মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে নাইজেরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে ইসলামিক স্টেট (আইএস) সংশ্লিষ্ট লক্ষ্যবস্তুতে একটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করে। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি এই হামলার নির্দেশ দেওয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি এই জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নিরীহ খ্রিস্টানদের নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ আনেন। এই ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাৎক্ষণিক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে।
আফ্রিকার জন্য মার্কিন সামরিক কমান্ড (AFRICOM) সোকোতো রাজ্যে পরিচালিত এই সামরিক অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছে। এই হামলায় আইএসের বেশ কয়েকজন জঙ্গিকে তাদের গোপন আস্তানায় নির্মূল করা সম্ভব হয়। নির্ভরযোগ্য সূত্র অনুযায়ী, গিনি উপসাগরে মোতায়েনকৃত একটি মার্কিন নৌবাহিনীর জাহাজ থেকে এক ডজনেরও বেশি ‘টমাহক’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছিল। এই অভিযানটি নাইজেরিয়ার স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সাথে সমন্বয় করে সম্পন্ন করা হয়। আবার কিছু প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অপারেশনে এমকিউ-৯ ড্রোন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করা হয়, যা উপসাগরীয় অঞ্চলের সামুদ্রিক ঘাঁটি থেকে উৎক্ষেপণ করা হয়েছিল এবং এতে জিপিএস নির্দেশিত ১৬টি উচ্চ-নির্ভুল যুদ্ধাস্ত্র ব্যবহার করা হয়।
সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ দপ্তরটির নাম পরিবর্তনের পর যিনি এখন যুদ্ধের জন্য রাষ্ট্রসচিবের পদে বহাল আছেন, সেই মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিটার হেগসেট এই সামরিক পদক্ষেপকে জোরালো সমর্থন জানান। নাইজেরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইউসুফ তুগ্গার নিশ্চিত করেন যে, নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট বোলা তিনুবুর পূর্ব সম্মতি ও অনুমোদন নিয়েই এই হামলা চালানো হয়েছে। তুগ্গার জোর দিয়ে বলেন যে, এই অভিযানটি ছিল যৌথ প্রচেষ্টা এবং এটি কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের বিরুদ্ধে পরিচালিত হয়নি, বরং নাইজেরিয়ার বহু-ধর্মীয় চরিত্রকে তিনি তুলে ধরেন।
এই সিদ্ধান্তের পটভূমি ছিল নভেম্বর ২০২৫-এ ট্রাম্প প্রশাসনের নাইজেরিয়াকে ধর্মীয় সহিংসতার কারণে 'বিশেষ উদ্বেগের দেশ'-এর তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা। ধারণা করা হচ্ছে, লক্ষ্যবস্তু ছিল সাহেল প্রদেশে অবস্থিত ইসলামিক স্টেটের শাখা (ISSP) অথবা পশ্চিম আফ্রিকার ইসলামিক স্টেটের (ISWAP) সদস্যরা। সোকোতো রাজ্য সরকার যৌথ হামলাকে স্বাগত জানায়। তারা জানায় যে, তাঙ্গাঝা এলাকায় ISWAP এবং অন্যান্য আইএস-সংশ্লিষ্ট জঙ্গিদের লক্ষ্য করেই আঘাত হানা হয়েছিল। প্রাথমিক মূল্যায়নে বেসামরিক নাগরিকের কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
AFRICOM-এর কমান্ডার জেনারেল ডাগউইন অ্যান্ডারসন নাইজেরীয় ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সাথে নিবিড় সহযোগিতার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে, এফডিডি’র লং ওয়ার জার্নালের বিশ্লেষক কালেব ওয়াইসের মতো কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করিয়ে দেন যে, নাইজারের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ইসলামিক স্টেট-সাহেল (ISSP) নামে পরিচিত আইএসের একটি শাখা সক্রিয় রয়েছে এবং তারাই এই অঞ্চলের আক্রমণের জন্য দায়ী। সোকোতোর বিশপ ম্যাথিউ হাসসান কুকাহের মতো নাইজেরিয়ার কিছু ধর্মীয় নেতা অবশ্য এই ধরনের হামলার বিরোধিতা করেন, তাদের মতে, সহিংসতা দিয়ে সহিংসতা দমন করা সম্ভব নয়।
এই পদক্ষেপগুলো ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর সামরিক কার্যকলাপের অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘের সনদের ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার অধিকারের কথা উল্লেখ করেছে, তবুও এই বিমান হামলাগুলো ১৯৭৩ সালের সামরিক ক্ষমতা রেজোলিউশনের অধীনে প্রশ্ন উত্থাপন করেছে। মজার বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন নিজেকে 'শান্তির রাষ্ট্রপতি' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করছিলেন, ঠিক তখনই ডিসেম্বর ২০২৫-এ ইউএস ইনস্টিটিউট অফ পিস-এর নাম পরিবর্তন করে 'ডোনাল্ড জে. ট্রাম্প ইনস্টিটিউট অফ পিস' রাখা হয়। এই সমস্ত ঘটনার মাঝে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কির সাথে ট্রাম্পের একটি বৈঠক ২৮ ডিসেম্বর ২০২৫-এ শান্তি পরিকল্পনা আলোচনার জন্য নির্ধারিত রয়েছে।



