ইন্দোনেশিয়ায় ক্রমবর্ধমান বিক্ষোভ ও সহিংসতার পরিপ্রেক্ষিতে, বাইটড্যান্সের মালিকানাধীন টিকটক তাদের লাইভ ফিচারটি সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। গত ৩০শে আগস্ট, ২০২৫ তারিখে কোম্পানিটি এই ঘোষণা দেয়, যা দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়া অস্থিরতা এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রতিক্রিয়ায় নেওয়া হয়েছে।
এই বিক্ষোভের সূত্রপাত ঘটে ২৫শে আগস্ট, ২০২৫ তারিখে, যা মূলত আইনপ্রণেতাদের বেতন বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলোকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছিল। তবে, ২৮শে আগস্ট, ২০২৫ তারিখে পুলিশি গাড়ির ধাক্কায় আফফান কুরনিয়াওয়ান নামের এক মোটরসাইকেল চালকের মৃত্যুর ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তোলে। এই মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার করে এবং বিক্ষোভগুলো জাকার্তা ছাড়িয়ে সুরাবায়া, মাকাসার, বালি ও লombokের মতো একাধিক শহরে ছড়িয়ে পড়ে। মাকাসারে বিক্ষোভের সময় সরকারি ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় অন্তত তিনজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
দেশের এই অস্থিরতার মুখে, ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রাবোও সুবিয়ান্তো চীনে তার পরিকল্পিত সফর বাতিল করেছেন। তিনি দেশে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং সমাধানের পথ খুঁজতে চেয়েছেন। একই সাথে, ইন্দোনেশিয়ার সরকার টিকটক এবং মেটার মতো সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিনিধিদের ডেকে পাঠিয়েছে। তাদের কাছে প্ল্যাটফর্মগুলোতে ভুল তথ্য ও বিদ্বেষমূলক প্রচারণার বিস্তার রোধে কন্টেন্ট মডারেশন জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষ করে, ডিপফেক ভিডিও এবং পুরনো দাঙ্গার ফুটেজকে নতুন ঘটনা হিসেবে প্রচার করার মতো বিষয়গুলো জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টিতে ভূমিকা রেখেছে বলে সরকার মনে করছে।
ইন্দোনেশিয়ায় টিকটকের ব্যবহারকারীর সংখ্যা ১০০ মিলিয়নেরও বেশি, যা এটিকে দেশের অন্যতম প্রভাবশালী প্ল্যাটফর্মে পরিণত করেছে। কোম্পানিটি তাদের প্ল্যাটফর্মে একটি নিরাপদ ও সুস্থ পরিবেশ বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে এবং কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনকারী কন্টেন্ট অপসারণের কাজ অব্যাহত রেখেছে। লাইভ ফিচার স্থগিত করার এই সিদ্ধান্তটি একটি সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা এই উত্তেজনাকর সময়ে তথ্যের প্রবাহকে আরও দায়িত্বশীলভাবে পরিচালনা করার একটি প্রয়াস। টিকটকের এই পদক্ষেপটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির উপর ক্রমবর্ধমান চাপ এবং জনজীবনে তাদের প্রভাবের একটি প্রতিফলন। বিশেষ করে যখন কোনো সমাজে অস্থিরতা দেখা দেয়, তখন লাইভ স্ট্রিমিংয়ের মতো রিয়েল-টাইম কন্টেন্ট মডারেশনের ক্ষেত্রে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। এই পরিস্থিতি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়, যেখানে তারা তথ্যের স্বচ্ছতা এবং জননিরাপত্তার মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করছে।