গ্রিন×এক্সপো ২০২৭: ইয়োকোহামা কাস্টমস কর্তৃক কর অব্যাহতি এবং বিশেষ প্রশাসনিক সুবিধা প্রদান

সম্পাদনা করেছেন: Svetlana Velgush

আন্তর্জাতিক উদ্যানতত্ত্ব প্রদর্শনী 'গ্রিন×এক্সপো ২০২৭' (GREEN×EXPO 2027) আয়োজনের লক্ষ্যে ইয়োকোহামা কাস্টমস একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ধাপ সম্পন্ন করেছে। কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রদর্শনীর জন্য একটি 'কাস্টমস বন্ডেড এক্সিবিশন জোন' বা বিশেষ শুল্কমুক্ত এলাকা তৈরির অনুমোদন প্রদান করেছে। ২০২৬ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি ইয়োকোহামা কাস্টমসের প্রধান কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে এই সংক্রান্ত একটি আনুষ্ঠানিক সনদ হস্তান্তর করা হয়। উল্লেখ্য যে, এই বিশেষ প্রশাসনিক মর্যাদাটি ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি থেকেই কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে, যা আয়োজকদের জন্য বড় ধরনের স্বস্তি নিয়ে এসেছে।

এই অনুমোদিত বিশেষ মর্যাদা ২০২৬ সালের ১ মার্চ থেকে ২০২৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত বলবৎ থাকবে। এই দীর্ঘ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে যাতে প্রদর্শনীর প্রাথমিক প্রস্তুতিমূলক কাজ থেকে শুরু করে ইভেন্ট পরবর্তী স্থাপনা অপসারণের কাজগুলো নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। এই বিশেষ সুবিধার ফলে আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণকারীরা কোনো ধরনের আমদানি শুল্ক বা ভোগ কর (Consumption Tax) পরিশোধ ছাড়াই তাদের মূল্যবান প্রদর্শনী সামগ্রী জাপানে নিয়ে আসার সুযোগ পাবেন। এর ফলে বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর ওপর থেকে লজিস্টিক এবং আর্থিক বড় ধরনের বোঝা লাঘব হবে। গ্রিন×এক্সপো অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব ইয়াতসুয়ামা ইয়োকোহামা কাস্টমসের প্রধান জনাব ইকেনোর হাত থেকে এই গুরুত্বপূর্ণ সনদটি গ্রহণ করেন।

২০২৭ সালের ১৯ মার্চ থেকে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিতব্য এই গ্রিন×এক্সপো ২০২৭ একটি 'এ১' (A1) শ্রেণির আন্তর্জাতিক প্রদর্শনী হিসেবে স্বীকৃত। এটি ইন্টারন্যাশনাল অ্যাসোসিয়েশন অফ হর্টিকালচারাল প্রডিউসারস (AIPH) দ্বারা অনুমোদিত এবং ব্যুরো ইন্টারন্যাশনাল ডেস এক্সপোজিশনস (BIE) দ্বারা আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি লাভ করেছে। ১৯৯০ সালে ওসাকায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক পুষ্প প্রদর্শনীর দীর্ঘ ৩৭ বছর পর এটি জাপানে আয়োজিত প্রথম এ১ শ্রেণির উদ্যানতত্ত্ব প্রদর্শনী হতে যাচ্ছে। এই বর্ণাঢ্য আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় বা থিম নির্ধারণ করা হয়েছে 'সুখের জন্য ভবিষ্যতের ল্যান্ডস্কেপ' (Scenery of the Future for Happiness), যা মানবজাতির কল্যাণে প্রকৃতির গুরুত্বকে তুলে ধরবে।

এই প্রদর্শনীর মূল কেন্দ্রস্থল হিসেবে ইয়োকোহামার কামিসেয়া নামক একটি প্রাক্তন যোগাযোগ কেন্দ্রের প্রায় ১০০ হেক্টর এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। এই বিশাল ভূখণ্ডটি এক সময় মার্কিন সশস্ত্র বাহিনী ব্যবহার করত, যা পরবর্তীতে ২০১৫ সালে জাপান সরকারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। ১৮৫৯ সালে ইয়োকোহামা বন্দর খোলার পর থেকেই এই শহরটি আন্তর্জাতিক উদ্যানতত্ত্ব বাণিজ্যের একটি অন্যতম প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এই প্রদর্শনীর মাধ্যমে আয়োজকরা জাপানি উদ্ভিদ সংস্কৃতি এবং আধুনিক ল্যান্ডস্কেপ ডিজাইনের অনন্য উৎকর্ষ বিশ্ববাসীর সামনে নতুন করে তুলে ধরতে চান। আয়োজক কর্তৃপক্ষ আশা করছেন যে, এই বিশাল ইভেন্টে ১০ মিলিয়নেরও বেশি দর্শক টিকিট ক্রয় করে অংশগ্রহণ করবেন।

প্রদর্শনীর সার্বিক প্রস্তুতি ও লজিস্টিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে ২০২৬ সালের ১৯ মার্চ থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, যা মূল উদ্বোধনের ঠিক এক বছর আগের সময়কে চিহ্নিত করে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বেশ কয়েকটি প্রভাবশালী দেশ ইতিমধ্যে এই প্রদর্শনীতে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে। ২০২৪ সালের মার্চ মাসে চূড়ান্ত করা এই অ্যাসোসিয়েশনের স্থায়িত্বশীল উন্নয়ন কৌশলটি মূলত প্যারিস জলবায়ু চুক্তি এবং কুনমিং-মন্ট্রিল জীববৈচিত্র্য কাঠামোর লক্ষ্যমাত্রার ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে। পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব কমাতে এবং কার্বন নিঃসরণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখতে এখানে 'গ্রিন সাইক্লিক আর্কিটেকচার' বা সবুজ চক্রাকার স্থাপত্য পদ্ধতি ব্যবহারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

2 দৃশ্য

উৎসসমূহ

  • 読売新聞オンライン

  • 横浜税関

  • Mapion

  • PR TIMES

  • 横浜園芸博 Info & Navi

  • 横浜市

আপনি কি কোনো ত্রুটি বা অসঠিকতা খুঁজে পেয়েছেন?আমরা আপনার মন্তব্য যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেচনা করব।