ভারত ও শ্রীলঙ্কার মৈত্রীর নতুন দিগন্ত: ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী সহায়তা ও বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষ প্রদর্শনী

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

২০২৬ সালের ৪ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত শ্রীলঙ্কার কলম্বোর ঐতিহাসিক গঙ্গারামায়া মন্দিরে গৌতম বুদ্ধের পবিত্র দেহাবশেষের এক বিশেষ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। এই পবিত্র নিদর্শনগুলো ভারতের গুজরাট রাজ্যের দেবনিমোরি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। ২০২৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রপতি অনুরা কুমারা দিশানায়েকে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় এই প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন। মূলত ২০২৫ সালের এপ্রিলে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শ্রীলঙ্কা সফরের সময় গৃহীত দ্বিপাক্ষিক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতেই এই আয়োজন সম্পন্ন হয়, যা দুই প্রতিবেশী রাষ্ট্রের গভীর অংশীদারিত্বকে আরও সুসংহত করেছে।

ইতিহাসে এই প্রথমবার ভারতের সীমানা পেরিয়ে এই পবিত্র দেহাবশেষগুলো আন্তর্জাতিক স্তরে প্রদর্শিত হলো। ভারত ও শ্রীলঙ্কার মধ্যে বিদ্যমান প্রায় ২৫০০ বছরের পুরনো আধ্যাত্মিক ও সভ্যতাগত সম্পর্ককে এই সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও দৃঢ় করেছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই মহতী উদ্যোগের জন্য রাষ্ট্রপতি দিশানায়েকেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, এই পবিত্র নিদর্শনের উপস্থিতি দুই দেশের জনগণের মধ্যে বিদ্যমান অবিচ্ছেদ্য আত্মিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধনেরই বহিঃপ্রকাশ।

এই সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এমন এক সময়ে ঘটছে যখন ভারত শ্রীলঙ্কার প্রতিটি সংকটে 'প্রথম সাড়াদানকারী' দেশ হিসেবে তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করে চলেছে। ২০২২ সালের চরম অর্থনৈতিক সংকটের সময় ভারত প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলারের ঋণ সুবিধা, অনুদান ও মানবিক সহায়তা প্রদান করেছিল। এরপর ২০২৫ সালের নভেম্বরের শেষে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড় 'দিতওয়া' আঘাত হানলে ভারত পুনরায় দ্রুত সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেয়। ২৮ নভেম্বর ২০২৫ থেকে শুরু হওয়া 'অপারেশন সাগর বন্ধু'-র আওতায় ভারত ৩০০ টনেরও বেশি জরুরি ত্রাণ সামগ্রী পাঠায়। এর মধ্যে ছিল বিশেষায়িত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল এবং 'ভীষ্ম' (BHISHM) মডুলার ট্রমা কিউবের মতো অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম।

ঘূর্ণিঝড় পরবর্তী পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় ভারতের প্রকৌশলগত ও কারিগরি সহায়তা ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাসে ভারতীয় সেনাবাহিনী বি-৪৯২ (B-492) মহাসড়কে ১২০ ফুট দীর্ঘ একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণ সম্পন্ন করে। এর আগে জাফনা ও ক্যান্ডি অঞ্চলেও ভারত সফলভাবে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ করেছিল। এই নতুন অবকাঠামোটি ক্যান্ডি ও নুয়ারা এলিয়া জেলার মধ্যে সংযোগকারী প্রধান সড়ক পথটি পুনরায় সচল করতে সক্ষম হয়েছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত জরুরি ছিল।

বর্তমানে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে অর্থনৈতিক সহযোগিতা। ২০২৫ সালে ভারত শ্রীলঙ্কার প্রায় ৯৩১ মিলিয়ন ডলারের ঋণ পুনর্গঠন করে দেশটির ঋণের বোঝা লাঘবে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা আনয়নে সহায়তা করেছে। বর্তমানে শ্রীলঙ্কায় মোট সরাসরি বৈদেশিক বিনিয়োগের (FDI) প্রায় ৫০ শতাংশই আসে ভারত থেকে, যা দুই দেশের গভীর অর্থনৈতিক সংহতির প্রমাণ দেয়। শ্রীলঙ্কা যখন পুনর্গঠনের পথে এগিয়ে চলেছে, তখন বুদ্ধের দেহাবশেষ প্রদর্শনীর মতো আধ্যাত্মিক উদ্যোগ এবং সংকটের মুহূর্তে ভারতের অকৃত্রিম সংহতি উভয় জাতির জন্য এক সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল ভবিষ্যতের পথ প্রশস্ত করছে।

10 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • Asianet News Network Pvt Ltd

  • The Free Press Journal

  • DD News

  • Press Information Bureau (PIB)

  • News 1st

  • Indian Express

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।