১০০০ টনের বেশি স্বর্ণের মজুদ: চীনের হুনান প্রদেশে 'সুপারজায়ান্ট' খনি আবিষ্কারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা
সম্পাদনা করেছেন: Tatyana Hurynovich
চীন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে হুনান প্রদেশে অবস্থিত 'ওয়াঙ্গু' (Wangu) নামক একটি বিশাল স্বর্ণখনির সন্ধান পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। এই আবিষ্কারটি দেশটির কৌশলগত খনিজ সম্পদের ভাণ্ডারকে উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। হুনান প্রাদেশিক ভূতাত্ত্বিক ব্যুরোর কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ২০২৫ সালের শেষের দিকে এই গুরুত্বপূর্ণ খনিটি খুঁজে পাওয়ার প্রাথমিক ঘোষণা দেওয়া হয়।
এই বিশাল খনিটি হুনান প্রদেশের পিংজিয়াং (Pingjiang) কাউন্টিতে অবস্থিত। প্রাথমিক প্রাক্কলন অনুযায়ী, এখানে ১০০০ মেট্রিক টনেরও বেশি স্বর্ণ সঞ্চিত রয়েছে, যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৮৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। প্রায় ৬৫ কিলোমিটার দীর্ঘ অনুসন্ধানমূলক ড্রিলিং বা খননকার্যের মাধ্যমে ভূগর্ভের প্রায় ২০০০ মিটার গভীরে এই খনিজ স্তরের অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়েছে। সেখানে ৪০টি পৃথক স্বর্ণের শিরায় প্রায় ৩০০ টন স্বর্ণের মজুদ প্রমাণিত হয়েছে। এই আবিষ্কারটি দক্ষিণ আফ্রিকার বিখ্যাত 'সাউথ ডিপ' (South Deep) খনিকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রাখে, যেখানে ২০১৮ সালের তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৩২.৮ মিলিয়ন আউন্স স্বর্ণের মজুদ ছিল।
এই খনির আকরিকের অসাধারণ মান বিশেষজ্ঞদের বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এখানে প্রতি টন আকরিক থেকে প্রায় ১৩৮ গ্রাম পর্যন্ত স্বর্ণ পাওয়া যাচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানের তুলনায় অত্যন্ত বেশি। সাধারণত উচ্চমানের খনিগুলোতে প্রতি টনে ১০ গ্রামের বেশি স্বর্ণ থাকে না। ড্রিলিংয়ের সময় বেশ কিছু নমুনা বা কোরে খালি চোখেই স্বর্ণের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে, যা এই খনির উচ্চ ঘনত্বের প্রমাণ দেয়। এই গবেষণায় ত্রিমাত্রিক (3D) ভূতাত্ত্বিক মডেলিংয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে।
এই প্রকল্পটি সরাসরি সরকারি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে, যার সমন্বয় করছে 'হুনান মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ' (Hunan Mineral Resources Group)। ২০২৪ সালে প্রদেশের কৌশলগত খনিজ সম্পদ তদারকির জন্য এই রাষ্ট্রীয় সংস্থাটি গঠন করা হয়েছিল। আকরিকের মান অত্যন্ত উন্নত হওয়ায় এটি প্রক্রিয়াজাত করার খরচ বিশ্বের অন্যান্য অনেক খনির তুলনায় অনেক কম হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা ১০০০ টনের এই বিশাল পরিসংখ্যান নিয়ে কিছুটা সতর্কতা অবলম্বন করছেন। তাদের মতে, বর্তমানে প্রমাণিত ৩০০ টন স্বর্ণের মজুদই বেশি বাস্তবসম্মত এবং ১০০০ টনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে আরও বিস্তারিত শ্রেণিবিন্যাস প্রয়োজন। এছাড়া চীনের খনিজ সম্পদ রিপোর্টিং মানদণ্ড কানাডার NI 43-101 বা অস্ট্রেলিয়ার JORC-এর মতো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে। তাই এই আবিষ্কারের সত্যতা যাচাইয়ে স্বাধীন পর্যালোচনার গুরুত্ব রয়েছে।
এই আবিষ্কারের প্রেক্ষাপটে চীনের অভ্যন্তরীণ স্বর্ণ উৎপাদন বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালে দেশটির মোট উৎপাদন ছিল ৩৭৭.২৪ টন, যা ২০২৩ সালের তুলনায় ০.৫৬ শতাংশ বেশি। ২০২৪ সালের শেষ নাগাদ চীনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের স্বর্ণের মজুদ দাঁড়িয়েছে ২২৭৯.৫৭ টনে, যা দেশটিকে বিশ্বের ষষ্ঠ বৃহত্তম স্বর্ণের মজুদদার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে ওয়াঙ্গু খনি থেকে কবে নাগাদ বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হবে এবং এর পরিবেশগত প্রভাব কেমন হবে, সে সম্পর্কে এখনও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
1 দৃশ্য
উৎসসমূহ
Economistas.gr
Current time information in CN
Cryptopolitan
The Daily Galaxy
The Times of India
এই বিষয়ে আরও খবর পড়ুন:
আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।
