ইয়েরেভান সম্মেলনে ইউরোপীয় কূটনীতিকরা রাশিয়ার দীর্ঘদিনের মিত্র হিসেবে পরিচিত আর্মেনিয়ার সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক গুণগত পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছেন। এনবিসি রাইট নাউ-এর তথ্যমতে, ইইউ এই অগ্রগতিকে খোলাখুলিভাবে স্বাগত জানিয়েছে এবং এই অঞ্চলের ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা সত্ত্বেও সম্পর্ক আরও গভীর করার প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছে। আর্মেনিয়া যখন তার পররাষ্ট্রনীতির গতিপথ পরিবর্তনের চেষ্টা করছে, ঠিক তখনই এমন একটি ঘোষণা সামনে এল।
দ্য আওয়ার-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সম্মেলনটি ঐতিহাসিক মর্যাদা পেয়েছে: দীর্ঘ সময় পর ইয়েরেভান বিভিন্ন ইস্যুতে ব্রাসেলসের সাথে সরাসরি আলোচনার একটি মঞ্চে পরিণত হয়েছে। আলোচনায় বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার, সংস্কারে সহায়তা এবং ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার সম্ভাব্য বিষয়গুলো স্থান পেয়েছে। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক ইউনিয়নের সদস্যপদ বজায় রেখেও আর্মেনিয়া এখন একই সাথে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সহযোগিতার অতিরিক্ত পথ খুঁজছে।
এখানে উভয় পক্ষের স্বার্থের অভিন্নতা বেশ স্পষ্ট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন দক্ষিণ ককেশাসে তাদের উপস্থিতি বাড়াতে চায় এবং একক কোনো শক্তি কেন্দ্রের ওপর নির্ভরশীলতার বিকল্প প্রস্তাব করছে। অন্যদিকে, আর্মেনিয়া এমন সব বিনিয়োগ, প্রযুক্তি এবং বাজারের নাগাল পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছে যা তাদের অর্থনীতিকে আধুনিক করতে এবং বাহ্যিক অভিঘাত মোকাবিলায় সক্ষমতা বাড়াবে। বিভিন্ন সূত্রের খবর অনুযায়ী, জ্বালানি খাত এবং সুশীল সমাজের উন্নয়নে সহযোগিতার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নিয়ে উভয় পক্ষ ইতিমধ্যেই আলোচনা শুরু করেছে।
আঞ্চলিক ভারসাম্যের উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই রূপান্তরটি ঘটছে। রাশিয়া যখন অন্যান্য দিকে মনোনিবেশ করছে, তখন আর্মেনিয়ার সামনে নিজস্ব কৌশলে এগোনোর কিছুটা সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে প্রথাগত অংশীদারদের সাথে অযথা উত্তেজনা এড়াতে বিভিন্ন একীকরণ প্রকল্পের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য নিরন্তর সতর্কতার প্রয়োজন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোনো বিচ্ছেদ ছাড়াই বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গি বজায় রাখার সক্ষমতার ওপরই ইয়েরেভানের সাফল্য নির্ভর করছে।
অন্যান্য দেশের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায় যে, অগ্রাধিকারগুলো স্পষ্টভাবে নির্দিষ্ট থাকলে একই সাথে একাধিক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মডেলে অংশ নেওয়া সম্ভব। বিদ্যমান চুক্তিগুলো বজায় রেখেও আর্মেনিয়া অবকাঠামো ও শিক্ষার উন্নয়নে ইউরোপীয় সরঞ্জামগুলো ব্যবহার করতে পারে। এই পথ বেছে নেওয়া ঝুঁকি কমাতে এবং দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।
তবে এর কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। ইইউ-র সাথে সম্পর্কের যেকোনো উন্নয়ন মস্কো নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে, তাই প্রতিটি পদক্ষেপই অত্যন্ত সতর্কতার সাথে পরিকল্পনা করতে হবে। সম্ভবত সামনের দিনগুলোর পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিই বলে দেবে এই সমঝোতাগুলো শেষ পর্যন্ত কতটা টেকসই হবে।
সব মিলিয়ে, এই নতুন অংশীদারিত্ব আর্মেনিয়াকে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বহুমুখীকরণের মাধ্যমে নিজেদের সার্বভৌমত্ব আরও শক্তিশালী করার হাতিয়ার তুলে দিচ্ছে।



