মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাণিজ্য যুদ্ধ বিটকয়েন মাইনিং শিল্পে গভীর প্রভাব ফেলছে। মার্কিন কাস্টমস এবং বর্ডার প্রোটেকশন (CBP) কর্তৃক আরোপিত শুল্ক মার্কিন মাইনিং কোম্পানিগুলির জন্য উল্লেখযোগ্য ঋণ ঝুঁকির কারণ হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুসারে, মার্কিন-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা অব্যাহত থাকায়, মাইনিং কোম্পানিগুলি জটিল শুল্ক এবং শুল্ক পরিবেশের মধ্যে কাজ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক নীতির কারণে, চীন-নির্মিত মাইনিং সরঞ্জামগুলির উপর ৫৭.৬% শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, যেখানে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া এবং থাইল্যান্ড থেকে আমদানিকৃত পণ্যের উপর ২১.৬% শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। এই শুল্কগুলি মূলত আমদানি করা যন্ত্রাংশের উপর প্রযোজ্য, যা পূর্বে ২.৬% শুল্কের আওতায় ছিল।
দুটি প্রধান মার্কিন-ভিত্তিক মাইনিং কোম্পানি, IREN এবং CleanSpark, CBP থেকে নোটিশ পেয়েছে যে তাদের কিছু সরঞ্জাম চীনা উৎপত্তির। CleanSpark $১৮৫ মিলিয়ন ডলারের ঋণ ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে, যেখানে IREN $১০০ মিলিয়ন ডলারের সমতুল্য ঝুঁকির সম্মুখীন। এই শুল্কগুলি কেবল মার্কিন কোম্পানিগুলির উপরই প্রভাব ফেলছে না, বরং আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানকেও দুর্বল করছে।
শুল্ক সংক্রান্ত উদ্বেগের পাশাপাশি, মাইনিং রাজস্ব হ্রাসও শিল্পকে চাপে ফেলছে। নেটওয়ার্ক হ্যাশরেট প্রায় ৬০ স্যাটoshi প্রতি সেকেন্ডে এবং লেনদেন ফি ব্লক পুরস্কারের ১% এর নিচে নেমে এসেছে। এর ফলে, মাইনিং শিল্পের লাভজনকতা কমে যাচ্ছে এবং কোম্পানিগুলি নতুন কৌশল অবলম্বনে বাধ্য হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে, হার্ডওয়্যার প্রস্তুতকারকরাও পাল্টা ব্যবস্থা নিচ্ছে। Bitmain, Canaan, এবং MicroBT-এর মতো চীনা কোম্পানিগুলি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তাদের কার্যক্রম স্থাপন করছে যাতে শুল্কের প্রভাব এড়ানো যায়। Canaan তাদের সদর দপ্তর সিঙ্গাপুরে স্থানান্তর করেছে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নতুন বিনিয়োগ ঘোষণা করেছে, যা বাণিজ্য বাধা অতিক্রম করার একটি স্পষ্ট কৌশল। এই পদক্ষেপগুলি বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে একটি বড় পরিবর্তন আনছে।
এই চ্যালেঞ্জগুলির মধ্যে, Metaplanet, একটি প্রধান বিটকয়েন-সম্পদ কোম্পানি, ২০২৫-২০২৬ সালের জন্য তাদের বিটকয়েন কৌশল ঘোষণা করেছে। কোম্পানিটি ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ ১০,০০০ বিটকয়েন এবং ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ ২১,০০০ বিটকয়েন সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে, যা তাদের বিশ্বের বৃহত্তম বিটকয়েন-হোল্ডিং কোম্পানিগুলির মধ্যে একটি হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করবে। এই লক্ষ্য অর্জনের জন্য, Metaplanet শেয়ার ইস্যু করার মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে।
সংক্ষেপে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন বাণিজ্য যুদ্ধ বিটকয়েন মাইনিং শিল্পকে উল্লেখযোগ্যভাবে প্রভাবিত করছে, যা এই খাতকে নতুন কৌশল এবং পাল্টা ব্যবস্থা অনুসন্ধানে বাধ্য করছে। এই পরিবর্তনগুলি কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই নয়, বিশ্বব্যাপী ক্রিপ্টোকারেন্সি বাজারেও প্রভাব ফেলছে, যা শিল্পকে একটি নতুন পথে চালিত করছে।



