সৌদি আরব ও চীনের কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি: ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষর
সম্পাদনা করেছেন: gaya ❤️ one
সৌদি আরব এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পারস্পরিক স্বীকৃতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার বহন করে। এই কূটনৈতিক পদক্ষেপটি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই-এর সৌদি আরব সফরের সময় সম্পন্ন হয়, যা নির্ধারিত ছিল ২০২৫ সালের ১৪ই ডিসেম্বর। এই চুক্তি মূলত অর্থনৈতিক, বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং জ্বালানি খাতে কৌশলগত সহযোগিতা জোরদার করার ওপর আলোকপাত করে। এই সফরটি চীন ও সৌদি আরবের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার ৩৫তম বার্ষিকীর সঙ্গে মিলে গেছে, যা দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গভীরতা প্রমাণ করে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের এই আলোচনায়, ওয়াং ই এবং তাঁর সৌদি প্রতিপক্ষ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ চীন-সৌদি আরব উচ্চ-স্তরের যৌথ কমিটির রাজনৈতিক উপ-কমিটির পঞ্চম বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে উভয় পক্ষই তাদের মূল স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে পারস্পরিক সমর্থন অব্যাহত রাখার ওপর জোর দেয় এবং নেতাদের গৃহীত একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়। এই সহযোগিতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা অর্জনের বৃহত্তর লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চীন সৌদি আরবের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনা, বিশেষত সৌদি ভিশন ২০৩০-এর প্রতি তার পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেছে, যা অবকাঠামো এবং শিল্প রূপান্তরে চীনের সম্পৃক্ততার পথ প্রশস্ত করে।
চীনের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রতি সমর্থন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, যার মধ্যে সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যে সফল পুনর্মিলন প্রক্রিয়াকে সমর্থন করা অন্যতম। চীন এই পুনর্মিলনকে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জনে সৌদি আরবের নেতৃত্বদানকারী প্রচেষ্টা হিসেবে প্রশংসা করেছে। উপরন্তু, বেইজিং দৃঢ়ভাবে 'এক-চীন নীতি'র প্রতি রিয়াদের আনুগত্যকে স্বাগত জানিয়েছে, এই মর্মে যে গণপ্রজাতন্ত্রী চীন সরকারই সমগ্র চীনের একমাত্র বৈধ প্রতিনিধি এবং তাইওয়ান চীনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ধরনের রাজনৈতিক সংহতি দ্বিপাক্ষিক আস্থার ভিত্তি আরও মজবুত করে।
এই চুক্তির বৃহত্তর প্রেক্ষাপটে, ফিলিস্তিন ইস্যুটিও আলোচনায় স্থান পেয়েছে, যেখানে চীন আরব দেশগুলোর বৈধ উদ্বেগ এবং দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের নীতির প্রতি তার সমর্থন বজায় রেখেছে। আলোচনার ফলস্বরূপ, চীন ২০২৬ সালে অনুষ্ঠিতব্য দ্বিতীয় চীন–আরব রাষ্ট্রসমূহ শীর্ষ সম্মেলন এবং দ্বিতীয় চীন–উপসাগরীয় আরব সহযোগিতা পরিষদ (জিসিসি) শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনে সৌদি আরবের প্রস্তুতিকে সমর্থন জানিয়েছে। এই কূটনৈতিক তৎপরতা এমন এক সময়ে ঘটছে যখন চীন মধ্যপ্রাচ্যে তার প্রভাব বিস্তার করতে চাইছে এবং সৌদি আরব যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বিকল্প অংশীদার খুঁজছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, চীন ও সৌদি আরবের মধ্যে সম্পর্ক ১৯৯০ সালের জুলাই মাসে আনুষ্ঠানিক রূপ নেয়, যদিও প্রথম কৌশলগত তেল সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল ১৯৯৯ সালে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, বিশেষত প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর ২০২২ সালের সফরের পর, সম্পর্ক নতুন ইতিবাচক অগ্রগতি লাভ করেছে। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে, উভয় পক্ষই জ্বালানি, উচ্চ প্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং নবায়নযোগ্য শক্তির মতো ভবিষ্যৎ শিল্পখাতে সহযোগিতা গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে, যা দ্বিপাক্ষিক অংশীদারিত্বকে নতুন দিগন্তে নিয়ে যাবে।
16 দৃশ্য
উৎসসমূহ
أخبار 24
كونا
الاقتصادية
اليوم
وكالة الأنباء الفلسطينية - وفا
سكاي نيوز عربية
People's Daily Online
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?
আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
