যুক্তরাজ্যের চ্যান্সেলর অফ দ্য এক্সচেকার, র্যাচেল রিভস, আসন্ন ২৬শে নভেম্বরের বাজেটের পূর্বে দেশের আর্থিক ভিত্তি সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে কর বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিয়েছেন। গত ৪ঠা নভেম্বর, ২০২৫ তারিখে তিনি স্পষ্ট করেন যে দেশের আর্থিক কাঠামো মেরামত এবং অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবনের জন্য সকল ব্রিটিশ নাগরিককে 'অবদান রাখতে হবে'। এই ঘোষণাটি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে এবং লেবার পার্টির পূর্বের প্রতিশ্রুতি, যেখানে ভ্যাট বা আয়কর বৃদ্ধির সম্ভাবনা বাতিল করা হয়েছিল, তা থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দেয়।
চ্যান্সেলর রিভসের এই বক্তব্যের পরপরই ব্রিটিশ পাউন্ড স্টার্লিং মার্কিন ডলারের বিপরীতে ০.৫৭% হ্রাস পেয়ে $১.৩০৬৬-এ নেমে আসে, যা এপ্রিল মাসের পর সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি। এই বাজার প্রতিক্রিয়া বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সম্ভাব্য কর বৃদ্ধির কারণে অর্থনীতির গতি মন্থর হওয়ার উদ্বেগকেই প্রতিফলিত করে। প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা হ্রাস এবং ডানপন্থী দল 'রিফর্ম ইউকে'-এর উত্থানের প্রেক্ষাপটে এই বাজেট রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থনীতিবিদরা সম্ভাব্য অর্থনৈতিক মন্দা এবং বেকারত্ব বৃদ্ধির বিষয়ে সতর্ক করেছেন, যা ২৬শে নভেম্বরের বাজেটের বিস্তারিত সিদ্ধান্তের গুরুত্বকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
অফিস ফর বাজেট রেসপনসিবিলিটি (OBR) আগামী পাঁচ বছরের জন্য উৎপাদনশীলতার পূর্বাভাস প্রায় ০.৩ শতাংশ পয়েন্ট কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে, যা সরকারের আয়ের উপর বড় প্রভাব ফেলবে। রিভসের এই কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা বৃহত্তর অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং প্রবৃদ্ধি ও সমতার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষার বৃহত্তর লক্ষ্যের অংশ। এই সময়ে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৩.৮% এবং সুদের হার এখনও উচ্চ রয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (IMF)-এর মতো আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তার প্রয়োজনীয়তার জল্পনা সৃষ্টি করেছে।
এই পরিস্থিতিতে, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে কিছু দেশের অর্থনৈতিক কৌশল থেকে শিক্ষা নেওয়া যেতে পারে, যেখানে কম কর হার অর্থনৈতিক বিকাশের অনুঘটক হিসেবে কাজ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, সিঙ্গাপুর তার অনুকূল কর্পোরেট কর হার এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশের জন্য পরিচিত, যেখানে ব্যক্তিগত আয়করের সর্বোচ্চ হার ২২%। একইভাবে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (UAE) ব্যক্তিগত আয়ের উপর শূন্য কর আরোপ করে এবং ২০২৩ সালে মাত্র ৯% কর্পোরেট কর চালু করেছে, যা এটিকে বিনিয়োগকারীদের জন্য এক চুম্বক কেন্দ্রে পরিণত করেছে। এই দেশগুলির অভিজ্ঞতা দেখায় যে, আর্থিক নীতির সঠিক বিন্যাস নাগরিকদের উপর অত্যধিক বোঝা না চাপিয়েও অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি বজায় রেখে সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করতে পারে।




