েছিল যাতে সরকারি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল হতে পারে এমন আবেদনকারীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়। ফক্স নিউজের হাতে আসা পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি অভ্যন্তরীণ মেমোতে দেখা গেছে, কনস্যুলার কর্মকর্তাদের 'পাবলিক চার্জ' আইনের দোহাই দিয়ে ভিসা প্রত্যাখ্যান করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি বা অতিরিক্ত ওজনের আবেদনকারীদের উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। ব্রাজিল ছাড়াও এই ৭৫টি দেশের তালিকায় রয়েছে রাশিয়া, আফগানিস্তান, ইরান, ইরাক, মিশর, নাইজেরিয়া, থাইল্যান্ড এবং সোমালিয়া।

এই স্থগিতাদেশের প্রেক্ষাপটটি বেশ রাজনৈতিক উত্তেজনাময়। ট্রাম্প প্রশাসনের প্রথম বছরেই ১,০০,০০০-এরও বেশি বিদেশি ভিসা বাতিল করার পর এই নতুন পদক্ষেপটি এল। পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র টমি পিগট ব্যাখ্যা করেছেন যে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য "বোঝা" হতে পারে তাদের অযোগ্য ঘোষণা করার জন্য বিভাগটি তার দীর্ঘদিনের ক্ষমতা প্রয়োগ করছে। ২০২৫ সালের ২১ জানুয়ারি থেকে দায়িত্ব পালন করা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে এই সাময়িক স্থগিতাদেশের বিষয়ে কনস্যুলার কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড ন্যাশনালিটি অ্যাক্টের ২১২(এ)(৪)(এ) ধারায় বর্ণিত "পাবলিক চার্জ" বা জনসাধারণের বোঝা সংক্রান্ত নিয়মগুলো আরও কঠোর করা হয়েছে। এর ফলে আবেদনকারীদের প্রমাণ করতে হবে যে ভবিষ্যতে সরকারি সাহায্য এড়ানোর মতো পর্যাপ্ত সম্পদ তাদের রয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে কনস্যুলেটগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন ডায়াবেটিস বা স্থূলতার মতো নির্দিষ্ট স্বাস্থ্য সমস্যা থাকা ব্যক্তি এবং বয়স্ক অভিবাসীদের ভিসা প্রত্যাখ্যান করা হয়। বর্তমানে যাদের অভিবাসন ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াধীন রয়েছে, তাদের পরিষেবা পুনরায় চালু না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

এই নজিরবিহীন সিদ্ধান্তের ফলে হাজার হাজার অভিবাসন প্রত্যাশী বর্তমানে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান আন্তর্জাতিক মহলে এবং অভিবাসন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং আর্থিক সক্ষমতাকে ভিসা প্রাপ্তির প্রধান মাপকাঠি হিসেবে নির্ধারণ করায় অনেক যোগ্য আবেদনকারীও বাধার সম্মুখীন হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই নীতিমালার দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মার্কিন শ্রমবাজার এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ওপর কেমন হবে, তা এখন দেখার বিষয়।

13 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Valor Econômico

  • Melhores Destinos

  • VEJA

  • ECO - SAPO

  • Agência Brasil

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।