২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার, আমেরিকান এয়ারলাইন্স ভেনেজুয়েলার সাথে সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার ঘোষণা দিয়েছে। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ প্রায় সাত বছরের বিমান চলাচলের বিরতির অবসান ঘটতে যাচ্ছে। এয়ারলাইন্সটি প্রতিদিনের পরিষেবা চালু করার পরিকল্পনা করছে, তবে এই কার্যক্রম শুরু করা সম্পূর্ণভাবে মার্কিন সরকারের চূড়ান্ত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করছে।
এই বিমান চলাচল পুনরায় শুরু করার সিদ্ধান্তটি মূলত ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার আকাশসীমা বাণিজ্যিক ফ্লাইটের জন্য উন্মুক্ত করার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশের পরপরই এসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের সাথে কথা বলেছেন এবং মার্কিন নাগরিকদের ভ্রমণের নিরাপত্তার বিষয়ে তাকে আশ্বস্ত করেছেন। হোয়াইট হাউসের প্রধান ওই দিন শেষ হওয়ার আগেই আকাশসীমা উন্মুক্ত করার জন্য পরিবহন সচিব শন ডাফি এবং সামরিক বিভাগকে নির্দেশ দেন। উল্লেখ্য যে, ২০১৯ সালে এই বিমান চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল এবং ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি মার্কিন সামরিক অভিযানের পর পরিস্থিতি আরও কঠোর হয়, যেখানে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে আটক করা হয়েছিল।
আমেরিকান এয়ারলাইন্স ১৯৮৭ সাল থেকে ভেনেজুয়েলায় কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল এবং ২০১৯ সালের মার্চ মাসে স্থগিত হওয়ার আগ পর্যন্ত এটি ছিল দেশটির বৃহত্তম মার্কিন বিমান পরিবহন সংস্থা। আমেরিকান এয়ারলাইন্সের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার নাটালি পাইপার পারিবারিক পুনর্মিলন এবং ব্যবসায়িক সম্পর্ক উন্নয়নের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাইপার, যিনি ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ওয়ানওয়ার্ল্ড (oneworld) জোটের প্রধান ছিলেন, ২০২৫ সালের ৩ নভেম্বর আমেরিকান এয়ারলাইন্সে এই পদে নিযুক্ত হন।
বিমান চলাচল স্বাভাবিক করার প্রক্রিয়া শুরু হলেও, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার জন্য তাদের 'ভ্রমণ করবেন না' (Do Not Travel) পরামর্শ বহাল রেখেছে। অন্যায়ভাবে আটকে রাখার ঝুঁকি সহ বিভিন্ন বিদ্যমান ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে এই সতর্কতা জারি রাখা হয়েছে। তবে ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) পাইলটদের জন্য আগে জারি করা চারটি সতর্কতা (NOTAMs) প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
মার্কিন প্রশাসন কারাকাসে তাদের পূর্বে বন্ধ হয়ে যাওয়া দূতাবাস পুনরায় চালু করার ইচ্ছার কথা কংগ্রেসকে জানিয়েছে। আশা করা হচ্ছে যে, এই স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়া অর্থনৈতিক সুবিধা বয়ে আনবে, বিশেষ করে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন তেল কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের ক্ষেত্রে। ইউনাইটেড এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এয়ার লাইনস, জেটব্লু, ফ্রন্টিয়ার এবং স্পিরিট এয়ারলাইন্স সহ অন্যান্য প্রধান বিমান সংস্থাগুলোও জানুয়ারির শুরুতে ব্যাপক বাতিলের পর তাদের ফ্লাইট সূচি পুনরুদ্ধারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।




